উগান্ডার এই কৃষকের ১২ স্ত্রী, ১০২ সন্তান, ৫৭৮ নাতি-নাতনি!
অন্য দুনিয়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
স্ত্রীদের সঙ্গে মুসা হাসাহিয়া কাসেরা। ছবি: সংগৃহীত
আজকের ব্যস্ত জীবনে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তই যেখানে অনেক দম্পতির জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে, সেখানে আফ্রিকার এক কৃষককে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিস্ময়। কারণ তার পরিবার যেন একটি ছোট গ্রামের সমান। ঘটনাটি পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার। সে দেশের কৃষক মুসা হাসাহিয়া কাসেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন ‘বিশ্বের সবচেয়ে ফারটাইল পুরুষ’ হিসেবে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, মুসার রয়েছে ১২ জন স্ত্রী, ১০২ সন্তান এবং ৫৭৮-র বেশি নাতি-নাতনি। বিশাল এই পরিবার নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
মুসা হাসাহিয়ার পরিবারের সদস্যরা
মুসা হাসাহিয়ার বয়স ৬৮ বছর। তিনি পেশায় কৃষক। স্থানীয়দের ভাষায়, তার বাড়িতে সবসময়ই উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। পরিবারের সদস্য এত বেশি যে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খেতেও পারে না।
মুসা জানিয়েছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম মনে থাকলেও মাঝের অনেক সন্তানের নাম তিনি মনে রাখতে পারেন না। এজন্য তিনি একটি পুরোনো নোটবুকে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রাখেন।
কীভাবে এত বড় হলো পরিবার?
মুসার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পরিবার বড় করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। তার অনেক স্ত্রীকেই তিনি অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। এক সময় আফ্রিকার বিভিন্ন গ্রামীণ সমাজে আগে বড় পরিবারকে শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। পাশাপাশি কৃষিকাজে বেশি মানুষের অংশগ্রহণও বড় পরিবারের অন্যতম কারণ ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশক আগে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সন্তান নেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।
বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উগান্ডাসহ সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো জন্মহার তুলনামূলক বেশি। যদিও ১০২ সন্তানের মতো ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল।
এখন হিমশিম খাচ্ছেন মুসা
এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে বর্তমানে বেশ চাপে আছেন মুসা। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকাজ করেই পুরো পরিবার চলে। পরিবারের সদস্যরাও মাঠে কাজ করেন। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
তিনি এখন আর সন্তান চান না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন। তার মতে, আগে বিষয়টি সহজ মনে হলেও এখন খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এত বড় পরিবার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া
মুসার গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে নানা প্রতিক্রিয়া। নেটিজেনদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, কেউ আবার রসিকতা করেছেন।
একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “এই মানুষ একাই একটা গ্রাম গড়ে ফেলতে পারেন!”
আরেকজন লিখেছেন, “এখন একটা সন্তান বড় করতেই মানুষ হিমশিম খায়, আর উনি ১০২ সন্তান বড় করেছেন!”
তবে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে প্রতিটি সন্তানের যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না।
তথ্য নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিও আছে
বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুসার স্ত্রীর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে তার ১২ জন স্ত্রী রয়েছে, আবার কিছু ভাইরাল ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে ৮ জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় ১২ স্ত্রী ও ১০২ সন্তানের তথ্যই বেশি প্রচারিত হচ্ছে।
জনসংখ্যাবিদদের মতে, আধুনিক সময়ে বড় পরিবার শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই ছোট পরিবার গড়ার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বড় ব্যয়ের প্রয়োজন হয়।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এখনো পরিবারকে শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর সমাজে বেশি সন্তান মানে বেশি কর্মক্ষম মানুষ।
মুসা হাসাহিয়া কাসেরার গল্প তাই শুধু বিশাল পরিবারের গল্প নয়; এটি আফ্রিকার গ্রামীণ সমাজ, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য ও সামাজিক বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ঢাকা/লিপি
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জুনে জিম্বাবুয়ে সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল