ঢাকা     শনিবার   ২৩ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪৩৩ || ৬ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদের ছুটিতে শিশুর অসুস্থতা এড়াতে যেসব প্রস্তুতি জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫৫, ২৩ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:২৩, ২৩ মে ২০২৬
ঈদের ছুটিতে শিশুর অসুস্থতা এড়াতে যেসব প্রস্তুতি জরুরি

ঈদের ছুটিতে শিশুর দিকে বাড়তি নজর দিন। ছবি: প্রতীকী

ঈদ এলে পরিবার নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ মেলে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্যের কাছে এই ভ্রমণ সবচেয়ে আনন্দের, আবার তারই অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আর শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে ভ্রমণের আনন্দটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। তবে আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক সহজ হয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ অনিতা এবং প্রিয়াঙ্কা রাও জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে শিশুদের কোন কোন অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি থাকে এবং এমন পরিস্থিতিতে কী কী সঙ্গে রাখা উচিত।

আরো পড়ুন:

নতুন নতুন জিনিস স্পর্শ করে বিভিন্ন জীবাণুর সংস্পর্শে আসে শিশুরা

ভ্রমণে গেলে শিশুরা কেন বেশি অসুস্থ হয়?
ভ্রমণের সময় শিশুরা নতুন পরিবেশে যায়, নতুন নতুন জিনিস স্পর্শ করে এবং বিভিন্ন জীবাণুর সংস্পর্শে আসে। ফলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। ডা. রাও বলেন, “ভ্রমণে গেলে শিশুরা তাদের পরিচিত ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের বাইরে চলে যায়। ফলে তারা এমন জীবাণুর সংস্পর্শে আসে, যেগুলোর সঙ্গে আগে পরিচয় হয়নি।”

তবে এই ভয় যেন ভ্রমণের আনন্দ নষ্ট না করে। বরং আগে থেকে প্রস্তুত থাকলেই অনেক সমস্যা সহজে মোকাবিলা করা যায়। সাধারণত ভ্রমণের সময় ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এন্টারোভাইরাসের আক্রমণে অসুস্থতা বাড়ে। এই ভাইরাস আক্রমণের লক্ষণগুলো হলো—

  • জ্বর 
  • নাক দিয়ে পানি পড়া 
  • হাতের তালু ও পায়ের পাতায় র‍্যাশ 
  • মুখে ঘা 

ডা. রাও বলেন, “মুখের ভেতরের ঘাগুলো খাওয়া ও পানি পান করার সময় ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। ছোট শিশুরা হয়তো বলতে পারবে না যে তাদের মুখে ব্যথা করছে, তাই তারা স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলে সতর্ক হতে হবে।”

সাধারণ সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণের লক্ষণ—

  • জ্বর 
  • নাক দিয়ে পানি পড়া 
  • নাক বন্ধ 
  • গলা ব্যথা 
  • শরীর ব্যথা 
  • ক্লান্তি 

ডা. স্কারিয়াহ বলেন, “ সুস্থ থাকতে ভ্রমণের সময়ও হাত পরিষ্কারের অভ্যাসে সতর্ক থাকতে হবে।”

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস: এটিকে অনেকেই স্টোমাক ফ্লু বলে থাকেন। লক্ষণ—

  • বমি 
  • ডায়রিয়া 
  • জ্বর 
  • শরীর ব্যথা 
  • ক্লান্তি 

অনেক সময় এটি খাদ্যে বিষক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। গরমে খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হতে পারে। তবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ সাধারণত কম সময় স্থায়ী হয়।

পরিবেশগত কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে

রোদে পোড়া: বাইরে বেশি সময় থাকলে শিশুর ত্বক রোদে পুড়ে যেতে পারে।

সুরক্ষার উপায়—

  • লম্বা হাতার পোশাক 
  • টুপি 
  • SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার 
  • সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

রোদে পুড়ে গেলে—

  • অ্যালোভেরা লোশন ব্যবহার করুন 
  • পোশাক দিয়ে স্থানটি ঢেকে রাখুন 
  • ফোসকা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন 
  • বেশি পানি পান করান 

হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতা

শিশুরা বড়দের তুলনায় দ্রুত হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে, কারণ তারা তত কার্যকরভাবে ঘামতে পারে না। ডা. রাও বলেন, “শিশুকে ছায়ায় বিশ্রাম দিন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করান। খাবারের সঙ্গে পানি খেলে শরীর ভালোভাবে শোষণ করতে পারে, তাই হালকা খাবারও রাখুন।”

কানের সংক্রমণ 
ঈদের ছুটিতে অনেকে সন্তানদের সাঁতার শেখান। সাঁতার শেখার সময় কানে পানি আটকে গেলে বাইরের কানের সংক্রমণ হতে পারে। লক্ষণ—

  • তীব্র ব্যথা 
  • কানে টান দিলে অস্বস্তি 
  • রাতে ঘুমাতে সমস্যা 

এতে প্রেসক্রিপশনের ইয়ার ড্রপ প্রয়োজন হতে পারে এবং চিকিৎসার সময় সাঁতার বন্ধ রাখতে হয়।

মোশন সিকনেস
গাড়িতে যাত্রার সময় চোখ, কান ও মস্তিষ্কের সংকেতের মধ্যে অসামঞ্জস্য হলে মোশন সিকনেস হয়।
ডা. স্কারিয়াহ বলেন, “ভেতরের কান যদি চলাচল অনুভব করে কিন্তু চোখ বইয়ের পাতায় স্থির থাকে, তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়।” লক্ষণ—

  • মাথা ঘোরা 
  • ঘাম 
  • বমি 
  • অতিরিক্ত হাই তোলা 
  • কান্না 
  • লালা ঝরা 

যাত্রা পথে এ অবস্থায়—নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান, শিশুকে শুইয়ে দিন এবং ঠান্ডা ভেজা কাপড় মুখে দিন।  সঙ্গে রাখতে পারেন—ওয়েট ওয়াইপ, ছোট সুগন্ধিযুক্ত পলিব্যাগ এবং বাড়তি কাপড় ।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

  • জ্বর কমানোর ওষুধেও জ্বর না কমে 
  • খাবার রাখতে না পারে 
  • ৬ ঘণ্টায় একবারও প্রস্রাব না হয় 
  • শিশুর শক্তি কমে যায় 
  • পানি পান বন্ধ করে দেয় 

সুস্থ ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন
টিকা হালনাগাদ রাখুন। শিশুর টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন। ৬০ দিনের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে ভ্রমণ সীমিত রাখাই ভালো। নিয়মিত রুটিন বজায় রাখুন। স্বাস্থ্যকর খাবার, ঘুম ও বিশ্রামের রুটিন বজায় রাখলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে। এ ছাড়াও মানতে হবে যেসব নিয়ম-

  • হাত পরিষ্কার রাখুন, টয়লেট ব্যবহারের পর; খাওয়ার আগে ও পরে 
  • শিশুকে সুস্থ রাখতে হলে ডায়াপার পরিবর্তনের আগে-পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

দীর্ঘ গাড়ি ভ্রমণে মোশন সিকনেস মোকাবিলার প্রস্তুতি 

বিমানে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও থার্মোমিটার হাতের ব্যাগে রাখুন। এ ছাড়াও সঙ্গে রাখতে পারেন যেসব জিনিস: 

  • জীবাণুনাশক ওয়াইপ 
  • হ্যান্ড স্যানিটাইজার 
  • বাড়তি কাপড় 
  • ছোট ট্র্যাশ ব্যাগ 
  • ব্যথা, গ্যাস ও অ্যালার্জির ওষুধ 
  • ওষুধ খাওয়ানোর সিরিঞ্জ 
  • নাক পরিষ্কারের যন্ত্র 
  • ব্যান্ডেজ ও ফার্স্ট এইড কিট 
  • হাইড্রোকর্টিসন ক্রিম 
  • ওয়াশক্লথ 
  • সানস্ক্রিন 
  • সানশেড 
  • মশার স্প্রে 
  • অ্যালোভেরা লোশন 
  • থার্মোমিটার 
  • শিশু চিকিৎসকের যোগাযোগ নম্বর কাছে রাখুন

সবশেষে ডা. স্কারিয়াহর পরামর্শ— ভ্রমণের সময় শিশুর মনোযোগ ধরে রাখতে নতুন একটি খেলনা সঙ্গে নিতে পারেন। পাশাপাশি তার পরিচিত কিছু খেলনাও রাখুন, যাতে সে স্বস্তি অনুভব করে।

সূত্র: হেলথ টক

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়