শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে হার এড়াল বার্সেলোনা
ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের প্রায় নিশ্চিত জয় শেষ মুহূর্তে কেড়ে নিলেন লামিনে ইয়ামাল। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ম্যাচের একেবারে শেষ কিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনেন এই স্প্যানিশ তরুণ। ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ড্র করে ফিরতি ম্যাচের আগে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকল কাতালান ক্লাবটি।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে হার্ভি বার্নস গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল ঐতিহাসিক এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে ডিফেন্ডার মালিক থিয়াওয়ের চ্যালেঞ্জে দানি অলমো ফাউল হলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। সেই সুযোগ থেকে ইয়ামাল নির্ভুল শটে গোল করে সমতা ফেরান।
পুরো ম্যাচে তুলনামূলক ভালো খেলেছিল নিউক্যাসল। অনেক সুযোগ তৈরি করে তারা বার্সেলোনাকে চাপে রেখেছিল। তাই শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছে ‘ম্যাগপাই’ সমর্থকরা।
এই ড্রয়ের ফলে আগামী সপ্তাহে ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগের আগে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা কোচ হানসি ফ্লিক বলেন, “সত্যি বলতে আমি ফলাফল নিয়েই বেশি খুশি। বল দখলে আমরা খুব ভালো খেলতে পারিনি। অনেক সহজ ভুল করেছি এবং বারবার বল হারিয়েছি। নিউক্যাসল ঠিক এটাই চেয়েছিল। তারা বল পেলেই দ্রুত আক্রমণে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “তাদের খেলোয়াড়রা খুব দ্রুত ও গতিময়। এখানে খেলা সহজ নয়। তবে আজ আমাদের ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্স ভালো ছিল।”
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নিউক্যাসল। ৬ মিনিটে লুইস হলের পাস থেকে উইল ওসুলা প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা পান। কিন্তু শট নিতে দেরি করায় জেরার্ড মার্তিন এসে তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে বার্সেলোনা। ইয়ামাল ও রাফিনিয়া দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়তে থাকেন, আর মাঝমাঠে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকেন পেদ্রি।
২১ মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও ড্যান বার্নের স্পর্শে বল গোলপোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপর ইয়ামালের জোরালো শট দক্ষতায় ঠেকান গোলরক্ষক অ্যারন রামসডেল।
দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগের পাল্টাপাল্টি লড়াই চলতে থাকে। ৬৬ মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস থেকে রবার্ট লেভানডোভস্কির শট অল্পের জন্য বাইরে যায়।
৭৪ মিনিটে হার্ভি বার্নসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৮৬ মিনিটে জ্যাকব মারফির ক্রস থেকে কাছ থেকে গোল করে নিউক্যাসলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই মুহূর্তে স্টেডিয়ামজুড়ে আনন্দে ফেটে পড়ে স্বাগতিক সমর্থকেরা।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে সব বদলে যায়। অলমো ফাউলের শিকার হলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। চাপের মুহূর্তে ইয়ামাল নিখুঁত শটে গোল করে নিউক্যাসলের জয় স্বপ্ন ভেঙে দেন।
ম্যাচের শেষ দিকে রোনাল্ড আরাউহো ও মার্ক বেরনালকে বদলি করা হয়। বিশেষ করে বেরনাল মাঠ ছাড়ার আগে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করছিলেন।
এ বিষয়ে ফ্লিক বলেন, “আজকের ম্যাচ খুবই কঠিন ছিল। আরাউহো অনেকদিন পর খেলেছে, বেরনালও একই অবস্থায়। ধীরে ধীরে তারা আরও ভালো পারফরম্যান্সে ফিরবে।”
তিনি আরও বলেন, “এখানের পরিবেশ দারুণ ছিল। নিউক্যাসল অসাধারণ খেলেছে। এমন ম্যাচে ১০০% মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি, আর আমরা অন্তত রক্ষণে সেটা করতে পেরেছি।”
ঢাকা/আমিনুল