আগ্রহ, উদ্দীপনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার রোমাঞ্চ
প্রায় পাঁচ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। গত বছরের অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর লম্বা সময় ধরেই এই ফরম্যাটের বাইরে দল। বাংলাদেশ শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে চার মাস হয়ে গেল। গত ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।
বিপিএল শেষে বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। কিন্তু সরকার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ায় বাংলাদেশের অপেক্ষাও লম্বা হয়। অবশেষে মাঠে ফেরার অপেক্ষা দূর হচ্ছে। আগামীকাল বুধবারই বাংলাদেশ আতিথেয়তা দেবে পাকিস্তানকে। দেশের জার্সিতে মিরাজদের মাঠে ফেরার রোমাঞ্চ টের পাওয়া গেল কণ্ঠে, ‘‘সবাই ভালো আছে। সবাই খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দলের পরিবেশও বেশ ভালো। অনেকদিন পর আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি, তাই সবাই চেষ্টা করছে কীভাবে ভালো করা যায় এবং পারফর্ম করা যায়। আমি আমার দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যেই সেই চেষ্টা ও আগ্রহটা দেখছি।’’
এই বছর বাংলাদেশ ২২ ওয়ানডে খেলবে। পাকিস্তানের পর ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে তিনটি করে এবং অ্যাওয়েতে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যথাক্রমে তিনটি ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে টাইগাররা। এই ম্যাচগুলো আইসিসির এফটিপির অংশ হওয়ায় র্যাংকিং নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যা কাজে আসবে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে।
মিরাজ নিজের ভাবনা খোলাখুলিভাবে শেয়ার করেছেন, ‘‘দেখেন, এ বছর আমাদের অনেক বেশি ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে। এর আগেও বলেছি, ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে আমরা খুব বেশি ওয়ানডে খেলিনি। যেগুলো খেলেছি, সেগুলোও দীর্ঘ বিরতি দিয়ে হয়েছে। যা আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। তবে এ বছর যেহেতু অনেক ওয়ানডে ম্যাচ রয়েছে, তাই আমরা পরিকল্পনাগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ পাব। পাশাপাশি র্যাংকিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, আমাদের জন্য প্রতিটি সিরিজ এবং প্রতিটি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ যে সিরিজটি আমরা জিতেছি এবং আগামীকাল থেকে যে সিরিজটি শুরু হচ্ছে, পাশাপাশি সামনে যে সিরিজগুলো আছে- সবই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করছি। খুব বেশি দূরের কথা না ভেবে আমরা সিরিজ বাই সিরিজ এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। শেষ পর্যন্ত আশা করছি, এই পরিকল্পনা থেকে ভালো একটি ফলই আসবে।’’
এই সিরিজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় পরীক্ষা। কারণ, গত বছর ওয়ানডেতে ব্যাটিং ছিল সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। ১১ ম্যাচের ৮টিতেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি দল। যেন প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ। নিজেদের ব্যাটিং নিয়ে মিরাজ নিজেও চিন্তিত, ‘‘আপনি যেটা বললেন- শেষ দুটি সিরিজে আমরা হয়তো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি। এটা অবশ্যই আমাদের সবার ব্যর্থতা। তবে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে খেলেছি, সেটাও কিছুটা কঠিন ছিল। কারণ দেখেন, তখন ব্যাক-টু-ব্যাক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল, তার পরেই টেস্ট ম্যাচ। অর্থাৎ ওয়ানডে খুব কম খেলা হয়েছে। ফলে অনেক সময় খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিল বা মানসিকভাবে পুরোপুরি সতেজ ছিল না। আমার মনে হয়, এখানে একাধিক বিষয় কাজ করেছে। তবে এখন যেহেতু নতুনভাবে শুরু হচ্ছে, আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেক খেলোয়াড়ই এখন অনেক বেশি ফ্রেশ এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত। এই সিরিজের আগে আমরা বেশ কয়েকটি ওয়ানডে ম্যাচও খেলেছি, ফলে প্রস্তুতিটাও ভালো হয়েছে বলে মনে করি।’’
‘‘আর আপনি যে পাইলটের মতো ককপিটে বসে মসৃণ টেকঅফের কথা বললেন- হ্যাঁ, অবশ্যই। এই সিরিজ থেকেই আমাদের চেষ্টা থাকবে ওয়ানডে ফরম্যাটে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর। যেন এখান থেকে আমরা ভালোভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পারি, সেই পরিকল্পনাই আমরা এখন সাজিয়ে নিচ্ছি।’’ – যোগ করেন মিরাজ।
ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আনছে টিম ম্যানেজমেন্ট। লিটন ওপেনিংয়ের বদলে এসেছে মিডলঅর্ডারে। মিরাজ নেমে যাচ্ছেন আটে। ব্যাটিং অর্ডারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক যা বলেছেন, ‘‘ব্যাটিং অর্ডারের বিষয়ে বললে, আমরা অবশ্যই দলের জন্য যে কম্বিনেশনটা সবচেয়ে ভালো হবে সেটাই বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছি এবং সেটাই করব। কারণ দিনের শেষে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফলাফল। সামনে যেহেতু ওয়ানডে বিশ্বকাপ রয়েছে, তাই র্যাংকিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে যে খেলোয়াড় যে পজিশনে সফল হয়েছে, আমরা চেষ্টা করব তাকে সেই জায়গাতেই খেলানোর, যেন সে সেখানে ভালো পারফর্ম করতে পারে। আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা করছি।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল