ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘সুদের’ তথ্য নিয়ে মুফতি তাহেরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রতিবাদ

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৩২, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২৩:৩৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
‘সুদের’ তথ্য নিয়ে মুফতি তাহেরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, প্রতিবাদ

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট-সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। ফাইল ফটো।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত ও বৃহত্তর সুন্নি জোট-সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর বিরুদ্ধে ‘সুদ খাওয়া’র ভুল তথ্য নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রিমহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট এই অভিযোগ তুলে এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান রেখেছে দলটি।

আরো পড়ুন:

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মিডিয়া সেলের পক্ষে দপ্তর সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাকিমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম অনুযায়ী দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামার ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে ‘আয়ের উৎস’ শিরোনামের ৪ নম্বর ক্রমিকে শেয়ার/বন্ড/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত/সুদ- এই পাঁচটি খাত একত্রে লেখার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই ফরমে আলাদা আলাদা খাত নির্বাচন বা পৃথকভাবে চিহ্নিত করার কোনো সুযোগ নেই। অতএব, উল্লিখিত খাতসমূহের যেকোনো একটি বা একাধিক উৎস থেকে আয় থাকলে নির্ধারিত ঘরে সম্মিলিত মোট অঙ্ক লেখা আইনসম্মত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ওই ঘরে ২২,৮৯২ টাকা আয় প্রদর্শন করেছেন, যা শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা ব্যাংক আমানত থেকে প্রাপ্ত আয়ও হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই, নির্ভরযোগ্য দলিল বা আইনসম্মত অনুসন্ধান ব্যতিরেকে শুধু ‘সুদ’ শব্দটিকে আলাদা করে উপস্থাপন করে এটিকে সুদের আয় হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণরূপে অনুমাননির্ভর, ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষপ্রসূত অপপ্রচার; যা প্রচলিত আইন ও সাংবাদিকতার নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সুদের ব্যাখ্যায় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের অ্যাকাউন্টে আমানত বিদ্যমান থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম অনুযায়ী কোথাও ‘মুনাফা’, কোথাও ‘ইন্টারেস্ট’ অথবা কোথাও ‘সুদ’ নামে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক যুক্ত হয়, যা একটি সাধারণ ও প্রচলিত আর্থিক বাস্তবতা। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে রঙিন ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ও ব্যক্তিকে হেয় করার উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি তথ্য সন্ত্রাসের শামিল।

ইসলামী ফ্রন্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, একই নির্বাচনি হলফনামার একই কলামে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু প্রার্থীর আয়ের তথ্য বিদ্যমান রয়েছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনে অন্য একটি ইসলামী দলের প্রার্থী কর্তৃক উক্ত কলামে ৬৩,৪৭১ টাকা আয় প্রদর্শিত হলেও তার ক্ষেত্রে কোনো  সংবাদমাধ্যম কর্তৃক প্রশ্নবিদ্ধ, বিভ্রান্তিকর বা আক্রমণাত্মক উপস্থাপনা করা হয়নি। পক্ষান্তরে, কেবল আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর ক্ষেত্রেই শব্দের অপব্যবহার ও তথ্যের বিকৃত উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি বিশেষ বর্ণনা নির্মাণের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি এবং এর পেছনে কারা, কী উদ্দেশ্যে ও কোন স্বার্থে সক্রিয়, তা জাতি জানতে চায়।

আবদুল হাকিমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আমরা আইনগতভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, নির্বাচনি হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন, অসম্পূর্ণ বা বাদ পড়লে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। সুতরাং আইন মেনে নির্ধারিত ঘরে আয় উল্লেখ করাকে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রসূত, বিভ্রান্তিকর এবং আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।”

“বর্তমানে ওই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যে দায়িত্বজ্ঞানহীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সংবাদপত্র পরিষদ আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দণ্ডবিধির মানহানি সংক্রান্ত বিধান এবং সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ডের পরিপন্থি,” বলেছেন আবদুল হাকিম।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট সংশ্লিষ্ট সব মহলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সত্য গোপন করে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, শব্দ ও তথ্য সন্ত্রাস এবং ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রাসেল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়