আড়ালে থেকেই অবসরের সিদ্ধান্ত রুবেলের
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
ক্রিকেট ক্যারিয়ার আগেই থামিয়ে দিয়েছিলেন। নিঃশব্দে আড়ালে সরে যান রুবেল হোসেন। এমনকি তার খোঁজখবরও খুব একটা রাখেনি কেউ। নিজেকে পরিচয় দিতেন শুধু একজন ব্যবসায়ী হিসেবে। তবে আনুষ্ঠানিক বিদায়টা বাকি ছিল। অবশেষে বুধবার বাংলাদেশের হয়ে ১৫৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই পেসার সেরে ফেললেন সেই আনুষ্ঠানিকতাও।
নিজের ফেসবুকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে লিখেছেন, ‘‘আমি পেসার রুবেল হোসেন। বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছি ২৭ টেস্ট, ১০৪ ওয়ানডে এবং ২৮টি টোয়েন্টি। জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম। তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস। অনেক ভালোবাসা সবার প্রতি।’’
নানা কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট মনে রাখবে রুবেল হোসেনকে। স্লিঙ্গিং অ্যাকশনে বাড়তি গতি, সুইং নিয়ে এসেছিলেন তিনি। রবি পেসার হান্টে গতির ঝড় তুলে তার আবির্ভাব হয়েছিল। এরপর রাতারাতি পাল্টে যায় সবকিছু। শুরুতে রান আপ, বোলিং নিয়ে ঝামেলা ছিল। পরে সেগুলো শুধরে নিজেকে সঠিক পথে নিয়ে আসেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল হোসেন, সৈয়দ রাসেলদের সঙ্গে চতুর্থ পেসার হিসেবে বাংলাদেশ দলে যুক্ত হন তিনি। তার সঙ্গে আরো ছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজীব।
টেস্টে ৩৬, ওয়ানডেতে ১২৯ ও টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট পেয়েছিলেন। ২০২১ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে সবশেষ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন। সবশেষ বিপিএলে তার নাম ড্রাফটে থাকলেও তাকে কেউ নেয়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অর্জনে জড়িয়ে আছে তার নাম। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম নায়ক তিনি। ৯.৩ ওভারে ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সেদিন ইংলিশদের ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তার ক্যারিয়ার সেরা হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেটের ম্যাচটি হয়েছিল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
ক্যারিয়ারের ছোট-বড় নানা অর্জনের ফাঁকে দলকে বড় কিছুর হাতছাড়ার দুঃস্মৃতিতেও মিশে আছে তার নাম। ২০০৯ সালে মুত্তিয়া মুরালিধরণ তার এক ওভারে ২০ রান নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের দিনেশ কার্তিক তার এক ওভারে ২২ রান তুলে বাংলাদেশকে কাঁদিয়েছিল।
উল্টো চিত্রও আছে। নিউ জিল্যান্ডকে প্রথম বাংলাওয়াশ নিশ্চিত করা বোলারটাও ছিলেন তিনি। কাইল মিলসকে ইয়র্কার দিয়ে উইকেট উপচে ফেলার দৃশ্য ক্রিকেট প্রেমিদের চোখে লেগে আছে এখনো। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে যেসব ক্রিকেটারের অবদান রয়েছে, অজস্র ঘাম ঝরিয়ে চোখে চোখ রেখে প্রতিপক্ষকে সাহসিকতার বার্তা দিয়েছে তাদের অন্যতম রুবেল হোসেন। ক্যারিয়ারে আরো বেশি সাফল্য হওয়ার সুযোগ ছিল, হয়নি। সেই আক্ষেপটাই হয়তো চিরসঙ্গী হয়ে থাকবে বাগেরহাট এক্সপ্রেসের।
ঢাকা/ইয়াসিন
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প