নতুন চ্যালেঞ্জে নতুন দিনের প্রত্যাশা
পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির (বাঁয়ে) সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন মাঠে নামে তখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ আজ।
প্রায় পাঁচ মাস পর নিজেদের সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাটে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। অথচ মাথায় রাজ্র্যের চাপ। ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে নেমে শুধু জয়টা ছিনিয়ে আনলেই হবে না, লম্বা সময় ধরে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও নিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
মেহেদী হাসান মিরাজকে জুন পর্যন্ত ওয়ানডে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরে তিনি টিকবেন কিনা নিশ্চিত নন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তার অধিনায়কত্বের অগ্নিপরীক্ষাও আছে। সঙ্গে সরাসরি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিশ্চিতের সবচেয়ে বড় চিন্তা। ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ওই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ১০। তাই প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি সিরিজ এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই বছরই হয়ে যেতে পারে ভাগ্য নির্ধারণ। কেননা এই বছর ২২ ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। যার শুরুটা হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচ দিয়েই।
নতুন শুরু পাকিস্তানেরও। অতিথিদের দলে ওয়ানডে অভিষেক হয়নি এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা ছয় জনের। আজ তাদের ইনিংস শুরু করবেন তিন অনভিষিক্ত ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির দাবি, কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। নতুনদের ঝালিয়ে নিতে, সুযোগ করে দিতেই বাবর আজম, সাইম আইয়ুবকে দেশে রেখে আসা হয়েছে।
দুই দলের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। যা ছিল প্রথম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ। ওই বছরের জুলাইয়ে পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরে আসে এবং ৩ ম্যাচের একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলে। ওই সিরিজের সব ম্যাচেই পাকিস্তান জিতেছিল।
১১ বছর পর বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে আতিথেয়তা দিতে যাচ্ছে। সবশেষ দুই দল বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল ২০১৫ সালে। ৩-০ ব্যবধানে সেবার সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। লম্বা সময় পর দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে। আশার খবর বাংলাদেশ গত অক্টোবরে শেষ যে ওয়ানডে সিরিজটি খেলেছিল সেটা জিতেছিল। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল।
অধিনায়করা কী বলছেন?
মেহেদী হাসান মিরাজ, বাংলাদেশ
‘‘অবশ্যই আমাদের একটা লক্ষ্য আছে। যেহেতু সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং একটা শুরু করতে হবে, আমরা বলেছি যে, আমাদের এখন থেকেই শুরুটা হয়েছে। আমরা অবশ্যই ওভাবে একটা পরিকল্পনা করেছি। আগে ওয়ানডে আমাদের জন্য অনেক ভালো একটা ফরম্যাট ছিল এবং আমরা অনেক সেরা ফলাফলও পেয়েছি।’’
‘‘আমাদের একটা ভালো একটা প্যাটার্ন ছিল ওয়ানডেতে। বেশ কিছু অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার ছিল, একসঙ্গে অনেকদিন খেলেছে, তারা প্যাটার্নটা ভালো বুঝতে পেরেছে। আমাদের এখন যারা আছে, তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমার কাছে মনে হয় যে, ওয়ানডে এমন একটা খেলা, যেখানে আসলে প্রত্যেক পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে হবে, এটা সব ক্রিকেটারের জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটসম্যানদেরকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা ওভাবে পরিকল্পনা করছি এবং যেহেতু আমাদের শুরু হচ্ছে, আমরা চিন্তা করছি যে কীভাবে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে পারি।’’
শাহীন শাহ আফ্রিদি, পাকিস্তান
‘‘এই সিরিজের জন্য কেউকে বাদ দেওয়া হয়নি। আমরা শুধু আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চেয়েছি। কারণ তারা আমাদের ভবিষ্যত। তাই আমরা চাই, তারা বাংলাদেশ বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পায়। আমি মনে করি সময় এলে তারা তাদের ভূমিকা বুঝবে এবং ভবিষ্যতে কী আসছে তা জানবে। আমরা শুধু আমাদের দলকে ওয়ার্ল্ড কাপের জন্য প্রস্তুত করতে চাই, আর এটি তরুণদের জন্য সুযোগ। যাতে তারা মাঠে এসে তাদের দক্ষতা দেখাতে পারে।’’
‘‘কোনো দলই যখন নিজেদের মাঠে খেলে, তারা সেরাদের মধ্যে সেরা হয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কে বিপক্ষে খেলছে। যেমন বাংলাদেশও তাদের শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে রয়েছে এবং নিজেদের মাঠে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে এবং সবকিছুতে ভালো করেছে। তাই আমি মনে করি আমরা দল হিসেবে প্রস্তুত হয়েছি এবং শেষ দুইটি ওয়ানডে সিরিজ- দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলেছি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, এবং আমরা সেই ধারাটাই বজায় রাখব।’’
হেড টু হেড
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ১৯৮৬ সাল থেকে পরস্পরের বিপক্ষে খেলছে। দুই দল এখন পর্যন্ত ৩৯ ম্যাচ খেলেছে। বাংলাদেশের ৫ জয়ের বিপরীতে পাকিস্তানের জয় ৩৪টি।
আলোচনায় ট্রু উইকেট
সবশেষ ওয়ানডে সিরিজে মিরপুরে মন্থর ও টার্নিং উইকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল বিস্তর। নিজেদের মাটিতে হোম অ্যাডভানটেজ নিলেও মহাদেশীয় কিংবা বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের উঠানামা থাকে। এ কারণে ট্রু উইকেটে খেলার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরের উইকেট সেভাবেই সাজানো হয়েছে।
মিরাজ বলেছেন,‘‘ বেশির ভাগ ম্যাচ আমরা যদি ‘ট্রু’ উইকেটে খেলতে পারি, আমাদের ভালো অভিজ্ঞতা হবে। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের কিন্তু কোয়ালিফাইও করতে হবে (বিশ্বকাপে সরাসরি)। যাদের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে পারি, তাদের সঙ্গে অবশ্যই চেষ্টা করব নেওয়ার জন্য। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, বেশির ভাগ ম্যাচ যাতে আমরা ‘ট্রু’ উইকেট এবং ভালো উইকেটে খেলতে পারি। হোম কন্ডিশন মানে যে এরকম নয় যে, আমরা অনেক বাজে উইকেটে খেলব। কখনোই নয়। আমরা ভালো উইকেটেই খেলব, ¯্রফে প্রয়োজনে যেন হোম অ্যাডভান্টেজ নিতে পারি।’’
লিটন মিডল অর্ডারে, মিরাজ সাতে
এই সিরিজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় পরীক্ষা। কারণ, গত বছর ওয়ানডেতে ব্যাটিং ছিল সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ১১ ম্যাচের ৮টিতেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি দল। যেন প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ। নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত টিম ম্যানেজমেন্ট। রদবদল আসছে ব্যাটিং অর্ডারে। মিরাজ ব্যাটিং করবেন সাত নম্বরে। লিটনকে পাঠানো হচ্ছে মিডল অর্ডারে।
দুই দলের অধিনায়ক গতকাল সকালে ট্রফি উন্মোচন করেছেন টিম হোটেলে। যেই ট্রফির জন্য আজ তারা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে। প্রথম ম্যাচ জিতলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করা অধিনায়ক সেই বার্তাই দিয়েছেন গোটা দলে। নতুন চ্যালেঞ্জে পুরো দল নতুন দিনের প্রত্যাশা করছে।
ঢাকা/ইয়াসিন