চার মেরে দলের জয়ের সঙ্গে আফিফের রোমাঞ্চকর সেঞ্চুরি
জয় তখন একেবারেই নাগালে চলে এসেছে সাউথ জোনের। সেন্ট্রাল জোনের দেওয়া ২৬৫ রান তাড়ায় বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুন।
নব্বইয়ের ঘরে আফিফ যখন প্রবেশ করেন তখন জয় থেকে ১৪ রান দূরে সেন্ট্রাল জোন। দল অনায়াস জয়ের সঙ্গে আফিফের সেঞ্চুরির অপেক্ষায়। মিঠুন রয়েসয়ে থাকলেন। যতটা পারলেন আফিফকে রান নেওয়ার সুযোগ দিলেন।
বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কাজে লাগালেন। ওয়াসি সিদ্দিকীকে একটি চার মেরে রান বাড়িয়ে নেন। রোমাঞ্চ ছড়ায় যখন জয় থেকে সাউথ জোন ৫ রান দূরে ছিল। আফিফও তখন ৯৫ রানে ব্যাটিংয়ে। সাইফ হাসানের ওভারের দ্বিতীয় বলে আফিফ ১ রান নেন। পরের বল মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১ রানে। চতুর্থ বল ওয়াইড। তাতে জিততে প্রয়োজন ২ রান। এবার সেঞ্চুরিতে পেতে তার বড় শট চাই!
হতাশ করেননি তিনি। সাইফের শর্ট বল পুল করে সীমানায় পাঠালেন। সেখানে নাঈম হাতের মুঠোয় থাকা সহজ বল ছেড়ে দিয়ে বল পাঠালেন সীমানায়। তাতে আফিফের সেঞ্চুরির সঙ্গে সাউথ জোনের বড় জয়ও নিশ্চিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহীতে ৭ উইকেটে জিতেছে সাউথ জোন। সেন্ট্রাল জোনকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে তারা। আগে ব্যাটিং করতে নেমে সেন্ট্রাল জোন ৭ উইকেটে ২৬৪ রান করে। জবাব দিতে নেমে সাউথ জোন ২৭ বল হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে।
তাদেরকে সহজ জয় এনে দেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৩২ বলে ১৫৯ রানের জুটিতে জয় পেতে একটুও বেগ পেতে হয়নি সাউথ জোনকে।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় লিস্ট ‘এ’ শতক পাওয়া আফিফ হোসেন ম্যাচসেরা হন। ৮৬ বলে ৮ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেছেন শতরানের ইনিংস। মিঠুন ৬৫ বলে ৭২ রান করেন ৭ চার ও ৩ ছক্কায়।
লক্ষ্য তাড়ায় সাউথ জোনের শুরুটা ভালো ছিল না। ওপেনিংয়ে নামা সৌম্য সরকার গোল্ডেন ডাক মারেন। পেসার আবু হায়দার রনির বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে কাভারে লোপ্পা ক্যাচ দেন। সেখান থেকে ৮১ রানের জুটি গড়েন আনিসুল ইসলাম ও জাওয়াদ আবরার। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান বেশ সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফিফটির দিকে।
কিন্তু চল্লিশের ঘর পেরোনোর পর দুজনই আউট হন। প্রথমে আনিসুল লেগ স্পিনার ওয়াসির বলে এলবিডব্লিউ হন ৪৩ রানে। জাওয়াদ তাকে অনুসরণ করেন ৪০ রান তুলে। স্পিনার সাইফের বলে ওয়াসির হাতে ক্যাচ দেন।
চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন আফিফ হোসেন ও মোহাম্মদ মিঠুন। দুজনের শতরানের জুটিতে সাউথ জোন সহজেই জয় পেয়ে যায়। শতরানের জুটি গড়ার পথে দুজনই তুলে নেন ফিফটি। প্রথমে আফিফ ৫০ বলে। পরে মিঠুন ৪৩ বলে।
ফিফটির পর আফিফ দুইবার ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। প্রথমে ৬১ রানে মাহিদুল উইকেটের পেছনে ক্যাচ ছাড়েন। ৬৭ রানে ডিপ মিড উইকেটে নাঈম শেখের হাত ফসকে ক্যাচ বেরিয়ে যায়। দুইবারই বোলার ছিলেন সাইফ হাসান। অন্যদিকে মিঠুন আগ্রাসন বাড়িয়ে দ্রুত ম্যাচ শেষ করার চেষ্টায় ছিলেন। চার-ছক্কা হাঁকিয়ে সফলও ছিলেন তিনি।
এর আগে তিন ফিফটিতে সেন্ট্রাল জোনের রান আড়াইশ পেরিয়ে যায়। ফিফটি ছোঁয়া তিন ব্যাটসম্যানই করেছেন ষাটের ঘরের রান। সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ৭৬ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৯ রান করেন তিনি। এছাড়া মাহফিজুল ইসলাম রবিন সমান বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৬৩ রান। চারে নেমে ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত টিকে ছিলেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ৭৩ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৭ রান করেন মাহিদুল।
এছাড়া ইফরান শুক্কুর করেন ২৫ রান। ইনিংসের শুরুতে রান পেতে ধুকেছেন সাইফ হাসান। ৩৫ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় মাত্র ১৯ রান করেন তিনি। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিমূলক ক্রিকেটে ফিরে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১২ বলে ৮ রান করেন।
সাউথ জোনের পেসার মোস্তাফিজুর ১০ ওভারে ৩ মেডেনে ৪৪ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন সৌম্য সরকার ও তানভীর ইসলাম। ১টি উইকেট নেন রবিউল হক।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল