ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৭ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৪ ১৪৩৩ || ২০ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে আফগানিস্তানের ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৮, ২৫ জুন ২০২৪   আপডেট: ১৪:১৭, ২৫ জুন ২০২৪
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে আফগানিস্তানের ইতিহাস

দ্বাদশ ওভারের প্রথম বল। রশিদ খানের গুগলিটা পাঞ্চ করে লং অনে ঠেলে ১ রান নিলেন তানজিম হাসান সাকিব। স্কোর বোর্ডে ১ রান যোগ হলেও বাংলাদেশ ছিটকে গেল চলমান বিশ্বকাপের বোর্ড থেকে। শেষ হয়ে যায় সেমিফাইনালের আশা। সেখান থেকে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকলেও সেটা হলো না। বৃষ্টি আইনে ৮ রানে হেরে সুপার এইটেই বিশ্বকাপ মিশনের সমাপ্তি ঘটলো নাজমুল হোসেনের দলের।

বাংলাদেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠলো আফগানিস্তান। সেই সঙ্গে নেট রান রেটে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকেও পেছনে ফেলে ইতিহাস গড়েছে রশিদ খানের দল। 

আরো পড়ুন:

আজ মঙ্গলবার (২৫ জুন) সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নেস ভ্যালে স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তোপে ১১৫ রান করতে পারে আফগানিস্তান। সেমিফাইনালে যেতে হলে ১১৬ রানের লক্ষ্য ১২.১ ওভারেই পার হতে হতো বাংলাদেশকে। সেই উদ্দেশ্যে রান তাড়ায় নামলেও লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষমেশ জিততে পারেনি ম্যাচও। ১৭.৫ ওভারে ১০৫ রানেই গুটিয়ে গেছে লাল-সবুজের দল।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ফজল হক ফারুকির গুড লেংথের বল একপাশে সরাতে গিয়ে মিস করেন তানজিদ হাসান তামিম। বল আঘাত করে তার প্যাডে। আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও অবশ্য রক্ষা হয়নি। ৩ বলে কোনো রান না করেই ফিরে যান তানজিদ।

দ্বিতীয় ওভারে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাভিন-উল-হকের ফুল লেংথের স্লোয়ার বুঝতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। উড়িয়ে দিয়েছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে। অনায়াস ক্যাচ নেন মোহাম্মদ নবী। পরের বলে সাকিব আল হাসানকেও ফেরান নাভিন। নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে সাকিবকে শূন্য রানে বিদায় করেন তিনি।

এরপর ক্রিজে আসেন সৌম্য সরকার। একপ্রান্তে ভালো খেলতে থাকা লিটনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন এই বাঁহাতি। এরপরই শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টিতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পুনরায় খেলা শুরু হলে দলকে নিয়ে এগোতে থাকেন লিটন-সৌম্য। পাওয়ারপ্লে’তে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৬ রান।

এরপরই উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে ১০ রান করে রশিদের লেগ স্পিনে ধরা খান তিনি। সৌম্যের আউটের পর দুই চারে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাওহীদ হৃদয়। তবে তাকেও ফিরিয়ে বাংলাদেশকে এক প্রকার খাদে ঠেলে দেন আফগান অধিনায়ক রশিদ।

এরপর মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে এসে জুটি বাঁধেন লিটনের সঙ্গে। কিন্তু দলের সেমিফাইনালের স্বপ্নের পালে হাওয়া লাগানোর বদলে উল্টো আশার শেষটুকুও নিরাশা করে দেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ৯ বলে ৬ রান করে বিদায় নেন তিনি। সেই সঙ্গে শেষ হয় বাংলাদেশের সেমির আশা। পরের বলে রিশাদ এসে ফেরেন কোনো রান না করেই।

তানজিম সাকিবও পারলেন না টিকতে। ৩ রানে তাকে আউট করেন গুলবাদিন। দলের এই বিপর্যয়ের মাঝেই ফিফটি করেন লিটন। একপ্রান্ত আগলে ৪১ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে যান এই ওপেনার। এরপর লিটনকে সঙ্গ দেন তাসকিন। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শেষে মোস্তাফিজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেই উল্লাসে মেতে ওঠে আফগানরা।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৮ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। একাদশ ওভারে আফগান শিবিরে প্রথম আঘাত করেন রিশাদ হোসেন। তার লেগ স্পিনে সাজঘরে ফেরান ২৯ বলে ১৮ রান করা ইব্রাহিম জাদরান। এ সময় টানা ১২ ডট বল খেলে আফগানিস্তান। চতুর্দশ ওভারে মিস হয় আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ক্যাচ।

এরপর আবারও রান করতে থাকে আফগানিস্তান। শেষদিকে দারুণ বোলিং নৈপুণ্য দেখান রিশাদ। তার বোলিং আর সৌম্য সরকারের ফিল্ডিংয়ে এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ চেপে ধরে আফগানদের। ১৯তম ওভারে মাত্র ১ রান খরচ করে রশিদ খানের দলকে অল্প রানে আটকে রাখার আশা দেখান মোস্তাফিজুর রহমান।

তবে শেষ ওভারে হিসেব খানিক এলোমেলো করে দেন তানজিম। তাকে জোড়া ছক্কা হাঁকান রশিদ খান, অপরাজিত থাকেন ১০ বলে ১৯ রান করে।তাতেই শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে আফগানদের দলীয় পুঁজি দাঁড়ায় ১১৫ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ তিনটি এবং তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট শিকার করেন।

ঢাকা/বিজয়

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়