ঢাকা     রোববার   ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১২ ১৪৩০

ইসলামী আন্দোলনের সংলাপে একজোট আন্দোলনরত নেতারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২৪, ২৮ নভেম্বর ২০২৩  
ইসলামী আন্দোলনের সংলাপে একজোট আন্দোলনরত নেতারা

সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ‘বিদ্যমান সংকটময় পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সংলাপ’ এ হাজির হয়েছেন আন্দোলনরত বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর শীর্ষনেতারা। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় পনের দলের নেতাকর্মীর মিলনমেলা ঘটে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন চাঙা করতেই একজোট হন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে দলটির সংলাপে এই চিত্র দেখা গেছে। এর আগে চরমোনাইপীরের এই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে এত সুসম্পর্ক দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মাঠে দলটির নেতারা নারী নেতৃত্ব হারাম উল্লেখ করে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। একইভাবে আকিদাগতভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীরও সমালোচনা করে গেছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই প্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে  আন্দোলনরত বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোকে একজোট করার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার বিরোধী বৃহত্তর ফ্লাটফরম গড়ে তুলতে চায় ইসলামী আান্দোলন।

রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সাথে ইসলামী আন্দোলনের জাতীয় সংলাপে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তার ডাকে সাড়া দিয়ে সংলাপে উপস্থিত হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল,  জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসানাত আব্দুল্লাহ কাইয়ূম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান নিজু, এবি পার্টির মহাসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন, সম্মিলিত ওলামা ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ এনডিপির মহাসচিব ড. শাহাদাত হোসেন সেলিম, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, নাগরিক ঐক্যের মহাসচিব শহিদুল ইসলাম কায়সার, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, এনপিডির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বিশিষ্ট গবেষক ড. গোলাম মাওলা রনি, বিএফইজে এর সভাপতি এম. আব্দুল্লাহ, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার প্রমুখ।

জাতীয় সংলাপে ১১ দফা দাবি এবং ৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের অনেক চড়াই-উৎড়াই হলেও এবারের সমস্যা অতীতের যেকোনো সমস্যার চেয়ে জটিল ও বহুমাত্রিক। দেশ আক্ষরিক অর্থেই গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। তিনি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ৩টি প্রস্তাব তুলে ধরেন। যা হলো, বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত একতরফা তফসিল বাতিল করে গ্রেফতারকৃত বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বর্তমান বিতর্কিত পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। কার্যকরি সংসদ, রাজনৈতিক সংহতি এবং শতভাগ জনমতের প্রতিফলনের জন্য পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন প্রবর্তন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, চরমোনাইপীরের এই সংলাপ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্দোলনরত বিরোধীদলগুলো এখানে উপস্থিত, এটা একটা বিশাল শক্তি। সরকারের জুলুম নির্যাতন আমাদেরকে এক হতে সহায়তা করেছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ইসলামী আন্দোলনের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ, তফসিলের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং একতরফা নির্বাচন বাতিলের দাবিতে অব্যাহত আন্দোলন করায় আমাদের আবেগ ও শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে। আমাদের সংশয়কে পীর সাহেব ভুল প্রমাণিত করে দিলেন। আপনাদের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমত তৈরি হয়ে গেছে। এখন সম্মিলিতভাবে ডাক দিলে সরকারের অস্থিত্ব থাকবে না। সরকারের পতন সময়ের ব্যবধান মাত্র।

বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, আজকের সংলাপের বক্তব্যে নীতিগতভাবে সকলেই একমত। কাক কাকের গোশত খায় না। অথচ আওয়ামী লীগ নিজ দলের প্রার্থীদের ডামি প্রার্থী দিয়ে কাকের গোশত খাওয়া শুরু করেছে। বিরোধীদলগুলোকে বাইরে রেখে নির্বাচন চরম বেঈমানি।

দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ‘সংলাপ’ এ বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানি, সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন প্রমুখ।

/নঈমুদ্দীন/এসবি/

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়