ঢাকা     শুক্রবার   ০৬ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২১ ১৪৩২ || ১৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বস্তিতে গড়ে উঠেছে ৯ হাজার কোটির অর্থনীতি

ফটো ফিচার ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৩৫, ৬ মার্চ ২০২৬  
বস্তিতে গড়ে উঠেছে ৯ হাজার কোটির অর্থনীতি

ভারতের বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ের মধ্যে রয়েছে আরও একটি ‘মিনি ভারত’। মধ্য মুম্বাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অবস্থিত ধারাবি বস্তি। এর মোট আয়তন ৫২০ একর। তাতে কোনোরকমে মাথা গুঁজে দিন কাটায় ১২ লাখ মানুষ। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

নীল রঙের পলিথিনে ঢাকা হাজার হাজার ঝুপড়ি। তার মাঝেমাঝে ছোট ছোট পাকাবাড়ি। একতলা থেকে দোতলায় উঠতে সিঁড়ি নয়, লোহার মই ভরসা। বিদ্যুৎ, খাবার পানিরও ব্যবস্থা আছে। কিন্তু নিকাশি ব্যবস্থা বলে প্রায় কিছুই নেই। ধারাবির অলিগলিতে আবর্জনা, দুর্গন্ধ নিত্যসঙ্গী। তবে ধারাবি নামে বস্তি হলেও এর অর্থনীতি টেক্কা দিতে পারে ছোটখাটো দেশকেও।

আরো পড়ুন:

 

মধ্য মুম্বাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ধারাবি চলে সমান্তরাল অথচ অঘোষিত অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। তাতেই আসে বাসিন্দাদের মাসের উপার্জন। মূলত চামড়া, বস্ত্র, খাবার এবং মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ধারাবিবাসী। বস্তির মধ্যেই মাটির জিনিস তৈরির কাজ হয়। চামড়া ও বস্ত্রশিল্পের কাজও চলে ধারাবিতে। ভোর থেকে শুরু হয় ধারাবির ব্যবসাকাজকর্ম।

 

চামড়া, জামাকাপড়, প্লাস্টিক, কার্ডবোর্ড, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান, পাউরুটি, মিষ্টি, বিস্কুট, পাঁপড় তৈরি, হরেকরকমের কারখানা রয়েছে ধারাবি বস্তিতে। অন্তত আড়াই লাখ মানুষের রুটিরুজি এই ক্ষুদ্র শিল্পে। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি অর্থনীতির দিক থেকেও যথেষ্ট শক্তপোক্ত। বিশাল এলাকাজুড়ে যে ব্যবসা চলে, তার সরকারি হিসাব পাওয়াও বেশ কঠিন।

 

ধারাবির অর্থনীতি মূলত অসংগঠিত। কোনো সরকারি জনশুমারি বা প্রতিবেদনে এর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে বিশ্বব্যাংক এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মানববসতি কর্মসূচির (ইউএন-হ্যাবিট্যাট) মতো সমীক্ষার অনুমান অনুসারে, ধারাবির বার্ষিক ব্যবসা ১ হাজার কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯ হাজার কোটি রুপির বেশি।

 

মুম্বাইয়ে ভাগ্য গড়তে আসা শ্রমিকদের প্রথম গন্তব্য ধারাবি বস্তি। ধারাবির  ছোট ছোট ঘর, এক কামরার কারখানার গোলকধাঁধার রাস্তা দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিট হাঁটার পরই মনে হবে বের হওয়ার পথ বন্ধ। অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ভ্যান, দমকল, এমনকি খাবারের অ্যাপ ডেলিভারির কর্মীরাও এখানে ঢুকতে ইতস্তত বোধ করেন। বিচিত্র অর্থনীতি-জীবনযাপন ঘিরে দিবারাত্রি সরগরম ধারাবির অলিগলি-উঠোন-রান্নাঘর-দোকানপাট।

 

মুম্বাইয়ের মূল দুই রেললাইন পশ্চিম এবং মধ্য রেলওয়ের মাঝে অবস্থিত ধারাবি বস্তি। মুম্বাই বিমানবন্দর থেকেও এর দূরত্ব খুব বেশি নয়। এমনকি বাণিজ্যনগরীর সবচেয়ে আলোকিত, বর্ণময় বান্দ্রা অঞ্চলও ধারাবি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে। এককালে খাঁড়ি অঞ্চল ভরাট করে তৈরি হয়েছে এটি।  এখানকার ঘরবাড়ি টিন, কাঠ, পাথর, সিমেন্ট দিয়ে তৈরি। এসব খুপরির ভাড়াও চড়া।

 

এখানে ঘর ভাড়া নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কোনো সিলমোহর দরকার হয় না। এ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতেও আসেন না। ১০০ বর্গফুটের সাধারণ ঘরের ভাড়া শুরু তিন হাজার রুপি থেকে। সাত হাজার রুপির ঘরও এখানে রয়েছে। তবে ধারাবিতে ব্যবসা চালাতে গেলে এই টাকায় ঘর পাওয়া সম্ভব নয়।

 

ধারাবির এক চামড়া ব্যবসায়ী ভারতীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ বর্গফুটের ঘরের জন্য মাসে দেড় লাখ রুপি ভাড়া দিতে হয়। আর ৩ হাজার বর্গফুটের দোকান বা কারখানার ভাড়া পাঁচ লাখ রুপি। পায়রার খোপের মতো ঘরে মবিল, চামড়া, আঠা, কাবাব, পাঁপড়, কর্পূরের মতো বিচিত্র গন্ধের সহাবস্থান। সব মিলিয়ে ধারাবিতে ছোট ছোট শিল্পের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি।

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়