তিস্তা সেচের বাঁধ ভেঙে খাল-ফসলি জমি একাকার, পাউবো বলছে ‘ইঁদুরের গর্তের কারণে’
নীলফামারী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সোমবার নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় দিনাজপুর খালের বাঁ তীরের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত। ছবি: রাইজিংবিডি।
নীলফামারীতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের দিনাজপুর খালের বাঁ তীরের বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি তলিয়ে যাওয়া ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
বাঁধ ভাঙা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রতিবছর ‘নামমাত্র’ সংস্কারের দিকে আঙুল তুললেও বোর্ডের প্রকৌশলী বলছেন, ইঁদুরের গর্তের কারণে এই ধস, যা দ্রুত মেমারত করে সেচের ব্যবস্থা করা হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় দিনাজপুর খালের বাঁ তীরের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে গিয়ে ক্যানেলের (খাল) পানি আশপাশের ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে।
ভাঙনের ফলে পানি ঢুকে খালের পাশের অন্তত শতাধিক একর জমির সরিষা, বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন রবি শস্য তলিয়ে গেছে।
ক্যানেলটির পাশের কৃষক আব্দুর রহমান। তার সঙ্গে কথা হলে রাইজিংবিডি ডটকমকে তিনি বলেন, “চলতি বোরো মৌসুমে (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্পের পানি দেওয়া শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি থেকে। পানি পেয়ে তিস্তার কমান্ড এলাকার দিনাজপুর ক্যানেলের দুই ধারে কৃষকরা বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে চারা রোপণ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলে সেচ দিচ্ছেন।”
“এ অবস্থায় সোমবার বেলা ১২টার দিকে ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে আমার জমিসহ আশপাশের অন্তত শতাধিক একর জমিতে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।
আরেকজন কৃষক শরিফ ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “২০১৫ ও ২০২৪ সালেও ক্যানেলের বাঁধ ধসে গিয়ে তাতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।”
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী-পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন। সেখানে নীলফামারী পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান গেলে তাকে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে রয়েছে। সেই সঙ্গে এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে লাগানো আলুর ক্ষেতও শেষ।”
একই গ্রামের কৃষক রজব আলী অবশ্য বাঁধ ভাঙার জন্য পাউবোকে দূষলেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই নীলফামারী পাউবোর কর্মকর্তাদের ফোন করা হয়।
রজব আলী বলেন, “কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর ক্যানেলের নামমাত্র সংস্কার করে। যে কারণে ক্যানেলে ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।”
নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, “যতদূর ধারণা ওই স্থানে ইঁদুরের গর্ত ছিল। সেচের জন্য ক্যানেলে পানি ছাড়ায় ইঁদুরের গর্তের কারণে বাধটির ২০ ফুট বিধ্বস্ত হয়েছে।”
তিনি বলেন, “যেহেতু সেচনির্ভর বোরো আবাদ শুরু হয়েছে, তাই আমরা দ্রুত বিধ্বস্ত স্থানটি মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারব বলে আশা করছি। তবে দিনাজপুর ক্যানেলের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেচ প্রকল্পের রংপুর ও বগুড়া ক্যানেল সচল রয়েছে।”
দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে চলতি খরিপ-১ বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। এবার ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে পাউবো। এর মধ্যে নীলফামারী জেলার ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলার ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর ও দিনাজপুর জেলার ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ পাবে।
চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কমান্ড এলাকায় মে মাস পর্যন্ত টানা ৫ মাস বোরো ও রবি মৌসুমের জন্য কৃষকরা তিস্তার সেচ পাবেন।
ঢাকা/সিথুন/মাসুদ