ডার্ক হর্স সুইডেনের সামনে ভয়ংকর সুন্দর কমলারা
ক্রীড়াডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজ দুই ভিন্ন গল্পের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষা। একদিকে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বারবার কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফেরা নেদারল্যান্ডস। অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করা সুইডেন, যারা ইতোমধ্যেই পুরো বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে ফেলেছে।
গ্রুপ ‘এফ’-এর পরিস্থিতি এখন বেশ বেশ জমজমাট। প্রথম ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে দুইবার এগিয়েও জয় ধরে রাখতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। রোমাঞ্চে ভরা সেই ম্যাচ শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়। ফলে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রয়েছে কমলারা। নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা এখনো উজ্জ্বল, কিন্তু সেই পথকে সহজ করতে হলে সুইডেনের বিপক্ষে জয় দরকার তাদের।
রোনাল্ড কোম্যানের দল জানে, আরেকটি হোঁচট তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তাই মাঠে নামার আগে পরিকল্পনাও স্পষ্ট। মাঝমাঠে ফ্রেংকি ডি ইয়ং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও তিজানি রেইনডার্সের পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ম্যাচের ছন্দ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করবে তারা। আক্রমণভাগে কোডি গাকপোর দিকে থাকবে বিশেষ নজর। আর অভিজ্ঞ মেমফিস ডিপাই বেঞ্চে থাকলেও যেকোনো সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।
তবে নেদারল্যান্ডসের সামনে যে প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে আছে, তাদের আত্মবিশ্বাস এখন আকাশছোঁয়া। প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে সুইডেন। শুধু জয় নয়, সেই ম্যাচে তাদের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। ভিক্টর গিওকেরেস এবং আলেকজান্ডার ইসাকের জুটি প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে বারবার ভেঙে দিয়েছে। আর মাঝমাঠে ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোল যেন নতুন এক নায়কের আবির্ভাবের ঘোষণা দিয়েছে।
সুইডেনের জন্য সমীকরণটাও সহজ। এই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। তাই চাপের চেয়ে আত্মবিশ্বাসটাই বেশি তাদের। গ্রাহাম পটারের দল জানে, দ্রুতগতির আক্রমণ আর সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ডাচদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারবে তারা।
ইতিহাস অবশ্য নেদারল্যান্ডসের পক্ষেই কথা বলে। দুই দলের ২৫ দেখায় ১২ বার জিতেছে ডাচরা, আর হেরেছে ৮টি ম্যাচে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের একমাত্র আগের সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৭৪ সালে, যেখানে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সেই আসরে নেদারল্যান্ডস ফাইনালে উঠেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি।
আর সেই অপূর্ণতার গল্পই যেন আজও ডাচ ফুটবলের সঙ্গী। তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছুঁতে না পারা নেদারল্যান্ডস আবারও বিশ্বসেরাদের মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে চায়। অন্যদিকে ১৯৫৮ সালের রানার্সআপ সুইডেন নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে।
তাই হিউস্টনের এই লড়াইয়ে তিন পয়েন্ট ছাপিয়ে মুখোমুখি হবে দুই দলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, পরিকল্পনা এবং স্বপ্ন। একদল চাপ নিয়ে নামবে বাঁচার লড়াইয়ে, আরেকদল নামবে নিজেদের দাপট ধরে রাখার মিশনে।
ঢাকা/নাভিদ
হাম উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু