ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা: সংকটের সমাধান কোন পথে

অলোক আচার্য || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:২১, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা: সংকটের সমাধান কোন পথে

অবশেষে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ করার যে আশঙ্কার  কথা শোনা যাচ্ছিল তাই সত্য হয়েছে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের লড়াই হচ্ছে। লড়াই বলতে ইউক্রেন এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই দুই পক্ষে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লোকজন ঘরবাড়ি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে।

প্রশ্ন হলো- এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে? এটা কি কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই সিমাবদ্ধ থাকবে? এই যুদ্ধে কি অন্য কোনো পরাশক্তির যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে? এখন পর্যন্ত যেটুকু জানা গেছে, তাতে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেছেন, যদি দরকার হয় তবে তার দেশের সেনারাও অংশ নেবেন।

যদি এভাবে একের পর এক দেশ সত্যিই মিত্রপক্ষের হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে তাহলে যে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ দেখবে বিশ্ববাসী তাতে ভুল নেই। তবে যারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে তারা জানে যুদ্ধের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কতটা ভয়ঙ্কর হবে। 

এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসছে। কিন্তু তা প্রভাব ফেলতে পারছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্তের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের কোনো দেশের ওপর আরেকটি দেশের এত বড় হামলা এই প্রথম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। পুতিন নিশ্চয়ই ইউক্রেন আক্রমণের আগে সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েছেন। এটা তো স্পষ্ট যে, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে রাশিয়া যখন স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয় এরপর থেকেই যুদ্ধ শুরু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে সেনা পাঠানোর ঘোষণাও দেয় রাশিয়া।

রাশিয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরোধী অন্যান্য দেশ। এমনকি তুরস্কও। পুতিনের ধারণায় ইউক্রেন প্রকৃত রাষ্ট্র নয়। গত সোমবার রাতে দেওয়া পুতিনের ভাষণে বোঝা যায় ইউক্রেন নিয়ে তার চিন্তা-ভাবনা এবং ধারণার স্বরূপ। তিনি ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে মূলত স্বীকৃতি দিতেই দ্বিধা করছেন। প্রকৃতভাবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের ইতিহাস বহু শতাব্দী পুরাতন। তাদের ইতিহাস একে অপরের সাথে জড়িয়ে আছে। দুই দেশের প্রধান ধর্ম এক। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং খাদ্য একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। দেশটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। ১৯৯১ সালে ইউক্রেন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেয়। 

কিন্তু এবার দেশটির স্বাধীনতা কতটা অক্ষুণ্ন থাকবে বলা কঠিন। যদিও রাশিয়া বারবার বলছে ইউক্রেনের স্বাধীনতা হরণ তার মূল লক্ষ্য নয়। এবং এই লক্ষ্যপূরণে তারা সব করবে। তাতে এটা পরিষ্কার যে, আগ্রাসন দীর্ঘদিন এভাবে চললে সাধারণ নাগরিকের প্রাণ যাবে। বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। বিপুল সম্পদ ধ্বংস হবে এবং যার দায় কেউ নেবে না। 

ইউরোপজুড়ে বাজছে যুদ্ধের দামামা। এর মধ্যেই পূর্ব ইউরোপে স্থল এবং বিমান বাহিনী বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ন্যাটো। রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশ দেখে অনুমান করা গিয়েছিল সম্ভাব্য যুদ্ধের ব্যাপারে। এর মধ্যেই নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আর যুদ্ধের অনিবার্য পরিণতি ভোগ করতে শুরু করেছে মানুষ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়তে শুরু করেছে। যা প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। 

এই পরিস্থিতিতে একটাই পথ আছে- তা হলো আলোচনা। যদিও এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে এরকম মনে হচ্ছে না। তারপরও আজকে ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয় দেশই ‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছে। এটিই হলো এখন পর্যন্ত আশার কথা। যদিও কোনো পক্ষই ক্ষমতা প্রদর্শন বন্ধ রাখেনি। রাশিয়া আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। 

পৃথিবীতে এই মুহূর্তে আরও অনেক সমস্যা বিদ্যমান। কিন্তু সেসব সত্ত্বেও সবার চোখ এখন ইউক্রেনের দিকে। এই যুদ্ধের বিকল্প খুঁজছে পশ্চিমা দেশগুলো। কীভাবে রাশিয়াকে চাপে রাখা যায় সে পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশ। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তবে সহসা এই সমস্যার সমাধান মিলবে বলে মনে হয় না। 

লেখক: শিক্ষক ও মুক্তগদ্য লেখক
 

/তারা/ 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়