গাবতলী কাঁপাচ্ছে চার বন্ধুর ‘কেটুএন অ্যাগ্রো’র রাজকীয় গরু
রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
আট বছর আগে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করেন জামালপুরের চার বন্ধু। তাদের সামনে সুযোগ ছিল চাকরি করার। তবে তারা ছিলেন স্বাধীনচেতা—কারো অধীনে চাকরি নয়, অন্যদের চাকরি দেওয়ার ইচ্ছে ছিল তাদের। সেই লক্ষ্যে চার বন্ধু মিলে শুরু করেন ‘কেটুএন অ্যাগ্রো’ নামের গবাদি পশুর খামার। অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা সেই প্রতিষ্ঠান এখন বিশাল সাফল্য নিয়ে এসেছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা তাদের খামারের গরু এখন রাজধানীর বিখ্যাত পশুর হাট কাঁপাচ্ছে।
গাবতলীর কোরবানির পশুর হাটের মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই দেখা যায় ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জটলা। কেউ কেউ গরুর দরদাম করছেন, কেউ গরুর সঙ্গে ছবি তুলছেন, আবার কেউ আদর করে দেখছেন। বিশেষ করে, অভিভাবকদের সঙ্গে আসা শিশুরা বড় গরু দেখে খুব খুশি হচ্ছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জামালপুরের কেটুএন অ্যাগ্রো থেকে ১০টি বিশাল আকৃতির গরু নিয়ে এসেছেন চার বন্ধু। একেকটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা করে। হাটে আসা ক্রেতা থেকে শুরু করে দর্শনার্থী—সবার নজর কাড়ছে কেটুএন অ্যাগ্রোর এই গরুগুলো।
কেটুএন অ্যাগ্রোর অন্যতম উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদ ইবনে মুশারফ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর আমাদের সবার সামনেই করপোরেট ক্যারিয়ারের হাতছানি ছিল। কিন্তু আমাদের চার বন্ধুর মাথায় সব সময় ঘুরত নতুন ও স্বাধীন কিছু করার চিন্তা। আট বছর আগে একদম ছোট পরিসরে, শখের বশে জামালপুরে আমরা এই খামার শুরু করি। শুরুতে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল—পশুর জাত চেনা, সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা আর রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা। সবকিছুই আমাদের নতুন করে শিখতে হয়েছে। কিন্তু আমরা দমে যাইনি। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আর শতভাগ প্রাকৃতিক খাবারের ওপর ভরসা রেখে আজ আমরা এই পর্যায়ে এসেছি। গাবতলী হাটে যখন মানুষ আমাদের গরুগুলো দেখতে ভিড় জমায়, তখন মনে হয়, আমাদের আট বছরের শ্রম আজ সার্থক।”
তিনি বলেন, “আমাদের কেটুএন অ্যাগ্রোর গরুগুলোর বিশেষত্ব হলো—এদের সুগঠিত শরীর এবং উজ্জ্বল চামড়া, যা সাধারণত ক্ষতিকর হরমোন বা স্টেরয়েড দেওয়া গরুর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।”
কেটুএন অ্যাগ্রোর আরেক উদ্যোক্তা সায়েক আহমেদ। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমাদের খামারের মূল ভিত্তি হলো শতভাগ সততা। আমরা কোনো ধরনের কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা রাসায়নিকের ধারেকাছেও যাইনি। জামালপুরের চরাঞ্চলের তাজা সবুজ ঘাস, খৈল, ভুসি, খড় আর দানাদার পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে পরম মমতায় এদের বড় করা হয়েছে। এবার হাটের জন্য আমরা বাছাই করা সেরা ১০টি বড় গরু নিয়ে এসেছি। প্রতিটি গরুর পেছনে আমাদের ২৪ ঘণ্টার প্রফেশনাল কেয়ার ছিল। হাটে আনার পর ক্রেতাদের রেসপন্স অসাধারণ। অনেকে শুধু কেনার জন্য নয়, চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট কীভাবে এত সুন্দর খামার পরিচালনা করছেন, তা জানতেও আমাদের কাছে আসছেন। এই ভালোবাসাটাই আমাদের মূল লাভ।”
গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে হাসিল ঘরে দায়িত্বরত মো. শাহজালাল বেপারি বলেন, “এখনো পুরোদমে হাট জমে ওঠেনি। আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যেই জমে উঠবে। এখন বিক্রি হচ্ছে, তবে বেশি না। তবে এবার আমরা ধারণা করছি, গতবারের তুলনায় বেচাকেনা বেশি হবে।”
ঢাকা/রফিক
পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে জুনে জিম্বাবুয়ে সফরে যাবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল