আলকারাজের অস্ট্রেলিয়ান স্বপ্নপূরণ: জোকোভিচকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস
মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় টেনিস ইতিহাসের এক স্মরণীয় রাত দেখল ক্রীড়াপ্রেমিরা। কার্লোস আলকারাজ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জিতলেন। শুধু তাই নয়, এই জয়ে তিনি ওপেন যুগের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্লাম পূর্ণ করলেন। আর জোকোভিচের অভাবনীয় ২৫তম গ্র্যান্ড স্লামের স্বপ্ন আপাতত থামিয়ে দিলেন।
শুরুটা যদিও আলকারাজের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম সেটে জোকোভিচ অভিজ্ঞতার ঝলক দেখিয়ে ৬-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু এরপর দৃশ্যপট পুরো বদলে দেন স্প্যানিশ তরুণ। ম্যাচে ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তিনি পরের তিন সেট জেতেন ৬-২, ৬-৩ ও ৭-৫ ব্যবধানে। প্রায় চার সেটের লড়াইয়ে ৩৮ বছর বয়সী জোকোভিচকে কৌশল, গতি ও মানসিক দৃঢ়তায় ছাপিয়ে যান ২২ বছরের আলকারাজ।
এই জয়ের মাধ্যমে আলকারাজের গ্র্যান্ড স্লাম সংখ্যা দাঁড়াল সাতটিতে। উইম্বলডন, ফ্রেঞ্চ ও ইউএস ওপেন- প্রতিটিতে দুটি করে শিরোপার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। বয়সের হিসেবে তিনি ছাড়িয়ে গেলেন নিজেরই কিংবদন্তি স্বদেশি রাফায়েল নাদালকে। যিনি একই কীর্তি গড়েছিলেন আরও দুই বছর বেশি বয়সে। গ্যালারিতে বসেই নাদাল প্রত্যক্ষ করলেন ইতিহাসের এই মুহূর্ত।
জোকোভিচের জন্য এই হার ছিল বিশেষভাবে হতাশার। মেলবোর্নে ফাইনালে এটিই তার প্রথম পরাজয়- এর আগে ১০টি ফাইনালেই জিতেছিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের যে লক্ষ্য, তা আরও পিছিয়ে গেল। ২০২৩ ইউএস ওপেনের পর আর কোনো গ্র্যান্ড স্লাম না জেতা জোকোভিচের সামনে নতুন প্রজন্মের শক্ত চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়ে উঠল।
ম্যাচের মাঝপথে চোখে পড়েছে জোকোভিচের ক্লান্তি, চোখে ড্রপ ব্যবহার ও শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা। বিপরীতে আলকারাজ ছিলেন নিরন্তর আক্রমণাত্মক। চতুর্থ সেটে জোকোভিচ প্রাণপণ লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত আলকারাজের চাপ সামলাতে পারেননি।
এই জয়ের ফলে আলকারাজ বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরেই থাকলেন, জানিক সিনার দুইয়ে এবং জোকোভিচ উঠে এলেন তিন নম্বরে। নতুন যুগের টেনিসে আলকারাজ যে এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি- অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই ফাইনাল সেটিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
ঢাকা/আমিনুল