ঢাকা     মঙ্গলবার   ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ৭ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ট্রাম্পের ‘আমন্ত্রণ’ প্রত্যাখ্যান করায় ম্যাঁখোকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১২, ২০ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৭, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ট্রাম্পের ‘আমন্ত্রণ’ প্রত্যাখ্যান করায় ম্যাঁখোকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ

গাজা পুনর্গঠন ও যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ডে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ফ্রান্স। এ ঘটনায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন ট্রাম্প। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ম্যাঁখো এই প্রত্যাখ্যান কোনো গুরুত্ব রাখে না এবং বাণিজ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিলে তিনি সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হবেন।  

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতি তদারকির উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বোর্ডে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধানকেও এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে ফ্রান্স প্রকাশ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট বলেন, “পিস অব বোর্ড-এ সনদে গাজার বাইরেও অন্যান্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা জাতিসংঘ অনুমোদিত শান্তি পরিকল্পনার আওতা বহির্ভূত।”

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্সের মূল আপত্তির জায়গা হলো ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী কিন্তু অস্পষ্ট, যা জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নিয়মাবলীকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে প্যারিস মনে করছে।

সোমবার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যখন জানানো হয় যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাঁখো এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন, তখন ট্রাম্প বলেন, “আসলে কেউ ওকে (ম্যাঁখো) চায় না, কারণ খুব শিগগির ওর মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “যদি তারা শত্রুতা পোষণ করে, তাহলে আমি ফরাসি ওয়াইন এবং শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দেব। তখন সে ঠিকই যোগ দেবে। তবে তার যোগ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”

ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য ট্রাম্পের চাপের কারণে পশ্চিম ইউরোপীয় এবং নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতিমধ্যে বেশ উত্তপ্ত। ট্রাম্প বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখল হবে ‘সহজভাবে অথবা কঠিনভাবে’। গত সপ্তাহে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তার বিরোধিতাকারী দেশগুলোর ওপর ১০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছেন, যার মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে।

কিছু সমালোচক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত গত বছর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো প্যানেল নয়, বরং এটি জাতিসংঘের কার্যকারিতার ওপর একটি আঘাত।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডকে একটি স্থায়ী সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যেখানে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে হলে অন্তত ১০০ কোটি ডলার অনুদান দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের অনেক তহবিলে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে এই যুক্তিতে যে, সংস্থাটি প্রায়ই মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়