ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  চৈত্র ৩১ ১৪৩৩ || ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইনক্লুসিভ সমাজ চাই: সংস্কৃতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৭, ১৪ মে ২০২৬  
ইনক্লুসিভ সমাজ চাই: সংস্কৃতিমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: রাইজিংবিডি ডটকম

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, “সমাজে বিভিন্ন চিন্তা-চেতনার মানুষ থাকে। আমরা বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের, বিভিন্ন সংস্কৃতি, বিভিন্ন জাতিসত্তা সবার মাঝে ঐক্যবদ্ধ একটা ইনক্লুসিভ সমাজ চাই। আমাদের দেশে শান্তি চাই।”

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের আয়োজনে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। 

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা প্রতিবেশীদের সাথেও একইভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে— যার যার স্বার্থ সে সে দেখবে— সেই ভিত্তিতে শান্তি চাই। আমরা বিশ্বাস করি যে, সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আমাদের দেশ শ্রেষ্ঠর আসনে যেতে পারবে।”

তিনি বলেন, “বাংলায় ইবনে বতুতা এসেছিলেন। তিনি তার ভ্রমণবৃত্তান্তে লিখেছেন যে, এ দেশে প্রবেশের হাজারটি দরজা আছে, কিন্তু এখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। কারণ, এখানে এত ঐশ্বর্য, এত সৌন্দর্য, এত প্রাচুর্য ছিল; এ দেশে কেউ আসলে এখান থেকে বের হতে চাইতো না। নানান ঐতিহাসিক কারণে আজ আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। কিন্তু, আমি বিশ্বাস করি, সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারলে আবার আমাদের হৃত ঐশ্বর্য-গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারব।” 

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সরকার বিশ্বাস করে, একটা সমাজে মানুষের আদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে, চিন্তাভাবনার ভিন্নতা থাকতে পারে এবং এটাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক সমাজ। আমাদের দেশের সংস্কৃতির মধ্যে নানা বৈচিত্র্য আছে। এখানে পাহাড়ি সংস্কৃতি, সমতলের সংস্কৃতি, বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী। এখানে নানান রঙের, নানান বর্ণের, নানান ধর্মের লোক বসবাস করে। কিন্তু, তারপরও ঐতিহ্য-ঐশ্বর্যে ভরপুর এই দেশ।”

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়ে।

প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ রেজা। 

ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস গবেষক আশরাফুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীর প্রতীক। 

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ক্ষুদে শিল্পীদের হাতে স্বীকৃতি সনদ তুলে দেন জুরি বোর্ডের প্রধান ও গ্যালারি চিত্রকের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মাহমুদুল হক পল্লব এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম মিল্টন। 

ঢাকা/রায়হান/রফিক 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়