ঢাকা     বুধবার   ১১ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২ || ২১ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রতিদিন সেহেরিতে গ্যাসের ওষুধ খাচ্ছেন? শরীরে যা ঘটতে পারে

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১২, ১১ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৯:৩৫, ১১ মার্চ ২০২৬
প্রতিদিন সেহেরিতে গ্যাসের ওষুধ খাচ্ছেন? শরীরে যা ঘটতে পারে

ছবি: প্রতীকী

অনেকে মনে করেন, সেহেরিতে একটি গ্যাসের ওষুধ খেয়ে নিলে সারা দিন অম্বল বা বুকজ্বালা হওয়ার আশঙ্কা কমে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই ধরনের ওষুধ খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।একসময় দেখা যায়, ওষুধ খেয়েও অম্বলের সমস্যা কমছে না, বরং শরীরে নতুন কিছু সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

গ্যাসের ওষুধ কতটা ক্ষতিকর?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিন খেলে তা হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ওষুধকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI)।

আরো পড়ুন:

এই ওষুধগুলো সাময়িকভাবে অম্বল কমালেও শরীরের পুষ্টি শোষণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। মাসের পর মাস এই ওষুধ খেলে অপুষ্টিজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কিডনির কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এছাড়া দীর্ঘদিন পিপিআই জাতীয় ওষুধ খেলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। ফলে গাঁটে গাঁটে ব্যথা, হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকিও বাড়ে।

যেসব ওষুধ বেশি খাওয়া হয়
হঠাৎ অম্বলের ক্ষেত্রে অনেক সময় লিকুইড অ্যান্টাসিড বেশি কার্যকর। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পিপিআই জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কয়েকটি ওষুধ হলো—

ওমিপ্রাজোল
প্যান্টোপ্রাজোল
ইসোমিপ্রাজোল

এই ওষুধগুলো পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে অম্বল কমায়। কিন্তু পাকস্থলীর স্বাভাবিক অ্যাসিড শুধু অম্বলই নিয়ন্ত্রণ করে না, এটি খাবার হজমে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে।
অ্যাসিডের মাত্রা কমে গেলে শরীরের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার সঠিক নিয়ম
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের চিকিৎসায় সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পিপিআই জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই একবার শুরু করার পর বছরের পর বছর এই ওষুধ খেয়ে যান। কখনও কখনও এটি দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসে পরিণত হয়—যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অম্বলের সমস্যা খুব বেশি হলে প্রতিদিন না খেয়ে টানা দুই–তিন দিন ওষুধ খেয়ে বন্ধ রাখা যেতে পারে। পরে প্রয়োজন হলে এক সপ্তাহ পর আবার খাওয়া যেতে পারে।

হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করলে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিনের বদলে এক দিন অন্তর ওষুধ খাওয়া শুরু করে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়া ভালো।

তবে যাদের হৃদ্‌রোগ রয়েছে বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে নিয়মিত এই ওষুধ খেতে হয়, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।

সূত্র: আনন্দবাজার

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়