বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ালেন সিইসি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
মঙ্গলবার সকালে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে জয়ী প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করলেন। শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৯টার পর থেকেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদ ভবনে ঢুকতে দেখা যায়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিএনপি ও সমমান দলের ২১২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নেন।
এরপরই জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিএনপির নির্বাচত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসেছেন জোটের নেতারা।
শপথ অনুষ্ঠানের আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়।
সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে প্রকাশ বা গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়ানো হয়। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের।কিন্তু চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতে সংসদ নেই, স্পিকারও নেই। এমনকি ডেপুটি স্পিকারও কারাগারে। তাই এবার শপথ পড়িয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কড়াকড়ি আরোপ করা হয় যান চলাচলে।
আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান। এর মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী একটি নির্বাচিত সরকার গঠন এবং এর যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
ঐতিহ্যগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতা হতো বঙ্গভবনের দরবার হলে। এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রম।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন দেশি ও বিদেশি অতিথি অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি রয়েছেন।
১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এককভাবে ২০৯টিতে জয়ী হয় বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে।
আদালতের নির্দেশনার কারণে দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি। আর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিতকারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো।
ঢাকা/এএএম/ইভা