হাবিপ্রবিতে শিক্ষাথীদের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের মামলা, গ্রেপ্তার ৪
হাবিপ্রবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ চারজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) দিবাগত রাতে মামলা হওয়ার পর ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নুর হোসেন হলের ভেতরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১০০ থেকে ১২০ জন অজ্ঞাত শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ ব্যাচের মো. আরাফাত হোসেনকে ১ নম্বর, অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২২ ব্যাচের তাসরিফ ইসলাম প্রান্তিককে ২ নম্বর, এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাঈমুর রহমান দুর্জয়কে ৩ নম্বর, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের আসিফ হোসেন কাফিকে ৪ নম্বর, গণিত বিভাগের মো. সোহেল রানাকে ৫ নম্বর, ইকোনমিক্স বিভাগের শাকির মাহমুদকে ৬ নম্বর এবং মো. সামিউল ইসলাম শামসকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, আরো ১০০ থেকে ১২০ জন অজ্ঞাতকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র, রড, বাঁশের লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে হলে প্রবেশ করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং হলের আসবাবপত্র, সিসি ক্যামেরা ও অন্যান্য সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয়, যাতে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলাম ও এহেসানুল কবীর অর্ণবকে হামলার শিকার হতে হয়। তাদের কিলঘুষি, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. নওশের ওয়ান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মামলা করা হয়েছে। এখানে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। কেউ সহিংসতা, ভাঙচুর বা হুমকি-ধমকি সৃষ্টি করলে প্রশাসন তা মেনে নেবে না। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর।”
এদিকে এজাহারভুক্ত চার আসামি— আসিফ হোসেন কাফি, সোহেল রানা, শাকির মাহমুদ ও সামিউল ইসলাম শামসকে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সূত্র জানায়, তাদের আদালতে হাজির করে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নষ্ট এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ আবরার ফাহাদ হলের ৩১ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঢাকা/সাকিব/জান্নাত
এক মাসের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী