প্রার্থী হিসেবে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি: নুর
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে বিএনপি ও সমমনা ১২ দলের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেন, “প্রার্থী হিসেবে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি। জানি না, ভোটের দিন কেন্দ্রে কী হয়?”
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ভিডি) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, “গত দুই দিনে ঘটে যাওয়া একাধিক গুরুতর ঘটনা সম্পর্কে আমি পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি। তবে, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “এলাকায় অন্তত পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আছে— একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, একটি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া, এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা, চর বোরহান অফিস ভাঙচুর এবং মানুষকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা। এ ধরনের গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হলেও প্রশাসনের গৃহীত ব্যবস্থা সন্তোষজনক নয়।”
নুর বলেন, “একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকার চিহ্নিত চর দখলকারী, ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ মাফিয়াদের নিয়ে এই শান্তিপূর্ণ জনপদে অশান্তি সৃষ্টি করছেন এবং পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমাদের এজেন্ট ও ভোটাররা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। এসব অপকর্ম বন্ধে প্রশাসন যদি শক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি একটি দলের প্রধান ও ডাকসুর সাবেক ভিপি। আমার মতো একজন প্রার্থী যদি এমন নিরাপত্তাহীনতায় থাকি, তাহলে সারা দেশের পরিস্থিতি কেমন হতে পারে, তা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন। সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচন করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রয়োজনে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আমাদের আগামীকাল আন্দোলনে যাওয়া লাগতে পারে।”
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজও আমাদের দুজন কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। অনেক সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানায়, কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কারণ, যাওয়ার আগেই তাদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
ঢাকা/ইমরান/রফিক