ধামরাইয়ে গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দম্পতি দগ্ধ
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সাভারের একটি বাসায় মঙ্গলবার রাতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।
ঢাকার ধামরাইয়ে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে পৌরসভার কিষাণ নগর এলাকার একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় ঘটনাটি ঘটে।
দগ্ধরা হলেন- সুমনা বাদশা (৪৫) ও তার স্বামী বাদশা মিয়া (৫৫)।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রাতে চা তৈরি করতে যান গিয়ে চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া নুরুল ইসলাম নামে এক প্রতিবেশী বলেন, “হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয়। আশপাশের মানুষ প্রথমে বুঝতে পারেনি শব্দটি কিসের। এরপর গিয়ে দেখা যায়, বাদশা মিয়ার ঘরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জানালাগুলো ভেঙে গেছে। জানালার কাচ ভেঙে পড়ার বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ ঘটনায় বাদশার হাতে আঘাত লেগেছে। তার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। যখন তাদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি এলো আমরা বাদশাহ স্ত্রীকে গাড়িতে উঠাই। প্রায় ১০-১২ জন মিলে তাকে ধরাধরি করে তুলতে হয়। ধরার সময় বোঝা যাচ্ছিল, তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। এত ব্যথা যে তিনি তা সহ্য করতে পারছিলেন না।”
স্থানীয় বাসিন্দা অসীম ঘোষ বলেন, “আমার বাসা পাশেই। আমি যখন শব্দটা শুনি, তখনই দৌঁড়ে সেখানে যাই। প্রথমে ঠিক বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে। শুরুতে শুনলাম গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। পরে আবার শুনলাম বিষয়টা নাকি তা নয়। তারপর গিয়ে দেখি, পুরো রান্নাঘরের অবস্থা খারাপ এবং জানালাগুলো ভেঙে গেছে। তখন আশপাশের লোকজন বলছিল, লাইনের গ্যাসের চুলা হয়তো অন ছিল। চুলা অন থাকার কারণে রুমের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। পরে যখন আগুন ধরানো হয়, তখনই বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে।”
তিনি বলেন, “বাদশা কাকার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সবাই মিলে তাকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠাই। তখন দেখি, তার মুখ একদম ঝলসে গেছে এবং শরীরের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। টেলিফোনে খবর পেলাম, সেখানেও তার অবস্থা খুবই খারাপ। এ ঘটনায় বাদশা কাকার হাতও পুড়ে গেছে। তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি এখন এনাম মেডিকেলে আছেন।”
ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন খান বলেন, “আমরা রাত ১০টার দিকে খবর পাই যে, একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে রেসপন্স করি। পরে জানতে পারি, সেখানে আসলে কোনো আগুন ছিল না; তবে গ্যাসের লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল বা কোথাও লিকেজ ছিল। খবর পাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে আমাদের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সেখানে গিয়ে আমরা গ্যাসের রাইজারটি বন্ধ করে দেই।”
তিনি বলেন, “তার আগে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাংবাদিকরা আমাদের জানান, এ ঘটনায় দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী প্রায় শতভাগ দগ্ধ হয়েছেন এবং আরেকজন আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় একটি গাড়িতে করে তাদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পারি।”
ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভেতর ও বাইরের যে গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল, সেই দুইটি লাইনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।”
ঢাকা/সাব্বির/মাসুদ