ভোটে হারের পরও আমিনুল অনড়, ‘ভারত নিরাপদ নয়’
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। ফাইল ফটো।
বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না। সেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে আইসিসিকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে বিসিবি। অবশ্য আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে। নয়তো নতুন দলকে বেছে নেবে ক্রিকেট বিশ্বের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নানা পক্ষের আলোচনা, অনলাইন বৈঠক এবং চিঠি চালাচালির পর বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার ইস্যুতে জরুরিভিত্তিতে বোর্ড সভার আয়োজন করে আইসিসি। সভাটি হয় ভার্চ্যুয়ালি, যেখানে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগী দুটি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
আইসিসিরি এই বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু সরিয়ে নিতে বিসিবির অনুরোধ খারিজ হয়ে যায় সদস্যগুলোর ভোটাভুটিতে। বাংলাদেশ নিজের ভোট বাদে মাত্র একটি দেশের ভোট পেয়েছে। মোট ১৬টি দেশের ভোটের ১৪টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে।
ভোটের পর আইসিসির মুখপাত্র বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সাফ বলে দিয়েছেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিসি ধারাবাহিক ও গঠনমূলকভাবে বিসিবির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, বাংলাদেশ যেন এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে। এই সময়ে আইসিসি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তাসহ বিস্তারিত তথ্য আদান-প্রদান করেছে। সব মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত একটাই, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।”
ভোটে ‘হারের পর’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল বোর্ড আইসিসির সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে এক দিন সময় চেয়ে নেন। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেই তিনি সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
আইসিসিও সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বাংলাদেশকে এক দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে।
অনলাইনে আইসিসির বোর্ড মেম্বারদের সভা হয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টার ধরে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ভোটাভুটির আগে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। নিরাপত্তা নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন, সেটাও তুলে ধরেন। তবে এই সভাতে যে ভোটাভুটি হবে, সেটি ধারণা করতে পারেননি বিসিবি সভাপতি। আইসিসির সদস্যরা বাংলাদেশের সমস্যা বুঝতে পারবে বলে ধারণা করেছিলেন তিনি।
কিন্তু আইসিসির অবস্থান ছিল কড়া। বিশ্বকাপের তিন সপ্তাহ আগে বিসিবির পাওয়া অনুরোধ নিয়ে এখনো তারা কঠোর অবস্থানে। স্বাধীন নিরাপত্তা এজেন্সি দিয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা হুমকি কতটুকু, তা যাচাই করেছে তারা। তাতেও মেলেনি আশঙ্কার আভাস। বাংলাদেশের ক্রিকেটার, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের কোনো ঝুঁকি বা হুমকি দেখছে না আইসিসি। এ কারণে বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত জানাতে আরো সহজ হয় আইসিসির জন্য। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি ভোটাভুটিতে গড়ায়, যা বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন কী করবে? অবশ্য বিবিসি সভাপতি আমিনুল অলৌকিক কিছু আশা করছেন।
গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘‘আমি আইসিসির কাছ থেকে একটা মিরাকল ঘটনার আশা করছি। বিশ্বকাপ খেলতে কে না চায়? ভোট শুরু হওয়ার আগে আমরা আইসিসিকে আমাদের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলাম। আমরা ভোটে যেতে চাইনি।’’
মিরাকল ঘটনা কী? সেটা আইসিসি কীভাবে ঘটাতে পারে- সেই ব্যাখ্যা দেননি আমিনুল। তবে আইসিসি বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করবে, সেই বিশ্বাস এখনো রয়েছে তার।
আমিনুলের দাবি, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও বিশ্বকাপ খেলতে চাচ্ছেন। সরকারও খেলার পক্ষে। কিন্তু ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় সেদেশে খেলতে রাজি নয়।
এদিকে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, সেই উপায়ও নেই। তারা বাংলাদেশের অনুরোধের না-সূচক জবাব দিয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলছেন, ‘‘বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ খেলতে চান। বাংলাদেশ সরকার চায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক। কিন্তু আমরা মনে করি না ভারত আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ। আমরা তাদের শ্রীলঙ্কায় ম্যাচগুলো স্থানান্তর করতে বলেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, আমরা আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পরিবর্তন করতে পারি। এটি সবচেয়ে সহজ উপায় হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা বলেছিল যে, আমরা আমাদের গ্রুপে একটি নতুন দল চাই না। ভোটের পরে, আমি তাদের বলেছিলাম আমি আমার সরকারকে বলার জন্য শেষ সুযোগ চাই। তারা বলেছিল, এটি হতে পারে। তারা আমাদেরকে সেই সময় দিয়েছে।’’
তবে সরকারের ওপর কোনো চাপ দিতে চান না আমিনুল। পরিস্থিতি যেমন আছে, সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে- তেমনই ইঙ্গিত দিলেন, বললেন, ‘‘আমি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাই না। আমরা জানি, ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা এখনো শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। আমি জানি, আইসিসি আমাদের অস্বীকৃতি জানিয়েছে কিন্তু আমরা সরকারের সাথে আরো একবার কথা বলব। আমি সরকারের প্রতিক্রিয়া আইসিসিকে জানাব। সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেয় তখন কেবল খেলোয়াড়দের বিবেচনা করে না, তারা সকলকেই বিবেচনা করে।”
ঢাকা/ইয়াসিন/রাসেল