ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

১৯৩৪: এক ম্যাচ খেলেই আর্জেন্টিনার বিদায়

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:১৩, ২৬ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৯:১৪, ২ ডিসেম্বর ২০২২
১৯৩৪: এক ম্যাচ খেলেই আর্জেন্টিনার বিদায়

ইতালির উচ্ছ্বাস

আয়োজক: ইতালি, দল: ১৬, ভেন্যু: ৮, মোট ম্যাচ: ১৬, ফাইনাল: ইতালি ও চেকোস্লোভাকিয়া, জয়ী: ইতালি (২-১), এই আসর থেকে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের শুরু। জার্মানি তৃতীয় হয়। আসরে মোট গোল হয় ৭০টি।

১৯৩২ সালের অলিম্পিকে ছিল না ফুটবল। তাই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে সবারই ছিল বাড়তি নজর। কিন্তু আসরের আগেই বিপত্তি। আগের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে সাফ জানিয়ে দেয় ইতালিতে বিশ্বকাপ হলে খেলবে না। কারণ তাদের দেশে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি ইতালি! অনেক  বোঝানোর পর ব্যর্থ হয়ে চ্যাম্পিয়ন দলকে ছাড়াই বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে চাম্পিয়ন দেশের পরের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার ঘটনা এই একটিই। আর বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিক দলই।

আরো পড়ুন:

প্রথম বিশ্বকাপে দলগুলোকে আমন্ত্রণের মাধ্যমে আয়োজন করা হলেও দ্বিতীয় বিশ্বকাপ থেকেই শুরু হয় বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। ১৬টি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। কিন্তু এ আসরে খেলতে আগ্রহ দেখায় তার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি দেশ। তাই বাধ্য হয়েই বাছাই পর্ব আয়োজন করতে বাধ্য হয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ৩৪টি দেশ বাছাই পর্ব খেলে। সুযোগ পাওয়া ১২টি দলই ছিল ইউরোপের- অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেকোস্লোভাকিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, রোমানিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও স্বাগতিক ইতালি। ল্যাটিন আমেরিকা থেকে ছিল ২টি দল- আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। আফ্রিকা থেকে ওই আসরে প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পায় মিশর। বাকি দলটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৩০: অলিম্পিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থেকেই জন্ম বিশ্বকাপ ফুটবলের 

মোট ৮টি ভেন্যু ব্যবহার করা হয় দ্বিতীয় বিশ্বকাপে। আর আসরে মোট ম্যাচ হয় ১৬টি। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা অংশগ্রহণ না করলে বিশ্বকাপের রঙ কিছুটা হারায় বটে তবে টুর্নামেন্টই ঠিকই তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখে। বিতর্কও যে হয়নি, তাও নয়। আগের বিশ্বকাপে ৪টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলা হলেও এ বিশ্বকাপ হয় নকআউট পর্বে। অনেকেই বলে থাকেন স্বাগতিকদের চ্যাম্পিয়ন করতেই এ অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এ বিতর্ক উঠবেই না কেন? আগের বিশ্বকাপে ১৩টি দলকে নিয়ে চার গ্রুপ কিছুটা কঠিন থাকা সত্ত্বেও হয়েছে। অন্যদিকে এ আসরে ১৬টি দল নিয়ে গ্রুপিং করা সহজ হলেও তা করা হয়নি।

বিতর্ক আরও বাড়ে শুরুতেই ইউরোপের বাইরের দলগুলো বাদ পড়ে যাওয়ায়। আগের বারের ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনাকে বিদায় নিতে হয় মাত্র ১ ম্যাচ খেলেই। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে অস্ট্রিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, জার্মানি, হাঙ্গেরি, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি। কোয়ার্টার ও সেমিফাইনাল শেষে ফাইনালের টিকেট পায় চেকোস্লোভাকিয়া ও ইতালি। আর ফাইনালে ২-১ গোলে চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপায় চুমু খায় আজ্জুরিরা।

দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনালের ম্যাচে ইতালির নেতৃত্ব দেন জিয়ামপেইরো কম্বি আর  চেকোশ্লাভাকিয়ার ফ্রান্তিসেক পানিকা। মজার ব্যপার দুজনেই ছিলেন গোলরক্ষক। এ আসর থেকে শুরু হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। জার্মানি পায় তৃতীয় স্থান। আসরে মোট  গোল হয় ৭০টি। এ আসরেই ইতালির এ্যানজেলো শিহাবো বিশ্বকাপের শততম গোলটি করেন। আর সর্বাধিক ৫টি গোল করেন চেক ফুটবলার অলডিচ নেজলি।

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়