সুন্দরবনে দাহ্য বস্তু নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সুন্দরবনে দাহ্য বস্তু নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বনসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। ছবি: রাইজিংবিডি
শুষ্ক মৌসুম এলেই বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন নিয়ে বাড়ে দুশ্চিন্তা। গত ২৩ বছরে ২৭ বার অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক একর বনভূমি পুড়ে গেছে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে। বারবার আগুনে ক্ষতির পর এবার কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ। প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রবেশপথে বিড়ি সিগারেটসহ যেকোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানায়, শুষ্ক মৌসুমে সামান্য অসতর্কতা থেকেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দাহ্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা চলবে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত।
বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বনসংলগ্ন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জিউধরা, চিলা, জয়মুনি, কপিলমুনি ও কটকা প্রবেশপথ দিয়ে জেলে, বাওয়ালী ও স্থানীয়রা আর বিড়ি–সিগারেট কিংবা অন্য কোনো দাহ্য বস্তু নিয়ে বনে ঢুকতে পারবেন না। প্রবেশের সময় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
জিউধরা স্টেশনের বনরক্ষী মাজহারুল সরদার বলেন, “অতীতে আগুন লাগার বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে মানুষের অসচেতনতা কিংবা দুর্বৃত্তদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমরা টহল জোরদার করেছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শরণখোলা উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা আবু তয়ের বলেন, “সুন্দরবন আমাদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। বারবার আগুনে বন পুড়তে দেখে আমরা কষ্ট পাই। বন বিভাগের এই উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “গত দুই দশকে অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে। বনসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়।”
তিনি আরো বলেন, বন বিভাগের তদন্তে আগের কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডে একশ্রেণির স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। যাতে পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য টহল বৃদ্ধি ও প্রবেশপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে বন বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকা/আমিনুল/ইভা