সংসদ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন ১৩৪৭ প্রার্থী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর মধ্যে বড় একটি অংশই জামানত রক্ষা করতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৩৪৭ জন জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রায় ৬৬ শতাংশই নির্ধারিত ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রাথমিকভাবে প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকার মতো অর্থ প্রার্থীদের জামানত থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই এবার বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জামানত হারানোর ঘটনা ঘটেছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, মাঠপর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে জামানত বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হচ্ছে। তবে দলভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেতে আরো কিছু সময় লাগবে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, যারা প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন তাদের সংখ্যা প্রায় ৭০০ জনের মতো। এসব প্রার্থী চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন করে তাদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত নিতে পারবেন।
এ বিষয়ে ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, “ভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের পর যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে নির্বাচন চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এজন্য আইনে ৪৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা রয়েছে। এই সময়সীমা পার হওয়ার পরই জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।”
তিনি আরো জানান, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ উত্তোলন করবেন না তাদের টাকা সরকারের নির্ধারিত কোডে জমা থাকবে। আর যাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে সেই অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৩ জন। প্রার্থীদের মধ্যে নারী ছিলেন ৮৩ জন—এর মধ্যে দলীয় ৬৩ জন এবং স্বতন্ত্র ২০ জন।এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি সর্বাধিক ২০৯টি আসন পেয়েছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন—প্রতিটি দল একটি করে আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে।
ঢাকা/এমএসবি/এসবি