ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যেভাবে করা হয় ডিএনএ পরীক্ষা

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬  
যেভাবে করা হয় ডিএনএ পরীক্ষা

ছবি: প্রতীকী

টিভি বা সিনেমার ক্রাইম শোতে আমরা প্রায়ই দেখি—অপরাধস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর তদন্তকারীরা শনাক্ত করতে পারেন মূলত অপরাধীকে। কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। ফরেনসিক ডিএনএ বিশ্লেষণ বা ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, যা এক ঘণ্টার প্রাইমটাইমের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়।

ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং কী?
ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা জীবের জেনেটিক গঠন বিশ্লেষণ করা হয়। এটি ব্যবহৃত হয়— অপরাধ তদন্তে প্রমাণ হিসেবে, অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্ত করতে, রক্তের সম্পর্ক নির্ধারণে এবং বিভিন্ন বংশগত রোগ শনাক্তে। 

আরো পড়ুন:

ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড) আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা একটি দ্বি-সূত্রাকার রাসায়নিক গঠন। এটি এক ধরনের পলিমার, যা জীবনের মৌলিক নকশা বহন করে।ডিএনএতে থাকে চার ধরনের ক্ষার, এরা জোড়ায় জোড়ায় যুক্ত হয়ে তৈরি করে ‘বেস পেয়ার’। মানুষের ডিএনএতে প্রায় ৩ বিলিয়ন বেস পেয়ার রয়েছে, সম্পূর্ণ ডিএনএ সেটকে বলা হয় ‘জিনোম’। মানুষে মানুষে জিনোমের প্রায় ৯৯.৯% একই হলেও বাকি ০.১% পার্থক্যই আমাদের আলাদা করে তোলে—চেহারা, আচরণ ও বৈশিষ্ট্যে। এই ক্ষুদ্র পার্থক্যই ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের মূল ভিত্তি।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
অপরাধ তদন্তে সাধারণত নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়— অপরাধস্থল থেকে জেনেটিক নমুনা (চুল, রক্ত, নখ ইত্যাদি) সংগ্রহ,  সন্দেহভাজন ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ এবং উভয় নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ বিশেষ করে ১৩টি STR (Short Tandem Repeat) মার্কার স্ক্যান করা  STR হলো ডিএনএতে থাকা ছোট ছোট পুনরাবৃত্ত অংশ, যা প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন। এই ভিন্নতাই একটি অনন্য “ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট” তৈরি করে।

আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতি
সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য অনুমান করার চেষ্টা করছেন। যেমন—চোখের রং শনাক্ত করা তবে এসব পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু গবেষণা ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় সব জাতিগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সমান কার্যকর নাও হতে পারে। আর শুধুমাত্র চোখের রঙের মিল দিয়ে কাউকে অপরাধী প্রমাণ করা সম্ভব নয়—এগুলো কেবল তদন্তে সহায়ক তথ্য দেয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার
ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং শুধু অপরাধ তদন্তেই নয়, চিকিৎসাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আগে দাতা ও গ্রহীতার টিস্যু ম্যাচিং, বংশগত রোগ শনাক্তকরণ এবং রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ। 

ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং অত্যন্ত নির্ভুল হলেও এটি শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ—ফরেনসিক বিজ্ঞান সম্ভাব্যতার ওপর নির্ভরশীল, নমুনা দূষিত বা অসম্পূর্ণ হতে পারে । ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং আধুনিক বিজ্ঞানের এক অসাধারণ অর্জন, যা অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষ শনাক্ত করা থেকে শুরু করে অপরাধ তদন্ত ও চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

সূত্র: বিজ্ঞানচিন্তা

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়