হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
শরীফ ওসমান হাদি। ফাইল ফটো।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতা চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওএইসিএইচআর-এর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক নোট ভারবাল পাঠিয়েছে। সেই নোটে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এসব তথ্য তুলে ধরে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
পোস্টে আরো বলা হয়েছে, জেনেভায় বাংলাদেশ মিশন থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়েছে, ওএইসিএইচআর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়ামাত্রই তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণয়কে অবহিত করা হবে।
এতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সরকার পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা ওসমান হাদি গত বছরের ডিসেম্বরের ১২ তারিখে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জুলাই যোদ্ধাদের বেশিরভাগই মনে করেন, প্রকৃত আসামিদের ধরতে গড়িমসি করা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে বারবার রাজপথে নেমেছে হাদির গড়া ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের দাবি, জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্ত করে বিচার করা হোক। সেই দাবিতে ৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে বিক্ষোভে নামে পুরো পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তার দুদিনের মাথায় অন্তর্বর্তী সরকার জানাল, ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছে তারা।
ঢাকা/রায়হান/রাসেল