ঢাকা     বুধবার   ১৮ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৫ ১৪৩২ || ২৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মিরাজের রান আউট বৈধ ছিল: এমসিসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫১, ১৮ মার্চ ২০২৬  
মিরাজের রান আউট বৈধ ছিল: এমসিসি

মেহেদী হাসান মিরাজ ও সালমান আগার রান আউটের ঘটনা নিয়ে ক্রিকেট আইন প্রণেতা মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) জানিয়েছে, মিরাজের রান আউট বৈধ ছিল। 

এমসিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা ব‌্যাটসম‌্যান যদি বোলার বল ডেলিভারি করার আগে ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে যান, তবে বোলার তাকে রান আউট করতে পারেন। সালমানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় এমসিসি। 

ভিডিও বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, বল ছাড়ার আগে সালমান ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে বোলার স্টাম্প ভেঙে দিলে সেটি নিয়মের বাইরে নয়।

এমসিসি আরো জানায়, বলটি ‘ডেড’ ছিল—এমন কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

গত শুক্রবার মিরপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচের একটি নাটকীয় রান আউটকে কেন্দ্র করে আলোচনার জন্ম হয়। শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। কেউ বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলে। কেউ বিপক্ষে। ক্রিকেট বিশ্বে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আলোচনা। মিরাজ ও সালমান আগার সেই রান আউট নিয়ে স্পোর্টসম‌্যানশিপের প্রশ্নও উঠে।  

ম্যাচে কী ঘটেছিল?

৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলের ঘটনা। মিরাজের শর্ট বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করেছিলেন রিজওয়ান। বল ঠেকিয়ে রান আটকে রাখতে মিরাজ ডান পা এগিয়ে দেন। ততক্ষণে ক্রিজের বাইরে ননস্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান। দুজনের ধাক্কা লেগে যায় মুহূর্তেই। বল থেমে যায় মিরাজের পায়ে লেগে।

মিরাজকে বল তুলে দিতে চেষ্টা করেন সালমান। কিন্তু বল দ্রুত গতিতে তুলে মিরাজ ভাঙেন স্টাম্প। আবেদন করেন রান আউটের। আম্পায়ার তানভীর তৃতীয় আম্পায়ারের স্বরণাপন্ন হন এবং তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মাসেনা রিপ্লে দেখে ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানকে আউট দেন।

আউট হয়ে নিজের মেজাজ হারান সালমান। মিরাজকে আঙুল তুলে কথা বলতে দেখা যায় তাকে। লিটনও এগিয়ে এসে সালমানকে পাল্টা জবাব দেন। সালমান নিজের মেজাজ স্থির রাখতে পারেননি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে তার অবয়ব ছিল রাগান্বিত। ড্রেসিংরুমের আগে নিজের গ্লাভস, হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেন। ব্যাট আঘাত করেন মাটিতে। তাকে আউট হওয়ায় ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে কোচ মাইক হেসনকে কথা বলতে দেখা যায় চতুর্থ আম্পায়ার মাহমুদুর রহমান মুকুলের সঙ্গে।

রান আউট পুরোপুরি বৈধ হয়েছে। বল তখনও ডেড হয়নি। মিরাজ বল তুলে রান আউট করে চতুরতা দেখিয়েছেন। সালমান ডেড হওয়ার আগেই যদি বল নিজের হাতে তুলে নিতেন তাহলে বাংলাদেশ ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্যা ফিল্ড’ বা ‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ আউটও চাইতে পারতো। তাহলেও আউট হতেন সালমান।

কিন্তু মিরাজ তাৎক্ষণিকভাবে বল নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেখিয়েছেন গেম অ্যাওয়ারনেস। সালমান ক্রিজের বাইরে আছেন তা বুঝে গিয়ে চতুরতা দেখিয়েছেন। যেখানে স্পিরিট অব দ্য গেমের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধিরই প্রশংসা করতে হবে।

এমসিসির ব‌্যাখ‌্যা

‘'উভয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। নন-স্ট্রাইকার স্পষ্টভাবে মাঠের বাইরে ছিলেন এবং বল এখনও খেলার অংশ ছিল। আইন অনুযায়ী এটি আউট। নন-স্ট্রাইকার যখন বল খেলার অবস্থায় বাইরে ছিলেন এবং নিজেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন, তখন সংঘর্ষ ঘটেছে। কোনো ব্যাটসম্যানের উচিত নয় ফিল্ডিং দলের অনুমতি ছাড়া বল তুলতে চেষ্টা করা, কারণ এতে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড' আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’’

‘‘বল ডেড হওয়ার কোনো পরিস্থিতি ছিল না। নতুন ডেড-বল নিয়ম অক্টোবর থেকে কার্যকর হলেও, এখানে প্রযোজ্য নয়। সংঘর্ষের কারণে বল ডেড হয় না, কারণ তা খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষকে প্ররোচিত করতে পারে। এ ছাড়া, বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে বল পুরোপুরি স্থির ছিল না, এটি মাটিতে ছিল। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি মাটিতে স্থির থাকে, তখন আম্পায়ার এটি ফাইনালি সেটেলড ঘোষণা করতে পারবেন। কিন্তু এখানে নন- স্ট্রাইকার আউট অবস্থায় ছিল এবং নিকটতম ফিল্ডার বল ধরার চেষ্টা করছিল।'’

‘‘সালমান ভেবেছিলেন বলটি ডেড হয়ে গেছে এবং তিনি অনিচ্ছাকৃত ধাক্কার পর ফিল্ডারকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। মিরাজ চাইলে অধিনায়ক হিসেবে আপিল তুলে নিতে পারতেন, আইন অনুযায়ী সেই সুযোগ ছিল।’’

ঢাকা/ইয়াসিন 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়