ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

সেলেসাও থেকে আলবিসেলেস্তে- বিশ্বকাপে কার কী ডাকনাম?

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৩ জুলাই ২০২২  
সেলেসাও থেকে আলবিসেলেস্তে- বিশ্বকাপে কার কী ডাকনাম?

ঘনিয়ে আসছে কাতার বিশ্বকাপ। চূড়ান্ত হয়ে গেছে ৩২ দল। মাঠে শুধু ফুটবলের লড়াই-ই হবে না। সেখানে থাকবে বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রদর্শনী। প্রায় প্রত্যেক দেশের আলাদা সংস্কৃতির পাশাপাশি রয়েছে ভিন্ন ডাকনাম। যা দিয়ে পরিচিত পাবে দলগুলোর। বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলের যেমন রয়েছে  ছয়টি ডাকনাম। মেসির আর্জেন্টিনা পরিচিত তাদের পতাকা ও জার্সির রঙ দিয়ে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ডাকনামও বেশ অদ্ভুত, যেখানে তাদের সমুদ্রপথে সন্ধানের সমৃদ্ধশালী ইতিহাস স্পষ্ট।

কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর ডাকনামগুলো কী এবং কেনই বা এমন নাম, তা একটু জেনে নেওয়া যাক-

অস্ট্রেলিয়া- সকারুজ

‘সকারুজ’ শব্দটির আবিষ্কারক সিডনির সাংবাদিক টনি হরস্টিডের। অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক ক্যাঙ্গারুকে হাইলাইট করতে চেয়েছিলেন তিনি। সকার ও ক্যাঙ্গারু শব্দযুগল মিলিয়ে নাম হয় সকার-রু।

ইরান- টিম মেল্লি

টিম মেল্লি পার্সিয়ান শব্দ যার অর্থ ‘জাতীয় দল’। আরও ডাকনাম আছে, শিরান ই ইরান মানে ‘ইরানিয়ান সিংহ’। শিরদেলান মানে ‘সিংহ হৃদয়’ এবং ‘পার্সিয়ার প্রিন্স’।

জাপান- সামুরাই ব্লু

জাপানিজ দলের ডাকনাম সামুরাই ব্লু। তাদের ঐতিহাসিক সামুরাই পটভূমিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাতার- দ্য মেরুন

কাতারের ডাকনাম দ্য মেরুন, তাদের হোম জার্সির রঙয়ের প্রতিফলন।

সৌদি আরব- আল আখদার

সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ডাকনাম আছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো আল আখদার, মানে ‘সবুজ’। আস-সুকুর আল-আখদার নামেও পরিচিত দলটি, মানে ‘সবুজ ঈগল’। তাদের তৃতীয় ডাকনাম আস সুকুর আল অ্যারাবিয়া, ‘আরবের ঈগল’।

দক্ষিণ কোরিয়া- তায়েগিউক ওয়ারিয়ার্স

ভক্তরা প্রায় সময় দক্ষিণ কোরিয়ান দলকে ডাকে দ্য রেডস, মানে লাল, যা তাদের কিটের রঙ। তারা তায়েগিউক ওয়ারিয়ার্স ও এশিয়ার সিংহ নামেও পরিচিত। তায়েগিউক দক্ষিণ কোরিয়ান পতাকার প্রতীক।

ক্যামেরুন- লেস লায়ন্স ইনডোম্পটেবলস

ক্যামেরুনিয়ান দলকে ডাকা হয় লেস লায়ন্স ইনডোম্পটেবলস নামে যার অর্থ অদম্য সিংহ।

ঘানা- ব্ল্যাক স্টার্স

ঘানা পরিচিত ব্ল্যাক স্টার্স নামে, অর্থ কালো তারকা। ঘানাইয়ান পতাকার কেন্দ্রে রয়েছে একটি কালো তারকা।

মরক্কো- দ্য আটলাস লায়ন্স

ছয়বার বিশ্বকাপে খেলা মরক্কোর ডাকনাম দ্য আটলাস লায়ন্স। তাদের জাতীয় পশু বর্বর সিংহ নামানুসারে, যাকে সাধারণত ডাকা হয় আটলাস লায়ন নামে। দেশটিতে এই পশু এখন বিলুপ্তপ্রায়।

সেনেগাল- লায়ন্স অব তেরাঙ্গা

তেরাঙ্গা শব্দটি এসেছে সেনেগালিজ সংস্কৃতি থেকে যার মানে ভালো আতিথেয়তা। আর দল পরিচিত তেরাঙ্গা সিংহ নামে।

তিউনিসিয়া- ঈগলস অব কার্থেজ।

তিউনিসিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী কার্থেজ। আর তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের লোগোতে রয়েছে একটি ঈগল। দুটি মিলিয়ে ডাকনাম ঈগলস অব কার্থেজ, মানে কার্থেজের ঈগল।

কানাডা- দ্য রেডস

হোম কিটের রঙকে প্রাধান্য দিয়ে কানাডিয়ান ফুটবলের ডাকনাম হয়েছে দ্য রেডস। এছাড়া দেশের পতাকার একটি প্রতীক ম্যাপল লিফকে প্রাধান্য দিয়ে ডাকা হয় ‘ম্যাপল লিফস’ নামেও।

কোস্টারিকা- লস টিকোস

কোস্টারিকানদের মাঝেমধ্যে ডাকা হয় টিকোস নামে, স্প্যানিশ ভাষায় যার অর্থ ছোট। তাই কোস্টারিকান ফুটবল দলের ডাকনাম ‘দ্য টিকোস’। এছাড়া দ্য সেলেকশন (লা সেলে) ও দ্য ট্রাইকালার (লা ট্রাইকালার) নামেও পরিচিত তারা।

মেক্সিকো- এল ট্রাই

মেক্সিকান দল পরিচিত ‘এল ট্রাই’ নামে। মানে ত্রিরঙ, তাদের জাতীয় পতাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে তিনটি রঙ।

আর্জেন্টিনা- লা আলবিসেলেস্তে

তাদের জার্সির ডোরাকাটা ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙ নীল ও সাদা। এ কারণে তারা পরিচিত ‘লা আলবিসেলেস্তে’ হিসেবে।

ব্রাজিল- সেলেসাও

পর্তুগিজ ভাষায় সেলেসাও খুবই সাধারণ একটি শব্দ, যার অর্থ নির্বাচিত খেলোয়াড়। ব্রাজিলিয়ানরা প্রত্যেক ফুটবল দলকে ডাকে ‘সেলেসাও’ বলে। কিন্তু জাতীয় দল স্বতন্ত্র এবং পরিচিত ‘দ্য সেলেসাও’ নামে।

ইকুয়েডর- লা ট্রাই

ইকুয়েডরের ডাকনাম ‘লা ট্রাই’ এবং জাতীয় পতাকায় থাকা তিন রঙকে প্রাধান্য দিয়ে এই নাম।

উরুগুয়ে- লা সেলেস্তে

উরুগুয়ের ডাকনাম ‘লা সেলেস্তে’, অর্থ আকাশী নীল, যেটা তাদের জার্সির রঙ।

বেলজিয়াম- ডাই রোটেন টোফেল

বেলজিয়ান স্কোয়াড ডাই রোটেন টোফেল নামে পরিচিত, যার অর্থ দ্য রেড ডেভিলস। ১৯০৬ সালে জার্সি রঙয়ের ভিত্তিতে সাবেক কোচ পিয়েরে ওয়ালকিয়ার্স এই নাম দেন।

ক্রোয়েশিয়া- কোকাস্তি

লুকা মডরিচ ও তার দল পরিচিত ‘কোকাস্তি’ নামে, যার অর্থ চেকার্ড। তাদের জাতীয় পতাকার ধরন অনুসারে এই নাম।

ডেনমার্ক- ডা রড ভাইড

ড রড ভাইড- এই ড্যানিশ ভাষার অর্থ লাল ও সাদা। তাদের কিটের রঙ থেকে অনুপ্রাণিত এই নাম।

ইংল্যান্ড- থ্রি লায়ন্স

ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লোগোতে আছে তিনটি সিংহ, তাই তারা পরিচিত ‘থ্রি লায়ন্স’ নামে।

ফ্রান্স- লেস ব্লুজ

জার্সির নীল রঙয়ের কারণে ফরাসি দল পরিচিত ‘লেস ব্লুজ’ নামে।

জার্মানি- ন্যাশনালএল্ফ

জার্মান জাতীয় দল পরিচিত ন্যাশনালএল্ফ নামে যার অর্থ জাতীয় ১১। তাদের আরও ডাকা হয় ‘ডিএফবি ইলেভেন’ নামে। ডাই ম্যানশ্যাফট মানে ‘দ্য টিম’।

নেদারল্যান্ডস- অরেঞ্জ

হোম কিটের গোলাপি রঙ ও দেশের ফুটবল সংস্থা কেএনভিবির লোগে অনুসারে ‘অরেঞ্জ’ নামে পরিচিত নেদারল্যান্ডস।

পোল্যান্ড- বিয়াতো জেরভোনি

পোল্যান্ড জাতীয় দলের ডাকনাম বিয়াতো জেরভোনি। ইংরেজি যার অর্থ দ্য হোয়াইট অ্যান্ড রেডস, মানে সাদা-লাল।

পর্তুগাল- ওস নাভেগাদোরেস

নতুন নতুন দেশের খোঁজে মহাসাগর দাপিয়ে বেড়াতে গিয়ে পর্তুগালের অনেক নাবিক বা সমুদ্রপথে সন্ধানকারীর সমৃদ্ধশালী ইতিহাসের পাতায় নাম লিখেছেন। তাই জাতীয় দল পরিচিত ‘ওস নাভেগাদোরেস’ যার ইংরেজি অর্থ ‘দ্য নেভিগেটর্স’  মানে নাবিক কিংবা সমুদ্রপথে সন্ধানকারী।

সার্বিয়া- ওরলোভি

সার্বিয়ান দল পরিচিত ওরলোভি নামে, যার অর্থ ঈগল। সার্বিয়ার জাতীয় প্রতীক দুই মাথার ঈগল অনুসারে এই নাম।

স্পেন- লা রোজা

স্প্যানিশ জাতীয় দল লা রোজা নামে পরিচিত, যার অর্থ দ্য রেড ওয়ান, মানে লাল। এছাড়া লা ফিউরিয়া রোজা নামেও ডাকা হয় তাদের, অর্থ দ্য রেড ফিউরি- লাল উন্মত্ততা।

সুইজারল্যান্ড- রোসোক্রোসিয়াতি

সুইশ ফুটবল দল পরিচিত ‘রোসোক্রোসিয়াতি’ নামে, অর্থ দ্য রেড ক্রস। এছাড়া ‘নাতি’ নামও রয়েছে তাদের, সুইশ এই ভাষার অর্থ জাতীয় দল।

ওয়েলস- দ্য ড্রাগনস

ওয়েলসের ডাকনাম দ্য ড্রাগনস, তাদের পতাকায় স্থাপিত অগ্নিশ্বাস ড্রাগন অনুসারে এই নাম।

যুক্তরাষ্ট্র- স্টার স্ট্রাইপস

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের নাম সোজাসাপ্টা- স্টার স্ট্রাইপস। জাতীয় দল ও যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল ফেডারেশনের লোগো অনুযায়ী এই নাম। তারা পরিচিত দ্য ইয়াঙ্কস হিসেবেও। 

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়