পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে সতর্কবার্তা ইংল্যান্ড বোর্ডের
ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতা ‘দ্য হান্ড্রেড’ এর আসন্ন নিলামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য বর্জনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়তেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সকল দলকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে- খেলোয়াড় নির্বাচন অবশ্যই বৈষম্যবিরোধী নীতিমালার আলোকে হতে হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ-সংযুক্ত মালিকানার কয়েকটি দল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিবেচনায় নাও নিতে পারে। যদিও কোনো দল আনুষ্ঠানিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি, তবু বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে বোর্ড। কারণ, ২০২৬ মৌসুমের নিলামের জন্য ষাটের বেশি পাকিস্তানি ক্রিকেটার নাম নিবন্ধন করেছেন।
আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই চিঠি দিয়ে বোর্ড স্পষ্ট করেছে- দল গঠনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জাতীয়তা-ভিত্তিক বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। সরাসরি কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা বোর্ডের নেই। তবে বৈষম্যের প্রমাণ মিললে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতিযোগিতার মর্যাদা ও ন্যায্যতা রক্ষাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। খেলোয়াড় বাছাই হবে কেবল পারফরম্যান্স ও কৌশলগত বিবেচনায়।”
ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘ টানাপোড়েনের প্রভাব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও পড়েছে বহুবার। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ভারতীয় বিনিয়োগ-সম্পৃক্ত দলগুলো বিদেশি প্রতিযোগিতাতেও একই নীতি অনুসরণ করতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
বর্তমানে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস, এমআই লন্ডন, সাউদার্ন ব্রেভ এবং সানরাইজার্স লিডস; এই চার দলের সঙ্গে ভারতীয় লিগ-ঘনিষ্ঠ বিনিয়োগকারীদের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বড় সংখ্যায় উপেক্ষা করা হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন তুলতে পারে।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেছেন, “ক্রিকেট সবসময় প্রতিভার খেলা। যদি কোনো খেলোয়াড় শুধু জাতীয়তার কারণে সুযোগ না পায়, তা দুঃখজনক হবে।” সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও মত দিয়েছেন- রাজনীতি যেন খেলাধুলার সিদ্ধান্তে প্রভাব না ফেলে।
নতুন বিনিয়োগ ও বাড়তি পারিশ্রমিকের কারণে ‘দ্য হান্ড্রেড’ এখন আর্থিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। নিলামে বড় অঙ্কের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দলগুলোর আচরণ কেবল খেলোয়াড় নির্বাচন নয়, ক্রিকেটের ন্যায্যতার প্রশ্নও সামনে আনবে।
ঢাকা/আমিনুল