ঢাকা     সোমবার   ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৩ ১৪২৮ ||  ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘৫ উইকেট পেতে ভাগ্যও লাগে’

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ৩ জুলাই ২০২১   আপডেট: ১১:১৪, ৩ জুলাই ২০২১
‘৫ উইকেট পেতে ভাগ্যও লাগে’

অলংকরণ: অপূর্ব আহমেদ সিজার

২০১৩ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথম টেস্টে ৭১ রানে ৬ উইকেট নেন রবিউল ইসলাম শিপলু। পরের টেস্টে ৮৫ রানে ৫টি। দুই টেস্টে ১৫ উইকেট নিয়ে একমাত্র পেসার হিসেবে দেশের বাইরে সিরিজ সেরা তিনি।

এরপর পেরিয়ে গেছে বছরের পর বছর, ম্যাচের পর ম্যাচ। কত পেসার এসেছেন, কতজন ছিটকে গেছেন সেই তালিকাও বেশ লম্বা। কিন্তু সাদা পোশাকে আর ৫ উইকেটের দেখা পাননি বাংলাদেশের কোনো পেসার। 

স্মৃতি ও অর্জনে ভরা সেই সফরের ৮ বছর পর বাংলাদেশ দল আবার জিম্বাবুয়েতে। তাইতো অবধারিত উঠছে ডানহাতি দ্রুতগতির বোলারের নাম। অবসরে যাওয়া এ ক্রিকেটার আম্পায়ারিং নিয়ে কাজ করছেন। মুঠোফোনে সেই সফরের কথা উঠতেই রবিউল খুলে দিলেন কথার ঝাঁপি।  

আপনার পর বাংলাদেশের কোনও পেসার টেস্টে ৫ উইকেট পাননি। শুনে কি অবাক হচ্ছেন?

রবিউল ইসলাম শিপলু: অবাক হওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের এতদিনে তো অনেক ভালো পেস বোলার হয়েছে। তারা ৫ উইকেট পায়নি এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। হয়তো উইকেট পাচ্ছে, কিন্তু ওইভাবে সফল হওয়া বা ৫ উইকেট পাওয়া হচ্ছে না। কিন্তু আমাদের স্কিলফুল পেস বোলার আছে।

এই ৮ বছরে কেউ ৫ উইকেট পায়নি। বিস্মিত নাকি হতাশ?

রবিউল ইসলাম শিপলু: উইকেট পাওয়াটা কিন্তু একটা ভাগ্যেরও বিষয়। হয়তো বা ভাগ্য পাশে নেই পেসারদের। এর আগে পরপর দুই তিনটা সিরিজে রাহী ৪টি করে উইকেট পেয়েছে। ওর ভাগ্য সহায় ছিল না বলেই কিন্তু ৫ উইকেট পাওয়া হয়নি। তাসকিনও টেস্টে ৪ উইকেট পেয়েছে। ওরা কিন্তু ভালো বোলার। ওরা বাদে আরও যারা আছে তাদেরও কিন্তু সামর্থ্য আছে। একটু তো আশ্চর্য হই, এতদিনে অবশ্যই পেস বোলারদের ৫ উইকেট পাওয়া উচিত ছিল। তবে আশাবাদী এখন যারা আছে, তারা ভালো করবে।

কেন পারেননি সেটার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আপনি যদি সামগ্রিকভাবে চিন্তা করেন, এটা কি পেসারদের ব্যর্থতা নয়?

রবিউল ইসলাম শিপলু: না, আমি সেটা মনে করি না। বাংলাদেশ দলে যারাই খেলে তারা কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে জায়গা পাচ্ছে। এখানে কাউকে ছোট করে দেখার কিছুই নেই। বাংলাদেশের এখন যারা পেস বোলার আছে, তারা যথেষ্ট স্কিলফুল। তাদের অনেকেরই টেস্টে ৫ উইকেট নেয়ার সামর্থ্য আছে। কিন্তু ওই যে বললাম, ৫ উইকেট কিন্তু ভাগ্যের ব্যাপার। আরেকটা বিষয় আছে, দেখা যায় কোনও বোলার ৪ উইকেট পেয়েছে, কিন্তু প্রতিপক্ষ ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দিলো।

ঘরোয়া ক্রিকেটে পেসাররা পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পায় না বলেই কী এমন অবস্থা?

রবিউল ইসলাম শিপলু: আবারও বলছি, এখনকার পেসাররা কিন্তু খারাপ না। হয়তো এখনও আপ টু মার্কে যেতে পারেনি। হয়তো বা তাদের চেষ্টাটা আরেকটু বাড়াতে হবে। দেখেন ঘরোয়া ক্রিকেটে কিন্তু ভালো করেই জাতীয় দলে জায়গা পেতে হচ্ছে। টেস্টে দেশের বাইরে আমি একমাত্র, কিন্তু সব মিলিয়ে পেসাররা খুব সম্ভববত ৮ বা ৯ বার ৫ উইকেট পেয়েছে, শাহাদাত ৪ বার, আমি ২ বার, আর মনে করতে পারছি না..। হ্যাঁ, কিছু ভুল তো মাঠে হয়ই। সেই ভুলগুলো যত কম করা যাবে, ততই সাফল্য আরও আসবে।

 

আমরা ৮ বছর আগে ফিরে যাই, ওই দুই টেস্ট নিয়ে কথা বলবো যেখানে আপনি ১৫ উইকেট পেয়েছিলেন। কেমন লাগে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে?

রবিউল ইসলাম শিপলু: আসলে ওই সময়টাকে খুব মিস করি। আসলেই খুব মিস করি। বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষ, সেখান থেকে মাত্র ১৫ জন বাংলাদেশ দলে টেস্ট খেলে। এর থেকে গর্বের তো আর কিছুই হতে পারে না। ওই সময়ের সব কিছুই আমি মিস করি। বিশেষ করে মিস করি বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমটাকে।

বলা হয়ে থাকে, টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের সেরা সাফল্য সেটাই। যদিও ছোট-বড় আরও সাফল্য আছে। কিন্তু আপনার ওই পারফরম্যান্সটাই এখন পর্যন্ত সেরা।

রবিউল ইসলাম শিপলু: আসলে এটা ভাবতে খুব ভালো লাগে, রেকর্ড হয় কিন্তু রেকর্ড ভাঙার জন্যই। অন্য কোনও পেস বোলার এটা এখন করতে পারলে আমার আরও ভালো লাগবে এবং আমি খুবই আশাবাদী এর থেকে বেটার পারফরমেন্স কেউ না কেউ করবে ইনশা আল্লাহ।

দেশের বাইরে একমাত্র পেসার হিসেবে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছিলেন। নিশ্চয়েই গর্ব করার অর্জন?

রবিউল ইসলাম শিপলু: হুম। দেশের বাইরে আমি বাদে কেউ এখনও ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়নি। অবশ্যই এটা আমার সারা জীবনেরই গর্ব করার মতো একটা অর্জন। হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে একটু তো মনে হয়ই, এতদিনেও কেন কেউ পারলো না আরও একবার ৫ উইকেট নিতে, কেন বা কেউ সিরিজ সেরা হতে পারছে না।

সম্প্রতি যেটা দেখা যাচ্ছে, ক্যাচ মিস হবার কারণে পেসাররা ৫ উইকেট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবশেষ টেস্টে তাসকিনের বলে ক্যাচ ড্রপ হয়েছিল। এর আগে রাহীর দুইবার ক্যাচ ছেড়েছিলেন ফিল্ডাররা। ২০১৩ সালে আপনার বোলিংয়ে মুশফিক ক্যাচ ছেড়েছিল। জানতে চাচ্ছি, ক্যাচ মিস করলে কেমন লাগত?

রবিউল ইসলাম শিপলু: ক্যাচ মিস তো আসলে ম্যাচে হতেই পারে। ম্যাচের মধ্যে ক্যাচ মিস আমি করি, আর যেই করুক, কেউ তো আর ইচ্ছা করে ক্যাচ মিস করতে চায় না। যেমন আমার মনে আছ এখনও.. ২০১০ সালে লর্ডসে অভিষেক হয়, ২০১১ সালে জিম্বাবুয়েতে টিম যায়। অথবা ২০১২ তে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে আমাদের একটা টেস্ট ছিলো। প্রথম দিন আমার বলে ইমরুল ক্যাচ ফেলে দিলো। ওটা আমার প্রথম উইকেট হতে পারতো। তো আমার থেকেও বেশি খারাপ বোধহয় ইমরুলেরই লাগছিল। প্রথম দিন কিন্তু আমি অনেক ওভারই বল করেছিলাম, উইকেট পাইনি, ইমরুল আমাকে বলছিলো, তুই তো দারুণ বোলিং করেছিস, দেখ দ্বিতীয় দিন তোর প্রথম উইকেটটা হয়ে যাবে। পরের দিন আমি হ্যামিল্টন মাসাকাদজার উইকেটটা পেয়েছিলাম, এরপর টেইলরের উইকেটটা পেয়েছিলাম। তো ইমরুল কিন্তু বেশ কষ্ট পেয়েছিল। ও আমার কাছে এসে বলেছিলো, দোস্ত.. কিছু মনে করিস না। তো এইটাই, হয়তো কোনও বোলারের ৫ উইকেট হয়নি কোন ক্যাচ মিসের জন্য। এটা যে মিস করেছে তারও কিন্তু ওই বোলারের সমানই খারাপ লাগবে।

আপনার প্রকৃতিপ্রদত্ত আউটসুইং ছিল। আপনার বোলিংয়ের মূল শক্তির জায়গাই ছিল সেটি। সেই আউটসুইংয়ে ব্যাটসম্যানদের পরাস্ত হতে দেখলে কেমন লাগত?

রবিউল ইসলাম শিপলু: আমি কিন্তু বোলিংটা উপভোগ করতাম। আমি বল করছি, ব্যাটসম্যান আমাকে চার মেরেছে বা ছয় মেরেছে, ওটা কিন্তু আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যেতাম। আমি পরের বলে ব্যাটসম্যানকে বিট করাবো কিংবা আউট করবো সেটাই চিন্তা করতাম, আর সবথেকে ভালো লাগতো যখন আউটসুইং বলে ব্যাটসম্যানকে নাচিয়ে ফেলতাম, ড্রিম বল যেটাকে বলা হয়, একটা আউটসুইং বোলারের। সব সময় ম্যাচের আগের দিন ঘুমানোর আগে ১০/১৫ মিনিট চোখ বন্ধ করে নিজের বোলিং করতাম। যেটা বলে ড্রিম বোলিং করা, ব্যাটসম্যানকে বিট করানো, আউট করা, এটা আমি চোখ বন্ধ করে ফিল করতে করতে ঘুমাতাম।

বর্তমান পেসারদের মধ্যে রাহী কিছুটা আউটসুইং করাতে পারেন। তাসকিন নিজের ধার বাড়াচ্ছেন। তাদের অবশ্য বল ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টাটাই বেশি। আউটসুইং নিয়ে আগ্রহ থাকলেও খুব চেষ্টা করেন না তারা। তাদের জন্য কোনো পরামর্শ।

রবিউল ইসলাম শিপলু:  আমি কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই টিমের সঙ্গে জড়িত না বা মাঠের সঙ্গে নেই। কোচিং স্টাফরা কীভাবে ট্রেনিং করায় কিংবা ওরা কীভাবে কী ট্রেনিং করে এটা আমি আসলে জানি না। তবে আমি যতটুকু বুঝি সেখান থেকে বলছি, শুধু আউটসুইং বলে কথা না, আউটসুইং ইনসুইং যেটাই হোক, ব্যাকস্পিনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে পেস বোলারের ব্যাকস্পিন যত ভালো থাকবে, যে যত থিমে হিট করে বল করতে পারবে ব্যাকস্পিনসহ তার সুইংটা তত বেশি থাকবে। এর মধ্যে আবহাওয়াও একটা ফ্যাক্ট। জিম্বাবুয়েতে এখন খুব ভালো আবহাওয়া। আমি যখন ওই ম্যাচগুলো খেলেছি, তখনও এরকম আবহওয়া ছিল। তো এখনকার বোলারদের মধ্যে রাহী ভালো আউটসুইং বোলিং করে, তাসকিনও ভালো আউটসুইং করে, তাসকিনের একটা সুবিধা হচ্ছে তার উচ্চতা ভালো এবং ওর পেস বেশি। তো আমার কাছে মনে হয়, আমাদের এবারের যারা পেস বোলাররা গেছে রাহী বলেন, তাসকিন বলেন, কিংবা শরিফুল নতুন আসছে, শরিফুলও ভালো সুইং করাতে পারে, এবাদতও আছে। তো সবকিছু মিলে মনে হয়, আমাদের এবারের পেস এ্যাটাকটা বেশ ভালোই আছে। যেই খেলুক আমার বিশ্বাস হয়তো বা পেস বোলিং থেকে ভালো কিছু আসবে।

ওইবার ফুলার লেন্থ বল করার চেষ্টা করেছেন বারবার। ইয়র্কার বলও ছিল। সেগুলো কখনও সরাসরি স্টাম্প ভেঙেছে, আবার কখনও এলবিডব্লিউ হয়েছে। সঙ্গে আপনার সুইংও ছিল। সব মিলিয়ে দুর্দান্ত এক প্যাকেজ। সিরিজ শুরুর আগে থেকেই কী এমন পরিকল্পনা ছিল বোলিংয়ের?

রবিউল ইসলাম শিপলু:  প্ল্যানটা ছিলই যে, জায়গায় বোলিং করবো। ওই সময়টায় মুশফিক ক্যাপ্টেন ছিলো। তো মুশফিক ওই সময় প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলতো, প্রত্যেকটা প্লেয়ারকে আলাদা আলাদা টার্গেট দিয়েছিল। মুশফিকের এই জিনিসটা আমার খুব ভালো লাগতো। অনেক সময় টিমের একটা চাহিদা থাকে, সেটা ঠিক করে দিতো এরপর আলাদা টার্গেটও সেট করে দিতো। ওই সময় শেন  (কোচ-শেন জার্গেনসেন) ছিল, শেন আর মুশফিক প্রত্যেকটা প্লেয়ারের সঙ্গে কথা বলে বলে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা করে টার্গেট সেট করে দিতো। তো আমাকে টার্গেট দিয়েছিল ইকোনমি বল করতে হবে এবং জায়গা মতো বল দিতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে ইকোনমি বল করতেই হয়, সঙ্গে উইকেটও বের করতে হয়। দেখা যাচ্ছে আমি যদি পার্টনারশিপ বোলিং করতে পারি, ভালো জায়গায় বল করতে পারি, আমি এক সাইড থেকে ভালো বোলিং করতে পারি, দেখা যাচ্ছে আরেক সাইড থেকে উইকেট পড়তে থাকবে। তো আমার টার্গেটটা ছিল এরকম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সফল হয়েছি। আমি চেষ্টা করেছি। আল্লাহ সফলতা দিয়েছেন।

দীর্ঘসময় পর বাংলাদেশ আবার জিম্বাবুয়েতে। এবার কেমন করবে বাংলাদেশ?

রবিউল ইসলাম শিপলু: সব সময় আমি আশা করি, বাংলাদেশ টিম যে পারফরমেন্স করছে তার থেকে বেটার পারফরমেন্স করবে এবং জিতবে। সবথেকে বড় বিষয়, আমাদের ক্রিকেট এখন অনেক ডেভলপড। ৮ বছর আগের হিসাব আর এখানকার হিসেব অনেকটা আলাদা। গত কয়েক বছরে আমাদের যথেষ্ট ভালো রেজাল্ট আসছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক জিম্বাবুয়ের মাটিতে জিম্বাবুয়ে বেশ শক্তিশালী দল, বিশেষ করে টেস্টে। তবে আমি কিন্তু বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখবো।

সফল হওয়ার জন্য কোনদিকগুলিতে জোর দেওয়া উচিত?

রবিউল ইসলাম শিপলু:  টেকনিক্যাল বিষয়গুলো হয়তো বলতে পারবো না, তবে খুব কমন কয়েকটা বিষয় আছে, ব্যাটিংয়ে একটি-দুটি ভালো পার্টনারশিপ খুব প্রয়োজন। হয়তো একজন দেড়শ প্লাস ইনিংস করলো, সঙ্গে যদি একটা সেঞ্চুরি পাওয়া যায় কিংবা একটা সেঞ্চুরির সঙ্গে তিনটি হাফ সেঞ্চুরি প্লাস ইনিংস। একই রকমভাবে বোলিংয়েও পার্টনারশিপটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন বোলার একপ্রান্তে ইকোনমি বোলিং করলে অন্য প্রান্তে উইকেট পাওয়া সহজ হয়। এর পাশাপাশি ফিল্ডিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন ওএকটা ভালো সেভ, একজন বোলারকে আরও অনুপ্রেরণা দেয়, পুরো টিমকেও উজ্জীবিত করে। এরকম ছোট ছোট বিষয়গুলো সঠিকভাবে করতে পারলে ইনশা আল্লাহ আমাদের একটা ভালো ফল আসবে। 

 

* সাক্ষাৎকার নিতে সহায়তা করেছেন আব্দুল্লাহ এম রুবেল *

ঢাকা/ইয়াসিন/ফাহিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়