ঢাকা     বুধবার   ১৮ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৫ ১৪৩২ || ২৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শেবাচিমে আগুন, অক্সিজেন সংকটে ২ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

বরিশাল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫১, ১৮ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৯:৫২, ১৮ মার্চ ২০২৬
শেবাচিমে আগুন, অক্সিজেন সংকটে ২ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনে মঙ্গলবার রাতে আগুন লাগে।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের পঞ্চম তলায় স্টোর রুমে (ফোমের গোডাউন) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় অক্সিজেন সংকট দেখা দিলে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

মারা যাওয়া রোগীরা হলেন- বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারৈয়ার হাট এলাকার আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে আবুল হোসেন হাওলাদার (৬৫)। তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অপর জন হলেন পটুয়াখালী সদরের মমিন কাজীর ছেলে আতাউর রহমান কাজী।

আরো পড়ুন:

স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে আতাউর রহমান কাজীর জন্য অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়নি।

মারা যাওয়া কাজী আতাউর রহমানের ছেলের বউ শারমিন জানান, ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকাণ্ডের সময় তার শ্বশুর কাজী আতাউর রহমান চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন। তার ইনহেলার ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয় সর্বদা। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নিচে নামানো হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কালাম জানান, তার বাবা অসুস্থ হয়ে গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ছিলেন। রাতের বেলা মা ও বোনকে বাবার কাছে রেখে বাড়িতে যান। আগুন লাগার খবরে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।

প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান জানান, প্রথমে ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনের শিখা দেখা গেলে রোগীদের নিয়ে স্বজনরা দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেন। কেউ কোলে, কেউ হুইলচেয়ারে করে অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নেন। পুরো হাসপাতালে চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আনসার সদস্য রাজিব, নাজমুল ও হাসিবুল আহত হয়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ। তিনি বলেন, “মেডিসিন ওয়ার্ডের কর্নারে একটি স্থানে অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়, তবে ওই ওয়ার্ডের মাত্র দুটি ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিল, বিধায় তাৎক্ষণিক নিরাপদে রোগীদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “পুরো ভবনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় আগুন লাগার বিষয়গুলো তাৎক্ষণিক খতিয়ে দেখা যায়নি, তদন্ত না করে এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত রেসপন্স করায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে।  কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।”

হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনটির নিচতলা ও দোতলায় কোনো ভর্তি রোগী থাকে না। মাত্র দুটি ইউনিটে আনুমানিক ১০০ জনের মতো  রোগী ভর্তি ছিল। যাদের নিরাপদে সরিয়ে পুরাতন ভবনের অন্য জায়গাতে নেওয়া হয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে একাধিক আনসার সদস্য ও আমাদের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মানিকুজ্জামান বলেন, ‍“দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়েনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে,  বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে, তবে তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আগুনে স্টোর রুমে থাকা ফোম ও পুরাতন চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।”

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।”

ঢাকা/পলাশ/মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়