মেসিকে অনুসরণ করেই আরও পরিণত সাকিব
সাকিব আল হাসান ও সাংবাদিকদের সম্পর্ক ঠিক বন্ধুবৎসল নয় বলে এই ক্রিকেটারের শুরুর দিকে কথা রটতো। তবে সময়ের সাথে সাথে নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন বাংলাদেশের স্মরণকালের সেরা এই ক্রিকেটার। এখন পরিণতবোধ বজায় রাখার পাশাপাশি দারুণভাবে ঘুছিয়েও কথা বলতে শিখে গেছেন তিনি, এমনটা সাকিবের ঘরণী শিশির থেকে শুরু করে অন্যরাও মেনে নেন।
কিন্তু কীভাবে নিজেকে বদলে ফেললেন সাকিব। জানালেন, নিজের প্রিয় খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে দেখে শিখেছেন অনেক কিছু। বিশ্বের সেরা ফুটবলার হয়েও নিজ দেশ আর্জেন্টিনার ভক্তদের কাছ থেকে গালি হজম করতে হয় মেসিকে। কারণ তাঁর উপর প্রত্যাশা থাকে বেশি। ঠিক একইভাবে তাঁর প্রতিও অধিক প্রত্যাশা করেন বাংলাদেশের মানুষ, এমনটাই মনে করেন সাকিব।
এছাড়া সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। তারা প্রতিনিধি হয়ে মানুষের কথা পৌঁছে দেন খেলোয়াড়দের কাছে। সাকিব মনে করেন মানুষ তার কাছে বেশি প্রত্যাশা করে। ফলে ভক্তদের আশা পূরণ না হলে তারা যে উত্তর গুলো জানতে চাইতো সেসবই সাংবাদিকরা জানতে চান তার কাছে। আর তাই নিজেকে বদলে ফেলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, দেরিতে হলেও বিষয়টি উপলব্ধি হয়েছে তাঁর।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেতে খালেদ মুহিউদ্দীনের সঙ্গে আলাপকালে এই বিষয়গুলো জানিয়েছেন সাকিব।
২০১১ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অল্প রানে (৫৮) অলআউট হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কী আচরণ করেছেন? বা এখন কতটা বদলে গেছেন? সেটা সাকিবের কাছে তুলে ধরতেই সাকিব নিজের জায়গা থেকে বলেন, ‘এখন অনেক ভালো, ২০১১ সাল মানে ৯ বছর আগের কথা। আমার বয়স তখন ২৩-২৪ হবে। ২৩ বছরের একটা ছেলে একটা ওয়ার্ল্ড কাপ টিমের অধিনায়ক, ভুল কিছু হতেই পারে। অস্বীকার করবো না, এগুলা ভুল ভ্রান্তি থাকবেই। যারা অস্বীকার করে তাঁদের ভুলটাই সবচেয়ে বেশি। আমি অস্বীকার করছি না, শিকার করছি।’
এরপর নিজের বদলে যাওয়া নিয়ে আরও যোগ করেন, ‘কৌশলগতভাবে এবং টেকনিক্যালি আমি এখন সংবাদ সম্মেলন অনেক ভালোভাবে সামাল দেই, অনেক পরিণত এবং অনেক ভালো বলতে পারি। যেটা আমি ২০১১-১২, বা ২০১৪ পর্যন্ত পারতাম না। এরপর থেকে ভালো হয়েছে। যতদিন গিয়েছে ভালো হয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রতি সাকিবের এই পরবর্তিত আচরণের শুরুর গল্প বলতে গিয়ে সাকিব আরও বলেন, ‘মেসির খেলা দেখতে দেখতে আপনাদের দিকটা আমি বুঝতে শুরু করেছি। ও দুই একদিন পারফর্ম করতে পারেনি। আর তাতেই আমি বলতাম, কি আজব আজকে এমন করছে কেন? তখন আমি এটা রিয়ালাইজ করি যে, মানুষও তো মেসির মতো আমাদের খেলা দেখতে বসে অনেক আশাভরসা নিয়ে। যখন সেটা হয় না হতাশা থেকে তাঁদেরও এমন কথা বের হয়। সাংবাদিকরা তো মানুষের জিনিষগুলাই তুলে ধরার চেষ্টা করে। তাঁদেরও নিজস্ব মতামত বা প্রশ্ন থাকতে পারে। তারা দেশের বা মানুষের সার্বিক একটা পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করে। মানুষ কি চিন্তা করছে তারা এটা আমাকে বলার চেষ্টা করে।’
দেরিতে হলেও পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন জানিয়ে সাকিব আরও যোগ করেন, ‘আসলে আপনি যখন পাবলিক ফিগার হয়ে উঠবেন। তখন আপনাকে নিয়ে খেলার বাইরের কথা গুলোও আসবে। আমি একটু দেরিতে হলেও বিষয়টি বুঝতে পেরেছি।’
এই প্রসঙ্গে মেসির উদাহরণ টেনে নিজের শেখার বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘আপনি দেখেন, মেসির দেশ আর্জেন্টিনায় তাকে যেভাবে গালি দেওয়া হয়। সেখান থেকে যখন আমি আইডিয়া গুলো নেই। তখন আমি বলি, ঠিকাছে ওর মতো খেলোয়াড়কে যদি এভাবে গালি দেয় তাহলে আমিও দুই একটা গালি না হয় খেলাম। তারমানে আমার উপর মানুষের আশাটাও অনেক বেশি।’
ঢাকা/কামরুল
রাইজিংবিডি.কম