Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ৯ ১৪২৮ ||  ১২ জিলহজ ১৪৪২

বছর শেষে ৫জি মোবাইল গ্রাহক ৫৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে

প্রকাশিত: ২০:২২, ১৬ জুন ২০২১  
বছর শেষে ৫জি মোবাইল গ্রাহক ৫৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে

এরিকসনের (ন্যাসড্যাক: ইআরআইসি) ধারণা অনুযায়ী, প্রতিদিন আনুমানিক ১০ লাখ নতুন গ্রাহক বাড়ার মাধ্যমে ২০২১ সালের শেষে ৫জি মোবাইল গ্রাহক ৫৮ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এরিকসন মোবিলিটি প্রতিবেদনের ২০তম সংস্করণের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৫জি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত গ্রাহক বৃদ্ধি পাওয়া মোবাইল জেনারেশন হতে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়, ২০২৬ সালের শেষে ৫জি গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫০ কোটিতে, যা হবে মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ।

তবে, ৫জি প্রযুক্তি গ্রহণ করারা প্রবণতা অঞ্চল অনুসারে ভিন্ন। এক্ষেত্রে, ইউরোপের দেশগুলো ধীরগতিতে এগুচ্ছে। ৫জি সম্প্রসারণের দৌড়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, জাপান ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে আছে ইউরোপ। 

আশা করা হচ্ছে, ৫জি নেটওয়ার্ক ফোরজি এলটিই’র সময়সীমার দুই বছর আগেই শতাধিক কোটি গ্রাহকের মাইলফলক অর্জন করবে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে, শুরু থেকেই ৫জি উন্নয়ন ও বিকাশে চীনের প্রতিশ্রুতি এবং বাণিজ্যিক ৫জি ডিভাইসের সহজলভ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান সাশ্রয়ী মূল্য। ৩শ’র বেশি ৫জি স্মার্টফোন মডেল ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে বা উন্মোচনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 

প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, উত্তর পূর্ব এশিয়া হবে ৫জি গ্রাহকের সবচেয়ে বড় অঞ্চল। ২০২৬ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে আনুমানিক ১৪০ কোটি ৫জি গ্রাহক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকা ও জিসিসি অঞ্চলের বাজার নিয়ে ভাবা হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যবহারকারী এ অঞ্চল থেকে ৫জি সেবা ব্যবহার শুরু করবে, যেখানে  যথাক্রমে সমন্বিতভাবে ৫জি গ্রাহক হবে ৮৪ শতাংশ এবং পুরো অঞ্চলের মোবাইলে সেবা ব্যবহারকারী হবে ৭৩ শতাংশ। 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২০ কোটি ছাড়িয়েছে, যেখানে ৫জি গ্রাহকের সংখ্যা ২০ লাখের কিছু কম। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরগুলোতে ৫জি ব্যবহারের সংখ্যা দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাবে, যা ২০২৬ নাগাদ আনুমানিক ৪০ কোটিতে। এ অঞ্চলে প্রতি স্মার্টফোনে ডাটা ব্যবহারের মাত্রা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি হবে। ২০২৬ নাগাদ প্রতি মাসে একেকটি স্মার্টফোনে ৩৯ জিবি করে ডাটা  ব্যবহৃত হবে, যা বার্ষিক বৃদ্ধির হারের (সিএজিআর) ৩৬ শতাংশ। ৪২ শতাংশ সিএজিআর নিয়ে সে অনুযায়ী বাড়বে মোবাইল ডেটা ট্রাফিক। ৪জি ব্যবহার এবং ৫জি’র কারণে প্রতি স্মার্টফোনে ডেটা ব্যবহার বাড়বে ৩৯ইবি পর্যন্ত।  

এরিকসনের এক্সিটিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব নেটওয়ার্কস ফ্রেডরিক জেজদলিং বলেন, ‘এরিকসন মোবিলিটি রিপোর্টের ২০তম সংস্করণ অনুযায়ী, আমরা ৫জি’র পরবর্তী ধাপে রয়েছি। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাজারগুলোতে ৫জি’র চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখনই সময় ৫জি ব্যবহার বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করার। ব্যবসায়িক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক মহামারি পরবর্তী অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এক্ষেত্রে ৫জি নির্ভর ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

এরিকসন বাংলাদেশের প্রধান আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল যুগে প্রত্যাবর্তনের মূলে রয়েছে মোবাইল প্রযুক্তি। ডিজিটাল ব্যবস্থার উন্নয়নে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে, বিদ্যমান মোবাইল প্রযুক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে ৫জি নেটওয়ার্ক সেবা। এর মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান ডেটা চাহিদা পূরণ করবে এবং সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যাবে দ্রুতগতির ইন্টারনেট। এই সুবিধাগুলো নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যকেও আরও ত্বরান্বিত করবে।’

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়