ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

কোর্তোয়া ‘দ্য ওয়াল’

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ২৯ মে ২০২২   আপডেট: ১৪:১২, ২৯ মে ২০২২
কোর্তোয়া ‘দ্য ওয়াল’

‘আমি মনে করতে পারছি না দীর্ঘদিন ধরে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে কোনো গোলকিপার এমন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে কি না।’- রিয়াল মাদ্রিদ লিজেন্ডারি গোলকিপার ইকার ক্যাসিয়াস বললেন এই কথা ৬ ফুট ৭ ইঞ্চির থিবো কোর্তোয়াকে নিয়ে। সত্যিই তাই, যেভাবে লিভারপুলের খেলোয়াড়দের সামনে বিশেষ করে মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানেকে রুখে দিলেন, তাতে বলা চলে ‘কোর্তোয়া, দ্য ওয়াল’।

ম্যাচের ১৬ মিনিট, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের নিচু ক্রসে মোহাম্মদ সালাহ গোলপোস্টের বেশ কাছ থেকে নিলেন শট। রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের মাথায় হাত, এই তো বল ঢুকে গেলো জালে! কিন্তু বলের দিক বুঝে সময়মতো বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন থিবো কোর্তোয়া। মাটি গড়ানো শটে আঙুলের টোকায় বল দিলেন না জালে ঢুকতে।

দুই মিনিট পর সালাহ ফের জায়গা খুঁজে বের করে বক্সের মাথা থেকে শট নিলেন, সেটা সহজেই ঠেকিয়ে দিলেন রিয়ালের বেলজিয়ান গোলকিপার।

চার মিনিট পর কোর্তোয়া যা রুখে দিলেন, তাকে ম্যাচের সেরা সেভ বলা যায়। বক্সের প্রান্তে কাসেমিরো বল ধরে রাখতে পারলেন না, সাদিও মানে ডান পায়ে শট নিতে গেলেন। মনে হচ্ছিল দূরের পোস্টের দিকে ছুটতে যাচ্ছে বল, কিন্তু মানে নিলেন কাছের পোস্টে শট। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে তা রুখে দিলেন কোর্তোয়া। বল লাগে পোস্টে, তা ফিরে এলেও দখলে নেন রিয়াল গোলকিপার।

প্রথমার্ধে আরেকবার পরীক্ষায় সফল কোর্তোয়া। ৩৩ মিনিটে আর্নল্ডের পাস থেকে সালাহর হেড গোলপোস্টে ঢুকতে বাধা দেন তিনি।

৫৯তম মিনিটে রিয়াল এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণে ধারালো ছিল লিভারপুল। ৬৪তম মিনিটে তারা গোল শোধ দিয়েই ফেলেছিল। কিন্তু সালাহকে দারুণ সেভে আবার ব্যর্থ করেন কোর্তোয়া।

৬৯ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে জোতার হেড পাসে গোলমুখের সামনে বল পান সালাহ।  সামনে এগিয়ে গিয়ে বল ঠেলে দিয়েছিলেন সালাহ, একেবারে শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়ে বাঁ পায়ে সেভ করেন কোর্তোয়া।

কোর্তোয়া শেষবার রিয়ালকে রক্ষা করেন ৮৩ মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে সালাহর গতিময় শট ক্রসবারের উপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলকিপার।

এমন সব সেভে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল রূপ নিয়েছিল ‘কোর্তোয়া ফাইনাল’ নামে। এমন কিছুই করে দেখা চেয়েছিলেন চেলসির সাবেক গোলকিপার। সংশয়ীদের ভুল প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, বিশেষ করে ইংল্যান্ড থেকে আসা দর্শকদের। কোর্তোয়া সফল, তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যাচসেরা হলেন তিনি। সব মিলিয়ে সেভ ৯টি।

ম্যাচ শেষে কোর্তোয়া তাকে নিয়ে সংশয়কারীদের একহাত নিলেন। ২০০১ সালে অলিভিয়ের কান ও ২০০৮ সালে এডউইন ফন ডার সারের পর তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে ফাইনালে ম্যাচসেরা কোর্তোয়া বলেছেন, ‘আমার সমস্ত কঠোর পরিশ্রমের জন্য এবং আমার নামের সম্মানের জন্য  আমার ক্যারিয়ারে একটি ফাইনাল জিততে হতো। কারণ আমি মনে করি আমি যথেষ্ট সম্মান পাইনি, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে। দারুণ মৌসুম কাটানোর পরও সমালোচনা শুনতে হয়েছিল যে আমি যথেষ্ট ভালো ছিলাম না।’

‘দলের পারফরম্যান্সের জন্য আমি সত্যিই গর্বিত এবং আমাকে যখনই প্রয়োজন পড়েছে দলের জন্য ছিলাম আমি।’- বললেন কোর্তোয়া।

বেলজিয়ান গোলকিপার শুধু ফাইনাল জয়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, এটা বলা ভুল হবে। মাদ্রিদের পুরো টুর্নামেন্টে ১৪ ম্যাচ খেলে ৬১ সেভ করেছেন। অন্যদিকে লিভারপুলের গোলকিপার আলিসনের সেভ ছিল ১৫টি।

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়