হরপ্পা সভ্যতায় নারীরা পেত বেশি সম্মান
দীপংকর গৌতম || রাইজিংবিডি.কম
হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন
দীপংকর গৌতম : ভারতবর্ষে যতগুলো সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায় হরপ্পা সেগুলোর অন্যতম। হরপ্পার অবস্থান মহেঞ্জো দারোর কাছে হলেও এর পুরোটা পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় প্রাচীন শহর হরপ্পা সে সময় খুব বড় শহর ছিল। বর্তমানে সেখানে যে গবেষণা কাজ চলছে তাতে নিত্য নতুন তথ্য আবিষ্কৃত হচ্ছে। আর এই গবেষণার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে এসেছে, হরপ্পা নারী শাসিত ছিল। বিষয়টি এখন খুব আলোচিতও হচ্ছে। এর অর্থ হলো, সে সময়ে অত্যন্ত উন্নত মানসিকতাসম্পন্ন মানুষের বসতি ছিল হরপ্পায়। আমাদের প্রাচীন বাংলার ইতিহাসেও এ তথ্য মেলে। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, বাংলার নারীতান্ত্রিক সমাজের ধারাবাহিকতা কি হরপ্পায় ছিল?
মূলত হরপ্পা এখন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি প্রত্নস্থল। এটি রাবি নদীর ধারে একটি স্থানীয় গ্রামের নামানুসারে পরিচিত। যদিও আধুনিক হরপ্পা ব্রিটিশ আমল থেকেই একটি ট্রেন স্টেশন। আসলে এটি একটি ছোট পাকিস্তানি শহরমাত্র। প্রত্নস্থলে একটি প্রাচীন ব্রোঞ্জযুগীয় দুর্গ শহরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এটি সেমেট্রি এইচ কালচার ও সিন্ধু সভ্যতার অংশ। মনে করা হয়, শহরটিতে সাড়ে ২৩ হাজার মানুষ বাস করতেন। সে সময় অনুযায়ী এটি ছিল একটি বৃহৎ শহর। যে কারণে লাহোর, করাচির ট্রেন লাইনে ইট ব্রিটিশরা এখান থেকে যোগান দিতে পেরেছিল। অন্যদিকে এলাকাটি এত বৃহৎ ছিল যে, হরপ্পার গুরুত্বপূর্ণ অংশটি পড়েছে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মধ্যে। হরপ্পা কি তাহলে হরিয়ানার পুরনো নাম? মনে এমন প্রশ্ন জাগা বিচিত্র নয়। কালের পরিক্রমায় ও গবেষণার ধারাবাহিকতায় এমন ধারণা প্রতিষ্ঠিত হতেই পারে।
ব্রিটিশ আমলে প্রাচীন হরপ্পা শহর ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই শহরের ধ্বংসাবশেষ থেকে ইট এনে লাহোর, করাচি, মুলতানের রেলপথ নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ঘটনা ব্রিটিশ বা পাকিস্তান ছাড়া অন্য কারো দ্বারা ঘটানো সম্ভব নয়। সম্প্রতি আমাদের দেশে বগুড়ার মহাস্থান গড়েও একই চিত্র দেখা গেছে। ২ হাজার বছরের পুরনো ইট দিয়ে ঘরের সিঁড়ি বানানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মহাস্থান গড়ের আশপাশে যত বাড়ি আছে অধিকাংশ বাড়ি তৈরিতে কোথাও না কোখাও মহাস্থান গড়ের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে এমনও শুনেছি যে, অনেক ভবনও নাকি মহাস্থান গড়ের ইট দিয়ে গড়া। এ ব্যাপারে সচিত্র প্রতিবেদন বহুবার প্রকাশিত হলেও আজ অবধি কোনো দৃশ্যযোগ্য ফল হয়নি।
সাম্রাজ্যবাদীরা স্বার্থহীন হবেন না এটাই স্বাভাবিক। যে কারণে তারা হরপ্পার নিদর্শন ধ্বংস করতে মরিয়া ছিল। একটা সভ্যতা কয়েক প্রজন্মের চোখ খুলে দেয়। এ অঞ্চলের মানুষ তাদে
রাইজিংবিডি.কম
সীমান্তে ৭ পাসপোর্টসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির আটক