ঢাকা     শনিবার   ২১ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৮ ১৪৩২ || ১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মেঘলা দিনে ঈদ আনন্দে মুখর নগরবাসী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১১, ২১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১২:০২, ২১ মার্চ ২০২৬
মেঘলা দিনে ঈদ আনন্দে মুখর নগরবাসী

নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদের জামাতে অংশ নেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেন খুশির এই বিশেষ দিনটি।

আরো পড়ুন:

সকালের দিকে কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি দু-এক বৃষ্টির ফোঁটা পড়লেও তাতে ঈদের আনন্দে ভাটা পড়েনি। বরং হালকা বৃষ্টির মধ্যেই অনেককে ছাতা হাতে ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতে করতে দেখা গেছে। নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের দিনটিকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে দ্রুত বাড়ির পথে রওনা হন।

এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করতে শুরু করেন নগরবাসী। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন অনেকে। শিশু-কিশোররা নতুন পোশাক পরে আনন্দে মেতে উঠেছে। তাদের হাসি আর উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহরের অলিগলি।

ঈদের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে সেলফি তোলার প্রবণতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তগুলো ভাগাভাগি করতেও ছিল সমান উৎসাহ।

অন্যদিকে, অনেকেই ঈদের নামাজ শেষে প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতে গেছেন। দান-সদকায় অংশ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেও দেখা গেছে অনেককে। এতে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য—সহমর্মিতা ও মানবিকতা—আরো বেশি ফুটে উঠেছে।

এদিকে, ঘরে ঘরে চলছে ঈদের বিশেষ আয়োজন। গৃহিণীরা সকাল থেকেই ব্যস্ত নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী ও মজাদার খাবার রান্নায়। সেমাই, পোলাও, মাংসসহ বিভিন্ন পদে সাজানো হচ্ছে ঈদের টেবিল। সব মিলিয়ে বলা যায়, হালকা বৃষ্টির মাঝেও রাজধানীর নগরজীবনে ঈদের আনন্দে কোনো কমতি নেই। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলেমিশে নগরবাসী উদযাপন করছেন খুশির এই মহোৎসব।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে এরইমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে, গণমাধ্যম ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজ নিজ কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।

রাজধানীতে প্রতি বছরের মতো এবারও হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বরাবরের মতো এবারও পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, এর পর ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং শেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে নগরীর বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিরা অংশ নেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় একটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা এতে অংশ নেন। এখানেও নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদুল্লাহ হল এবং ফজলুল হক হলের মাঠেও সকাল ৮টায় ঈদের জামাত হয়েছে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেবের ময়দানে, গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে, দক্ষিণ মুগদা, জুরাইন, মগবাজার, মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও বাসাবো, দক্ষিণ বনশ্রী, মহাখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, তিতুমীর কলেজ মাঠ, লালবাগ, গেন্ডারিয়া ও মান্ডা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সহ আশপাশের বিভিন্ন মসজিদেও জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়