ভারতের আজ জিম্বাবুয়ে ‘পরীক্ষা’, সঙ্গে …
ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
চীপকে আজ জিম্বাবুয়েকে বিশ্বকাপের ম্যাচে আতিথেয়তা দেবে ভারত। ম্যাচটা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। কিন্তু ভারতের লড়াইটা শুরু হয়ে যাবে দুপুরেই!
সেটা কীভাবে?
আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ শুরু বিকেল সাড়ে তিনটায়। এই ম্যাচটাকে ভারত পাখির চোখে পড়খ করবে! কেননা ম্যাচের ফলের ওপর তাদের ভাগ্যও ঝুলে আছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সুপার এইটের ভাগ্য ঝুলে আছে। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাজেভাবে হারের পর কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে তারা। জিম্বাবুয়ে আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে দাঁড়াতে না পারলেও গ্রুপ পর্বে তারা অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। ফলে তাদেরকে হাল্কাভাবে নেওয়ার কারণ নেই।
চীপকে ভারতকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়েই ম্যাচ জিততে হবে। তবে যদি ভারত হেরে তাহলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ ভাগ্য শেষ। গতকাল রাতে এমনিতেই শ্রীলঙ্কা বিদায় নিয়েছে। আজ কী আরেক স্বাগতিক দেশের পালা?
চেন্নাইয়ের চীপকে নিজেদের ম্যাচের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের উত্তেজনাকেও মাথায় রাখতে হচ্ছে সূর্যকুমার যাদবকে। দুই দলই সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ জিতেছে। আজ দুপুরে ছন্দে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যদি দক্ষিণ আফ্রিকা হারাতে পারে তাহলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। তাদের শেষ ম্যাচ হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে গেলে তাদেরও সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরে গেলে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকা জিম্বাবুয়েকে শেষ ম্যাচে হারাতে পারলে এবং ভারত জিম্বাবুয়েকে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিততে পারলে ম্যান ইন ব্লুদের সেরা চারে যাওয়া হবে।
এসব সমীকরণে কিন্তু জিম্বাবুয়েও টিকে আছে। তারা যদি আজ ভারতকে হারানোর পর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও বড় ব্যবধানে হারায় তাহলে পাশার দান পাল্টে যাবে। তখন সেরা দুই দল নিয়ে জটিলতায় পড়তে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ছন্নছাড়া দেখিয়েছে ভারতের ব্যাটিং আক্রমণকে। মনে হয়েছে, আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে। জ়িম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে বড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক। বৃহস্পতিবার প্রথম একাদশে হয়তো সঞ্জু স্যামসনকে দেখা যেতে পারে। আরও কিছু বদল হলেও অবাক হওয়ার নেই।
কোটাক বলেছেন, “দলে বদল হতে পারে। আমরা এটা নিয়ে আলোচনা করেছি। দু’জন বাঁ হাতি ওপেনার রয়েছে দলে। তিনে যে ব্যাট করতে নামে সে-ও বাঁ হাতি। তাই বিপক্ষ অফস্পিনারদের দিয়ে চাপ তৈরি করছে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় না কোনও সমস্যা রয়েছে। কিন্তু টানা তিনটি ম্যাচে কোনও দল উইকেট হারালে সেটা নিয়ে ভাবতেই হয়। তাই আমরাও ভাবছি এবং দেখছি সব কিছু কোন দিকে এগোয়। আসলে আমরা কখনওই এত আগে থেকে দল তৈরি করি না। এত আগে পরিকল্পনা বলার জায়গাও আসেনি। তবে আলোচনা হয়েছে এটা ঠিক।”
কোটাক মনে করেন, বিশ্বকাপ জিততে গেলে চাপ নেওয়া জানতেই হবে। তার কথায়, “ভারতে বিশ্বকাপ হচ্ছে। তাই চাপ এবং প্রচুর প্রত্যাশা থাকবেই। আমি বিশ্বাস করি, যে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচেই থাকে। বিশেষ করে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার চাপ মারাত্মক। তবে একটা ম্যাচ হেরেছি বলেই চাপের প্রসঙ্গ তোলার অর্থ নেই। দলে যারা রয়েছে তারা চাপ নিতে জানে। বিশ্বকাপ জিততে গেলে চাপ নিতেই হবে।”
ঢাকা/ইয়াসিন