রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে করণীয়
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
আধুনিক সময়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ফাস্টফুড নির্ভরতা এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল (LDL) বেড়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকেরা বলেন, কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও এর ভারসাম্য নষ্ট হলেই দেখা দেয় নানা জটিলতা। বিশেষ করে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কোলেস্টেরল সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কোলেস্টেরল কী?
কোলেস্টেরল হলো মোমের মতো চটচটে একটি পদার্থ, যা মূলত লিভার থেকে তৈরি হয় এবং রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। এটি কোষ গঠন, হরমোন তৈরি ও হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তে প্রধানত দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে: (লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন): ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল, যা ধমনীর গায়ে জমে প্লাক তৈরি করে। (হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন): ‘ভালো’ কোলেস্টেরল, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরাতে সাহায্য করে।
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বাড়ার কারণ
১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা LDL বাড়ায়।
২. অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার
বারবার তেলে ভাজা খাবার ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়ায়।
৩. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীরে ফ্যাট জমে এবং HDL কমে যায়।
৪. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা
ওজন বেশি হলে LDL বাড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
৫. ধূমপান ও অ্যালকোহল
এসব অভ্যাস রক্তের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের উপায়
১. স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন
ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
২. ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান
ওটস, গম, ব্রাউন রাইস, শাকসবজি, ফল, বাদাম ও বীজ LDL কমাতে সাহায্য করে।
৩. ভালো ফ্যাট গ্রহণ করুন
পলি ও মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (যেমন অলিভ অয়েল, বাদাম) HDL বাড়াতে সহায়ক।
৪. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করুন
সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, কাঠবাদাম, টোফু ইত্যাদি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
৫. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার বা যোগব্যায়াম করলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
৭. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
পরিস্থিতি গুরুতর হলে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, তাই নিয়মিত চেকআপ জরুরি।
কোলেস্টেরল নিজে ক্ষতিকর নয়, বরং এর ভারসাম্য নষ্ট হওয়াই মূল সমস্যা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে খুব সহজেই রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুস্থ হৃদয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য আজ থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: আনন্দবাজার
ঢাকা/লিপি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবাননে প্রযোজ্য হবে না: নেতানিয়াহু