বাজেটে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি বিএনএডিপির
বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল এলায়েন্স ফর ডিসএবিলিটি প্রফেশনালস (বিএনএডিপি)।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনটির সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, মর্যাদা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই। একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য।”
তিনি বলেন, “দেশে লাখো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং চলাচলের ক্ষেত্রে নানা ধরনের বৈষম্য ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের অনেক পরিবারও আর্থিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করছে। তাই বাজেটে প্রতিবন্ধী ভাতা বৃদ্ধি, বিশেষ শিক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এমন একটি বাজেট প্রত্যাশা করি, যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কেবল সহানুভূতির দৃষ্টিতে নয়, বরং সমঅধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
এসময় বাংলাদেশের প্রথম পেশাজীবীভিত্তিক প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক নিউজলেটার ‘একীভূতকরণের আলো’ মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অসংখ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবার প্রতিদিন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য নীরবে সংগ্রাম করছেন। তাদের অনেক গল্প অজানা থেকে যায়, অনেক সাফল্য অপ্রকাশিত থাকে এবং বহু সম্ভাবনা যথাযথ সুযোগের অভাবে হারিয়ে যায়। ‘একীভূতকরণের আলো’ সেইসব গল্প, অভিজ্ঞতা, গবেষণা, উদ্ভাবন, অধিকারচর্চা এবং আশার আলোকে একত্রিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
বিএনএডিপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমরান শোয়েব বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ৩১ দফা জাতীয় দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের সংগঠন বিশ্বাস করে, এই দাবিগুলো কেবল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নয়; বরং একটি অধিক ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক এবং টেকসই বাংলাদেশ গঠনের জন্যও অপরিহার্য। আমরা এই ৩১ দফা দাবিকে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য একটি মুক্তির সনদ হিসেবে অভিহিত করেছি। এটি শুধু একট দাবিপত্র নয়; বরং লাখো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও অধিকারবঞ্চনার প্রতিফলন।
তিনি আরো বলেন, “সরকার, জাতীয় সংসদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পরিবারকে উন্নয়নের প্রান্তে নয়, বরং কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেওয়া হয় এবং ‘Nothing About Us Without Us’ নীতির আলোকে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিবন্ধী অধিকারভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রতিবন্ধী শিশু এবং তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা/রায়হান/শাহেদ
সীমান্তে ৮ পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি