মাশরাফি যা পারেন, ভারত তা পারে না!
বার্মিংহাম থেকে ইয়াসিন হাসান : বিষয়টিকে চাইলে খুব ছোট করে দেখা যায় হয়তো, আবার বড় করেও দেখা যায়। নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভর করছে। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের আগে নিয়ম মেনে দলের প্রতিনিধি হয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজা সংবাদ সম্মেলনে আসলেও ভারতের কেউ আসলেন না। কেন আসলেন না, সেই উত্তর নেই কারও কাছে! বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসির কাছেও নেই সেই উত্তর?
ইংল্যান্ডে আইসিসি ওয়ার্ল্ডকাপ ২০১৯ কাভার করতে ভারত থেকে যেমন অনেক সাংবাদিক এসেছেন। বাংলাদেশ থেকে সেই সংখ্যা কম নয়। ভারতীয়দের মতে, তাদের সংখ্যাটা ৬০-৭০-এ গিয়ে ঠেকেছে। বাংলাদেশের ৪৫-৫০। স্বাগতিক ইংল্যান্ড বাদে এ দুই দেশের গণমাধ্যমের সংখ্যা বেশি। ভারতের প্রতি বরাবরই আইসিসির মনোভাব বন্ধুসুলভ। কোথায়, কখন এ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ‘ফুলস্টপ’ দেওয়ার প্রয়োজন, সেটা জানা নেই দুই পক্ষের!
বিশ্বকাপে এবারই প্রথম মিক্সড জোনের ব্যবস্থা করেছে আইসিসি। ওখানে যে কোনো খেলোয়াড়কে চাইলেই পাওয়া যায়। কিন্তু ভারতীয়দের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। ভারতের প্রথম প্রস্তুতিতে কোনো ক্রিকেটারকে সংবাদ সম্মেলনে পাঠায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট, মিক্সড জোনে পাঠানোর তো প্রশ্নই ওঠে না। এজবাস্টনে তিন দিনের ব্যবধানে তাদের দুই ম্যাচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে মঙ্গলবার। ক্রিকেট অভিজ্ঞতা বলে, এমন সময় মাঝে একদিনের ফাঁকা সময়ে অনুশীলন বন্ধ রাখে দল। সেটাই হলো। সোমবার বাংলাদেশ এজবাস্টনে অনুশীলন করলেও বিরাট কোহলিরা ছিলেন বিশ্রামে। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন তো হবে।
মাশরাফির জন্য নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর সাড়ে বারোটা। মাশরাফি সময় মতো চলে এলেন। ২৯ মিনিটের প্রাণবন্ত সংবাদ সম্মেলন। দুই দেশের সাংবাদিকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় মাশরাফি। তাইতো তাকে ভারতীয় সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধাবোধ করেন না,‘আগামী ১০-১৫ বছর পর কি আপনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন?’ মাশরাফিও হেসে উত্তর দেন, ‘আপনি কি আমাকে মেরে ফেলতে চান!’ হাসির রোল পড়ে যায় এজবাস্টনের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে।
ভারত থেকে কেউ ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন আসলেন না। আগের থেকেই তা নির্ধারিত ছিল। তা জানতেন না বাংলাদেশি কোনো সাংবাদিক। ফলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভারতীয় দলের কাছে কোনো প্রশ্ন থাকলেও তা করার সুযোগ নেই। গতকাল ইংল্যান্ড ম্যাচের পর বিসিসিআই নিজেদের কাজটা করে রাখে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারকে নিয়ে আসে সংবাদ সম্মেলনে। ভারতীয় মিডিয়াকে ছয়টি প্রশ্নের সুযোগ দিয়ে সেটা জমিয়ে রাখে বাংলাদেশ ম্যাচের প্রিভিউ হিসেবে! মিডিয়া জোনে পাওয়া যায় সেসব প্রশ্নের উত্তর। যেখানে বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশ্ন মাত্র তিনটি!
ম্যাচের আগে উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলন হওয়ার রীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সেখানে ভারতীয় দলের এমন আচরণ এবং আইসিসির ‘চুপচুপ বসে থাকা’ বলে দেয় কতটা অগ্রাধিকার তারা পাচ্ছে! তাইতো আইসিসির মিডিয়া ম্যানেজার রাজ শেখর রায় বলেন, ‘গতকাল এখানেই বাঙ্গারের সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। আজ সেটা প্রকাশ করা হয়েছে।’ ভারতীয় দলের কেউ কেন আসেনি, কেন ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন নেই, সেসব উত্তর তার কাছেও নেই।
মাশরাফির ২৯ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনের অর্ধেকটা ইংরেজি, অর্ধেকটা বাংলায়। ইংরেজি প্রশ্ন ১০টি, বাংলায় ১৩টি। মাশরাফি হাসিমুখে সব প্রশ্ন সামলে নিলেও টিম ইন্ডিয়া তা পারে না! মাশরাফির সময় হলেও টিম ইন্ডিয়ার হয় না!
রাইজিংবিডি/বার্মিংহাম/১ জুলাই ২০১৯/ইয়াসিন/পরাগ
রাইজিংবিডি.কম