ঢাকা     বুধবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩৩ || ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘অভিজ্ঞতা কিনে পাওয়া যায় না, মাঠে নেমে অর্জন করতে হয়’

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৯, ১৫ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:৩৭, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
‘অভিজ্ঞতা কিনে পাওয়া যায় না, মাঠে নেমে অর্জন করতে হয়’

কে আছে, কে নেই তা নিয়ে কোনো চিন্তাই নেই নিউ জিল‌্যান্ডের। যারা আছেন, যারা এসেছেন বাংলাদেশ সফরে তাদেরকেই সেরা মনে করছেন দলটির কোচ রব ওয়াল্টার। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও পাকিস্তান সুপার লিগ নিয়ে কিউই প্রায় ডজনখানেক ক্রিকেটার ব্যস্ত।

মূল সারীর ক্রিকেটারদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে নিউ জিল‌্যান্ড ক্রিকেট দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে পাঠিয়েছে। কিন্তু এই দল নিয়েও কোচ রব ওয়াল্টার বেশ আত্মবিশ্বাসী।

আরো পড়ুন:

দলটিকে তিনি ভবিষ‌্যতের উন্নতির পথে সেতু হিসেবে দেখছেন। তরুণ, প্রতিভাবান, প্রতিশ্রুতিশীল যারাই বাংলাদেশে এসেছে তারা মানসম্মত দলের বিপক্ষে খেলবে। তাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। নিজেদের দূর্বলতা খুঁজে পাবে। সঙ্গে উন্নতির পথ খুঁজবে। পুরো প্রক্রিয়াটাকেই রব দেখছেন ইতিবাচক মানসিকতায়। যেখানে ফলাফল তার কাছে বড় মাইনে রাখছে না কথায় বোঝা গেছে।

তার ভাষ‌্য, ‘‘আমাদের জন্য সবসময়ই ইতিবাচক যে আমরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মানসম্পন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলানোর সুযোগ পাচ্ছি। আমার মনে হয় বাংলাদেশ একটি মানসম্পন্ন দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে সেটা প্রমাণ করেছে। তাই তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিদেশের মাটিতে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। অভিজ্ঞতা কিনে পাওয়া যায় না, মাঠে নেমেই তা অর্জন করতে হয়। এই দলকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কঠিন পরিস্থিতিতে ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে, নিজেদের পরীক্ষা করতে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা যেন শিখতে থাকি। আমাদের মূল লক্ষ্য শেখা এবং উন্নতি করা। ব্যক্তিগতভাবে ও দল হিসেবে।’’

‘‘আমাদের ৫৪ জন নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় খেলছে। আইপিএল, পিএসএল, এখানে এবং শ্রীলঙ্কায়। যা আমাদের চুক্তিভুক্ত খেলোয়াড়দের প্রায় অর্ধেক। এটা আমাদের জন্য বিশাল ইতিবাচক দিক। আমরা অনেক খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছি বিভিন্ন পর্যায়ে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়, শুধু একটি ছোট গ্রুপ নয়। আমরা জানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চ্যালেঞ্জিং, কারণ খেলোয়াড়রা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে থাকে। তাই আমাদের সেগুলো সামলাতে হয় এবং যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রস্তুত থাকতে হয়।’’ – যোগ করেন কোচ।

বাংলাদেশ সফরে আসা মুহাম্মাদ আব্বাস, আদিত্য আশোক, নিক কেলি, ডিন ফক্সক্রফট, জেডেন লেনক্স, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ও জশ ক্লার্কসন গত বছর নিউ জিল‌্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তাদের থেকে কোচ ভালো কিছুর প্রত‌্যাশা করছেন, ‘‘এই দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে যারা নিউ জিল্যান্ড ‘এ’ সিরিজে এখানে খেলেছে। এখানে যে ম্যাচটি হয়েছিল, সেটা ছিল চার দিনের ম্যাচ। তবে এই কন্ডিশনে আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা ভালো। সেই সিরিজটাও মে মাসে হয়েছিল, তাই সময়টাও প্রায় একই। বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগে এবং ভবিষ্যতের জন্য ভালো ভিত্তি তৈরি করে।’’

চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন তিন পেসার ম্যাট ফিশার, উইল ও’রুর্ক ও ব্লেয়ার টিকনার। দ্বিতীয়বার নিউ জিল্যান্ডের ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক ও জেইডেন লেনক্স। প্রায় দুই বছর পর সাদা বলের ক্রিকেটে ডাক পেয়েছেন অফ স্পিন অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট।

উইল ও’ রুর্ককে নিয়ে আলাদা করে কোচ বলেছেন, ‘‘উইল ও’রুর্ককে আবার মাঠে দেখতে পারাটা দারুণ। সে চোটের কারণে দীর্ঘদিন বাইরে ছিল এবং পুনর্বাসনের মধ্যে ছিল। আমরা তার গুণাবলি জানি। লম্বা, দ্রুতগতির বোলার। চোটের পর এটি তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট, তাই আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে সে নিজেই আবার দেশের হয়ে খেলতে পারবে বলে।’’

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়