ঢাকা     বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

বোডোর কাছে বিধ্বস্ত ম্যান সিটি, লাল কার্ড দেখলেন রদ্রি

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ২১ জানুয়ারি ২০২৬  
বোডোর কাছে বিধ্বস্ত ম্যান সিটি, লাল কার্ড দেখলেন রদ্রি

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে অপমানজনক পরাজয়গুলোর একটি হজম করল ম্যানচেস্টার সিটি। নরওয়ের ক্ষুদ্র ক্লাব বোডো/গ্লিম্টের বিপক্ষে মঙ্গলবার রাতে ৩-১ গোলে হেরে স্তব্ধ হয়ে গেল ইউরোপের তারকাখচিত দলটি। আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে, মাত্র ৫৫ হাজার মানুষের ছোট মৎস্যশহর বোডোতেই ঘটল এই অবিশ্বাস্য কীর্তি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রদ্রির লাল কার্ড যেন সিটির দুর্বিষহ রাতটাকে সম্পূর্ণ করে দেয়। বড় বাজেট, বড় নাম; সবকিছু নিয়েও এমন ভরাডুবি খুব কমই দেখা যায়।

ম্যাচের শুরুতেই বোডো/গ্লিম্ট বুঝিয়ে দেয়, তারা নামের ভারে ভেঙে পড়বে না। ২২ ও ২৪ মিনিটে কাছাকাছি সময়ের মধ্যে দুই গোল করে স্বাগতিকদের স্বপ্নের পথে এগিয়ে দেন ক্যাসপার হগ। চলতি মৌসুমে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা এই ক্লাবের এটি ছিল টুর্নামেন্টে প্রথম জয়। আর সেটাই এলো ইউরোপসেরা দলের বিপক্ষে।

৫৮ মিনিটে অ্যাসপমিরা স্টেডিয়ামের ৮ হাজার দর্শককে উন্মাদনায় ভাসান জেন্স হাউগে। দূরপাল্লার কার্লিং শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। স্কোরলাইন দাঁড়ায় অবিশ্বাস্য ৩-০। গ্যালারি তখন উৎসবের মঞ্চ।

৬০ মিনিটে রায়ান চেরকির গোলে ব্যবধান কমায় সিটি। মনে হচ্ছিল, হয়তো ফিরেও আসতে পারে তারা। কিন্তু দুই মিনিট পরই সব আশা শেষ হয়ে যায়। দ্রুত পরপর দুই হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন রদ্রি। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মিডফিল্ডারের বিদায় কার্যত ম্যাচের সমাপ্তি টেনে দেয়।

এর আগেই রদ্রির রাতটা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। বোডোর তৃতীয় গোলের আগে বল হারিয়ে আক্রমণের সূচনা করেছিলেন তিনিই। হাউগে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত গোলটি করেন।

আরর্লিং হালান্ডের জন্যও ছিল হতাশার রাত। নিজের জন্মভূমি নরওয়েতে ফিরেও বোডোর রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেননি তিনি। পুরো ম্যাচে তাকে প্রায় অদৃশ্য করে রাখে স্বাগতিকরা।

সিটির অজুহাতের অভাব নেই। প্রতিকূল আবহাওয়া, কৃত্রিম টার্ফ, ১১ জন সিনিয়র খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি। তবু বাস্তবতা একটাই- তারা পুরোপুরি ধরাশায়ী হয়েছে। মাঝমাঠে বলের দখল থাকলেও আক্রমণে ধার ছিল না। একের পর এক কর্নার পেলেও বোডো গোলরক্ষক নিকিতা হাইকিনকে সেভাবে পরীক্ষা করতে পারেনি সিটি।

রক্ষণে অনভিজ্ঞ আবদুকোদির খুসানোভ ও অ্যালেইনের ভুলগুলো বারবার কাজে লাগায় বোডো। অ্যালেইনের দুটি ভুল থেকেই আসে হগের জোড়া গোল। দ্রুতগতির কাউন্টার আক্রমণে সিটির রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়ে।

শেষ দিকে বোডো আরও গোল করতে পারত। হাউগের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে, হগের আরেকটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। অন্যদিকে চেরকির পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন রেফারি।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় বোডো/গ্লিম্ট। আর সিটির জন্য এই হার যোগ হয় হতাশার দীর্ঘ তালিকায়। সপ্তাহান্তে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ইউনাইটেডের কাছে হার, এবার ইউরোপে এমন ধাক্কা; সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মুখে পেপ গার্দিওলার দল।

এই পরাজয়ের ফলে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে গালাতাসারের বিপক্ষে ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতিতে পড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। আর বোডোর জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখার রাত।

ঢাকা/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়