ঢাকা, শনিবার, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৩, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

‘মৃত্যুর তিনদিন আগে মান্নার সঙ্গে শেষ দেখা হয়’

রাহাত সাইফুল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-১৭ ৮:০১:৩৪ এএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-১৭ ১২:৪২:৩১ পিএম
মান্না ও মাসুম বাবুল

রাহাত সাইফুল : ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্না। অভিনয় জীবনে দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পান এ অভিনেতা। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মারা যান জনপ্রিয় অভিনেতা মান্না। আজ এ অভিনেতার নবম মৃত্যুবার্ষির্কী।

চলচ্চিত্র জগতে মান্নার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন গুণী নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল। মান্না অভিনীত ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘মান্না ভাই’, ‘আজকের সমাজ’, ‘মাস্তানের উপর মাস্তান’, ‘রংবাজ বাদশা’সহ অধিকাংশ সিনেমার নৃত্য পরিচালনা করেছেন তিনি। শুটিংয়ের ফাঁকে জমিয়ে আড্ডাও দিতেন তারা। জনপ্রিয় অভিনেতাকে নিয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেন গুণী এ নৃত্য পরিচালক।

মাসুম বাবুল বলেন, ‘নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে মান্না যখন আসে তখন থেকে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। মান্না অভিনীত প্রায় একশর অধিক সিনেমার কাজ আমি করেছি। বলা চলে মান্নার ৬০ ভাগ সিনেমার কাজ আমিই করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ফিল্মকে ভালোবাসে এমন একজন মানুষ ছিল মান্না। সে মনে-প্রাণে ফিল্মকেই ভালোবাসতো। ফিল্মে যারা গুণী মানুষ তাদেরকে খুব সন্মান করতো। আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল সে। আমরা কাজের ফাঁকে সবসময়ই আড্ডা দিতাম। আমরা যখনই আড্ডা দিতাম তখনই ফিল্ম নিয়েই কথা হতো।’

মান্নার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একবার আমরা ব্যাংককে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার কাপড় নেই। এরপরে কোনোমতে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারলাম মান্না আমার কাপড় পরে বাইরে বের হয়েছে। এভাবে অনেক দুষ্টামি করতো মান্না। তার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা এমনই ছিল। মান্না ফোন করলে আমি উত্তর দিলেই পাশে থেকে যে কেউ বুঝতে পারবে আমি কার সঙ্গে কথা বলছি। আমাদের দুজনের কথাবলার ধরনটা এমন ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘মৃত্যুর তিনদিন আগে মান্নার সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। আমি এফডিসির ৩নং ফ্লোরে শুটিং করছিলাম। মান্না উত্তরায় শুটিং করছিল। ফোনে কথা হয় আমাদের। আমি ওকে বলি আমি শুটিং শেষ করে চলে আসছি। কিছুক্ষণ পরই আমি দেখলাম ও এফডিসিতে হাজির। আমি বললাম, মাত্রই তো কথা হলো আমি উত্তরায় যাব। চলে আসলি কেন? উত্তরে মান্না বললো, ‘না, শুটিং শেষ তাই ভাবলাম চলে আসি। দুজনে এখন একসঙ্গে উত্তরায় যাব।’ এটাই ছিল মান্নার সঙ্গে আমার শেষ দেখা। এমন স্মৃতি মাঝে মাঝেই আমার মনকে নাড়া দেয়। মান্নার সঙ্গে আমার এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। যা সবসময় মনে পড়ে। মান্নার মতো একজন চলচ্চিত্রবান্ধব শিল্পী আজ এফডিসিতে বড় প্রয়োজন ছিল।’



রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/রাহাত/মারুফ/ফিরোজ