ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

তামাক কোম্পানির রাজস্ব যুক্তি বিভ্রান্তিকর: ফরিদা আখতার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬  
তামাক কোম্পানির রাজস্ব যুক্তি বিভ্রান্তিকর: ফরিদা আখতার

তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক বিষয় নয়; এটি একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য ইস্যু, যেখানে সব মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন, এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর কার্যকর বাস্তবায়ন বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল।

ফরিদা আখতার বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছড়ানো হয়েছে যে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে। এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তামাক কোম্পানির টাকাতেই দেশ চলে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এই যুক্তিকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “তামাকজনিত রোগের কারণে প্রতিবছর স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সেটি আলোচনায় আসে না। বরং তামাক কোম্পানিগুলো কত রাজস্ব দেয়, সেটিই বার বার সামনে আনা হয়। এতে তামাক ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ব্যয় ও সামাজিক ক্ষতির বিষয়গুলো আড়াল থেকে যায়।”

সরকারি শেয়ার থাকা তামাক কোম্পানির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়, এমন কোনো কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার থাকা যৌক্তিক নয়। বরং জনগণের ক্ষতি রোধে এসব কোম্পানিকে নিষ্ক্রিয় করাই সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত।”

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে তিনি শুধু আইন প্রণয়নেই সীমাবদ্ধ নন; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।”

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল যৌথভাবে সেই রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে বলেও জানান তিনি।

আইন সংশোধনের বিষয়ে ফরিদা আখতার বলেন, “অন্তত এই সরকারের সময়েই যদি কার্যক্রম শুরু করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলো তা এগিয়ে নিতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে জনগণের কল্যাণ চায়, তাদের নির্বাচনের আগেই তামাক নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার জানানো উচিত।”

নির্বাচনি প্রচারে বিনামূল্যে সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য বিতরণের ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলো এ ধরনের সুযোগ নিচ্ছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫-এর সংশোধনী কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিজ নূরজাহান বেগম। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।

এছাড়া সভায় বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের কর্মসূচি পরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

ঢাকা/এএম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়