ঢাকা     সোমবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৬ ১৪২৯

টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরোক্কো

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০২, ৬ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ০০:৪৪, ৭ ডিসেম্বর ২০২২
টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে মরোক্কো

টাইব্রেকারে স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরোক্কো। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়লো তারা। এই প্রথম শেষ আটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো আটলাস লায়ন্সরা।  স্পেনের নেওয়া তিনটি পেনাল্টির দুটি ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান মরোক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। স্পেনের কার্লোস সোলের  ও সার্জিও বুসকেটসের শট ধরে ফেলেন তিনি। আর পাবলো সারাবিয়া মেরে দেন পোস্টে।

মরোক্কোর হয়ে পেনাল্টি শটে গোল করেন আব্দেলহামিদ সারির, হাকিম জিয়েখ ও আচরাফ হাকিমি।  মরোক্কোর বদর বেনুনের নেওয়া শট রুখে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন।

পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে মরোক্কো।

অতিরিক্ত সময়েও হয়নি গোল, টাইব্রেকারে গড়ালো ম্যাচ:

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও গোল পায়নি কোনো দল। যদিও উভয় দল বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। কাছাকাছি গিয়েও মিস করেছে। তাতে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটও। শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচের মীমাংসা হচ্ছে টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষার মাধ্যমে। এখন দেখার বিষয় এই ভাগ্য পরীক্ষায় কারা উতরে যায়, স্পেন নাকি মরোক্কো।

৯০ মিনিটে গোল পায়নি কেউ, ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে:

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে স্পেন ও মরোক্কো একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোল পায়নি কেউ। তাতে ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। ৯০ মিনিটে ৭৪ শতাংশ বলের দখল ছিল স্পেনের কাছ। আর মরোক্কোর কাছে ছিল ২৬ শতাংশ। মরোক্কো ৪টি শট নিয়েছিল, তার মধ্যে একটি ছিল অন টার্গেটে। অন্যদিকে স্পেন শট নিয়েছিল ৭টি। তার মধ্যে একটি ছিল অন টার্গেটে।

মরোক্কোর সুযোগ মিস:

৮৬ মিনিটে গোলের সুযোগ পেয়েছিল মরোক্কো। এসময় পাল্টা আক্রমণে ডানদিক দিয়ে উঠে যান আচরাফ হাকিমি। তিনি ক্রসে বল বাড়িয়ে দেন ডি বক্সের মধ্যে। বক্সের মধ্যে ওয়ালিদ ছেদেরিয়া বল পেয়ে কোনোরকমে ডান পায়ে শট নেন। কিন্তু সেটাতে না জোর ছিল, না টার্গেট ছিল। বল ধরে ফেলেন স্পেনের গোলরক্ষক।

স্পেনের সুযোগ মিস:

ম্যাচের ৮২ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন স্পেনের আলভারো মোরাতা। ডানদিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু বক্সের মধ্যে আর কেউ ছিল না। সেখানে কেউ কোনোরকমে পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল হতে পারতো।

দ্বিতীয়ার্ধেরও শুরু থেকেই স্পেনের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করছে মরোক্কো। এই অর্ধে ৫৪ মিনিটে একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ফেরান তোরেস। কিন্তু তার নেওয়া শট ডানকোণা থেকে ধরে ফেলেন মরোক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

স্পেনের চেয়ে ভালো খেলেও প্রথমার্ধে গোল পেল না মরোক্কো:

স্পেন-মরোক্কোর শেষ ষোলোর লড়াইয়ের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে। এই অর্ধে অবশ্য গোল পায়নি কেউ। তবে স্পেনের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছে মরোক্কো। তারা তিনটি শট নিয়েছিল গোলপোস্টের দিকে। তার মধ্যে একটি ছিল অনটার্গেটে। অন্যদিকে স্পেন অন টার্গেটে কোনো শটই নিতে পারেনি।

তবে ৬৯ শতাংশ বলের দখল ছিল তাদের কাছে। ৩১ শতাংশ ছিল মরোক্কোর কাছে। স্পেন ১০টি ফাউল করেছে। আর মরোক্কো করেছে ৩টি। স্পেন একটি কর্নার পেলেও মরোক্কো পায়নি একটিও।

অল্পের জন্য মরোক্কোর গোল মিস:

৪২ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ শানিয়েছিল মরোক্কো। এ সময় বামদিক থেকে সতীর্থের বাড়িয়ে দেওয়া বল পেয়ে যান নায়েফ আগুয়ের্ড। তিনি হেড নেন। বারের ডানকোণা সামান্য উপর দিয়ে বল বাইরে চলে যায়।

মরোক্কোর সুযোগ মিস:

ম্যাচের ৩৩ মিনিটে মরোক্কোর মাজরাউই বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিয়েছিলেন। তার নেওয়া শট সরাসরি স্পেনের গোলরক্ষক ইউনাই সিমনের কাছে যায়। তিনি সেটা রুখে দেন। 

স্পেনের অফসাইড আর সুযোগ মিস:

ম্যাচের ২৫ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ফেরান তোরেস। তার নেওয়া শট মরোক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ধরতে পারেননি। কিন্তু বল গিয়ে বারে লেগে ফিরে আসে। সেটাতে আবার শট নেন দানি অলমো। এবার চলে যায় ওপর দিয়ে। কিন্তু আগেই অফসাইড হয়েছিলেন তোরেস।

বক্সের সামনে ফ্রি কিক পেল মরোক্কো:

ম্যাচের ১২ মিনিটে ডি বক্সের সামান্য সামনে ফ্রি কিক পায় মরোক্কো। কিক নেন আচরাফ হাকিমি। কিন্তু তার নেওয়া কিক উপর দিয়ে চলে যায়।

মরোক্কো-স্পেন লড়াই শুরু:

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে মরোক্কো ও স্পেন। এজুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হয়েছে ম্যাচটি।

মরোক্কোর শুরুর একাদশ:
ইয়াসিন বুনু, রোমেন সাইস, নায়েফ আগুয়ের্ড, নওসাইর মাজরাউই, আচরাফ হাকিমি, সোফিয়ান আমরাবাত, সেলিম আমাল্লাহ, আজেদিন ওনাহি, ইউসুফ এন-নেসিরি, সোফিয়ান বাউফল ও হাকিম জিয়েখ।

স্পেনের শুরুর একাদশ:
উনাই সিমন, আইমেরিক ল্যাপোর্তে, রদ্রি, জর্ডি আলবা, মার্কোস লোরেন্তে, সার্জিও বুসকেটস, পেদ্রি, গাভি, মার্কো অ্যাসেনসিও, দানি ওলমো ও ফেরান তোরেস।

স্পেন ফেভারিট হলেও মরোক্কো রূপকথার জন্ম দিতে চায়।

দুই দল সব মিলিয়ে তিনবার মাঠে লড়াই করেছে। যেখানে দুটি জিতেছে স্পেন, একটি ড্র গত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে। ২০১০ সালের পর প্রথমবার শেষ ষোলোর বাধা তারা পেরোতে পারে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়