চোটের ছোবলে কাঁপছে আইপিএল ২০২৬
আইপিএল মানেই তারকার মেলা, উত্তেজনা আর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ বিনোদন। কিন্তু আইপিএল ২০২৬ শুরু হওয়ার আগেই সেই জমজমাট মঞ্চে নেমে এসেছে এক ভিন্ন বাস্তবতা-চোটে জর্জর অবস্থা। দলগুলো যখন নিজেদের সেরা একাদশ সাজানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই একের পর এক তারকা ক্রিকেটারের ইনজুরি পুরো হিসাবটাই পাল্টে দিচ্ছে। কেউ পুরো মৌসুম থেকেই ছিটকে গেছেন, কেউ আবার শুরুর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে অনুপস্থিত। ফলে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অনিশ্চয়তা আর চাপ বেড়েছে বহুগুণ।
বিশ্বকাপের ধকল, টানা আন্তর্জাতিক সূচি আর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততা; সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের শরীর যেন আর চাপ নিতে পারছে না। বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে ইনজুরির হার বেশি হওয়ায় বেশ কয়েকটি দল বড় ধাক্কা খেয়েছে। এতে শুধু দলগুলোর কৌশলই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতার চিত্রও বদলে যেতে পারে। নতুন মুখের সুযোগ তৈরি হলেও, বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে আইপিএলের জৌলুসে কিছুটা প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, শুরু হওয়ার আগেই চোটের ছোবলে কাঁপছে আইপিএল ২০২৬। যেখানে প্রতিটি দলকে মাঠে নামতে হচ্ছে অর্ধেক প্রস্তুতি আর নতুন সমীকরণ নিয়ে। এবার তাই লড়াইটা শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নয়, নিজেদের সীমাবদ্ধতার সঙ্গেও।
কোন দলের কী অবস্থা? এক নজরে দেখে নেয়া যাক:
কলকাতা নাইট রাইডার্স
আকাশ দীপ – নিচের পিঠের স্ট্রেস ইনজুরি থেকে সময়মতো সেরে উঠতে না পারায় ভারতীয় এই পেসার পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন।
হার্ষিত রানা – ভারতের এই পেস বোলার হাঁটুর অস্ত্রোপচার থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকায় মৌসুমের বড় অংশ, এমনকি পুরো আসরই মিস করতে পারেন।
মাথিশা পাথিরানা – সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়া কাফ ইনজুরির কারণে তিনি এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে দলে যোগ দেবেন।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ
প্যাট কামিন্স – হায়দরাবাদের নিয়মিত অধিনায়ক পিঠের লাম্বার স্ট্রেস সমস্যার কারণে পুনর্বাসনে আছেন। টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে ফেরার আশা করা হচ্ছে। অন্তত তিন ম্যাচ মিস করবেন তিনি।
জ্যাক এডওয়ার্ডস – পায়ের ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়ার এই অলরাউন্ডার পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।
রাজস্থান রয়্যালস
স্যাম কারান – ইংল্যান্ডের এই অলরাউন্ডারও পুরো মৌসুম থেকে ছিটকে গেছেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পর্যন্ত খেলার পর তার গ্রোয়িন ইনজুরির শঙ্কা রয়েছে।
জশ হ্যাজেলউড – অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার প্রথম কয়েকটি ম্যাচে দলের সঙ্গে থাকবেন না। গত কয়েক মাস ধরেই তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস ইনজুরির কারণে তিনি অ্যাশেজের পুরো সিরিজ মিস করেছিলেন এবং এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি।
চেন্নাই সুপার কিংস
নাথান এলিস – ডোমেস্টিক ওয়ানডে কাপ ফাইনালে পুরনো হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি বাড়িয়ে ফেলায় অস্ট্রেলিয়ার এই পেসারকে ছিটকে যেতে হয়েছে।
দিল্লি ক্যাপিটালস
মিচেল স্টার্ক – মৌসুমের কোনো এক সময়ে তিনি দলে যোগ দিতে পারেন। সামনে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি থাকায় তার ওয়ার্কলোড পর্যবেক্ষণ করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
পাঞ্জাব কিংস
লোকি ফার্গুসন – পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় টুর্নামেন্টের শুরুর অংশে তিনি খেলবেন না। তবে তিনি শারীরিকভাবে ফিট আছেন। ৭ ম্যাচ পর তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা/ইয়াসিন