ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩ || ১০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বইছে প্রতিশ্রুতির বন্যা

দিলারা হোসেন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:০৮, ২১ এপ্রিল ২০১৫   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বইছে প্রতিশ্রুতির বন্যা

দিলারা হোসেন : তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীরা। জোরেসোরেই তারা মাঠে নেমেছেন। ঢালাওভাবে অঙ্গীকার করছেন ঢাকা সিটিকে সাজাবেন স্বপ্নের সিটিতে। মেয়র প্রার্থীরা কেউ কেউ চান ঢাকাকে যানজটমুক্ত নগরী করতে। আবার কেউবা অঙ্গীকার করছেন প্রিয় নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করার।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থীরা। দারিদ্র্য দূরীকরণ, যানজট নিরসন ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ে তোলাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন তারা। নির্বাচনের তারিখ যতো এগিয়ে আসছে প্রচার-প্রচারণায় ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন প্রার্থীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজের পক্ষে ভোট চেয়ে বাড়ি-বাড়ি যাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিল প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চলছে সবার মধ্যেই। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চলছে গণসংযোগ। সব প্রার্থীই ঘুরেফিরে নাগরিকদের সেবায় ঢালাওভাবে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন।

ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছেন তিনি নগরীর পিতা নয়, সন্তান হতে চান। বিপদে আপদে ঢাকাবাসীর সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। সহস্র নাগরিক কমিটির ব্যানারে ‘ইলিশ মাছ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন সাঈদ খোকন। ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচটিতে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। অগ্রাধিকারের পাঁচটি কর্মসূচি হচ্ছে যানজট নিরসন, দূষণমুক্ত নগরী, নাব্য ও নিরাপদ বুড়িগঙ্গা, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ- প্রধান তিন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর মহানগরী এবং দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও নাগরিকজনের নিরাপদ জীবন।

 

মানুষের সেবা ও কল্যাণে প্রয়োজনে তার বাবা প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের মতো জীবন দিয়ে দেবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

 

ঢাকাবাসীকে আলোকিত ও স্মার্ট নগরী উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক। সহস্র নাগরিক কমিটির ব্যানারে `টেবিল ঘড়ি` প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। ঢাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে নিজের ইশতেহারকে `এবার সমাধানযাত্রা` হিসেবে অভিহিত করেছেন। মোট ১১ পৃষ্ঠার নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি ঢাকা শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন-সবুজ-আলোকিত ঢাকা রূপে গড়ে তোলার অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তার ইশতেহারে একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, নারীবান্ধব, নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, যানজটমুক্ত, সচল, মানবিক, স্মার্ট-ডিজিটাল ও অংশগ্রহণমূলক সুশাসিত ঢাকা গড়ার বিষয়গুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, গণপরিবহণ, স্বাস্থ্য ও বিনোদন সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ডিসিসির ক্ষমতার বাইরে সমস্যা বেসরকারি উদ্যাগে সমাধানের ব্যাপারে অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন আনিসুল হক।

 

নাগরিক সেবা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার সমন্বয়ে সবার বাসযোগ্য বিশ্বমানের ঢাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাস। আর এই প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ অগ্রাধিকারভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নাগরিক সেবা সংশ্লিষ্ট ১০টি খাতকে। এর মধ্যে রয়েছে নাগরিক সেবা, নাগরিক বিনোদন, যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাখাত, পরিবেশ উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ঢাকা, সমাজসেবা, জননিরাপত্তা এবং নগর পরিকল্পনা ও প্রশাসনকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।

 

মির্জা আব্বাসের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারের শুরুতে ঢাকার নাগরিক সেবা উন্নয়নকে সবচেয়ে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে। মোট ১৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে এতে পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

 

উত্তর সিটিতে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আদর্শ ঢাকা গড়তে তার নির্বাচনী ইশতেহারে ১০টি দফায় ৫৮টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের মনোনীত ‘বাস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামছেন তিনি। বিনামূল্যে শিশু স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্যে ভেজাল রোধ ও সুলভমূল্যে খাদ্য সরবরাহ, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবহণ, যানজট নিরসন ও যানবাহন সুবিধা, সামাজিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সেবা, জননিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ট্যাক্স আদায়ে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করারও প্রতিশ্রুতি দেন তাবিথ।

 

সব প্রার্থীই ঘুরেফিরে নাগরিকদের সেবায় ঢালাওভাবে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রশাসনিকভাবে যেসব সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা করপোরেশনের হাতে নেই, তা-ও সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা, যানজট, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সমস্যা, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, পরিবেশদূষণ, বুড়িগঙ্গা দূষণ ও দখলমুক্ত করার এখতিয়ারে নেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি)। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ডিসিসির ক্ষমতার বাইরের সমস্যাগুলো বেসরকারি উদ্যোগে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

ইশতেহার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রার্থীদের ইশতেহারে প্রায় একই ধরনের প্রতিশ্রুত লক্ষণীয়। যানজট, জলাবদ্ধতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সমস্যা, সন্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, পরিবেশদূষণ, বুড়িগঙ্গা দূষণ ও দখলমুক্ত করার বিষয়ে সব প্রার্থীর ইশতেহারেই অঙ্গীকার করা হয়েছে।

 

প্রার্থীরা জয়ী হয়ে পাঁচ বছরে তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারবেন এটাই নগরবাসীর দেখার বিষয়।

 

 


রাইজিংবিডি/ঢাকা/২১ এপ্রিল ২০১৫/সন্তোষ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়